Amar Sangbad
ঢাকা বুধবার, ২৫ মে, ২০২২, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯

রাশিয়া-ইউক্রেন সংকট : বিভাজনে জর্জরিত ইইউ

রায়হান আহমেদ তপাদার

রায়হান আহমেদ তপাদার

মে ১২, ২০২২, ০২:১৫ এএম


রাশিয়া-ইউক্রেন সংকট : বিভাজনে জর্জরিত ইইউ

গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে অভিযান শুরু করে রাশিয়া। রুশ আগ্রাসন ঠেকাতে পশ্চিমা দেশগুলো নানা রকম নিষেধাজ্ঞা জারি করে চলেছে। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ওপরও নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রসহ কয়েকটি দেশ। যুদ্ধ বন্ধে রাশিয়া ও ইউক্রেনের কর্মকর্তারা বেলারুশ সীমান্তে কয়েক দফায় বৈঠকে বসেন। 

তবে প্রতিবারই কোনো রকম সমঝোতা ছাড়াই বৈঠক শেষ হয়েছে। কিয়েভ বলছে, তারা আবারও বৈঠকে বসার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ জন্য দুই পক্ষই প্রস্তুতি নিচ্ছে। যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক তৎপরতা এখনো চলছে। ভারত, চীন, ইসরায়েল ও আরব বিশ্বের কয়েকজন নেতা পুতিন ও জেলেনস্কির সঙ্গে মধ্যস্থতার বিষয়ে নিজেদের আগ্রহের কথা জানিয়েছেন। 

কিন্তু রাশিয়া-ইউক্রেন সংকটের কারণে ইইউর অনেক দেশকে এমন কিছু পদক্ষেপ নিতে দেখা গেছে, যেগুলো আগে দেখা যায়নি। যেমন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নিজেদের ভূমিকার কারণে গত কয়েক দশকের অস্বস্তির পর জার্মানি তার সামরিক বাহিনীকে পুনরায় ঢেলে সাজানো শুরু করেছে।

ইউরোপীয়দের ব্যবসায়িক ক্ষতি সত্ত্বেও ইইউ রাশিয়ার ওপর ব্যাপক হারে আর্থিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। ইউক্রেনীয় আশ্রয়প্রার্থীদের ইইউ ব্লকে বসবাসের ক্ষেত্রে সাহায্যার্থে ইউরোপীয় ইউনিয়নের অস্থায়ী সুরক্ষা নির্দেশিকাটি প্রথমবারের মতো ব্যবহূত হয়েছে। 

২০১৫ সালে অভিবাসী সংকটের সময় এ বিষয়ে ব্যাপক বিভক্তি দেখা গিয়েছিল। যুদ্ধে জড়ানো কোনো দেশের জন্য এই প্রথম অস্ত্র ক্রয় ও সরবরাহ করছে বেলজিয়াম। রাশিয়ার গ্যাসের ওপর থেকে নির্ভরতা কমাতে একটি নতুন পরিকল্পনা তৈরি ও জ্বালানি শক্তি উৎপাদনের আলোচনার বিষয়টি সব সময় তালিকার নিচের দিকে রাখত ইইউ। এবার এ বিষয়ে তাদের মধ্যে ঐক্যের সুর দেখা গেছে।

পশ্চিমারা এবার জ্বালানির বিকল্প খোঁজার বিষয়ে বেশ তৎপর। ইউক্রেন যুদ্ধ রাশিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ ও পুতিনের প্রশংসায় মুখর থাকা জনতুষ্টিবাদী নেতাদের রাজনীতির ক্ষেত্রে আস্থার সংকট তৈরি করছে ইউক্রেনের ওপর পুতিনের চাপিয়ে দেয়া যুদ্ধ দেশটির জনগণের জন্য সর্বোচ্চ পর্যায়ের ট্র্যাজেডি। 

ইউরোপে এখন জ্বালানি, নিত্যপণ্য ও খাদ্যসামগ্রীর দাম ঊর্ধ্বমুখী। ১৯৭০-এর দশকের পর এই প্রথম মূল্যস্ফীতি দুই অঙ্কের ঘর ছুঁয়েছে। ২০০৮ সালের বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকটে ইউরোপীয় ইউনিয়নের লোকদের জীবনযাত্রার মান যতটা পড়ে গিয়েছিল, এবার সেটা আরও নেমে যেতে পারে।

সে সময় ইউরোপীয় নেতারা যে ভুল পদক্ষেপ নিয়েছিলেন, তাতে অনেক ভোটারই তাদের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিলেন। ইউক্রেন যুদ্ধ আবার পশ্চিম ইউরোপের ভোটারদের কাছে একটি বিষয় সামনে নিয়ে এসেছে। 

তারা এখন উপলব্ধি করতে পারছেন, তারা অনেক ভাগ্যবান। শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও মুক্ত দেশে তারা বাস করতে পারছেন। যদিও ইউরোপীয় উদারনৈতিক গণতন্ত্র ও পুঁজিবাদ নিখুঁত একটা অবস্থায় পৌঁছতে অনেক দূরে রয়েছে। ধ্বংস নয়, এগুলোর আরও সংস্কার প্রয়োজন। ইউরোপের গণতন্ত্রে গলদ থাকলেও স্বৈরতন্ত্রের সঙ্গে তার তুলনা কোনোভাবেই করা যায় না। চলমান অর্থনৈতিক সংকটের প্রতিফলন এরই মধ্যে আমরা দেখতে পাচ্ছি। ইউরোপের জন্য এটা সতর্ক সংকেত।

এ ধরনের প্রবণতা বড় পরিসরে ছড়িয়ে পড়ার আগেই ইউরোপীয় ইউনিয়নের সরকারগুলোর পক্ষ থেকে তাদের দুর্বল জনগোষ্ঠীকে অবশ্যই সহায়তা দিতে হবে। এ থেকে উত্তরণে জনকল্যাণে ব্যয় কাটছাঁট না করা, জ্বালানির বিকল্প খোঁজা এবং স্বল্প খরচের প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। 

ভালো খবরটা হচ্ছে, নীতিনির্ধারকেরা এসব বিষয় নিয়ে যে কাজ করতে শুরু করেছেন, তারা সফল হলে ইউরোপের রাজনীতিবিদ ও টেকনোক্র্যাটদের প্রতি জনগণের আস্থা ফিরে আসবে। আয় ও জীবনমান পড়ে যাওয়ায় অথবা এ ধরনের দুর্ভোগে পড়তে হতে পারে-এই ভয়ে ইউরোপীয়রা এখন সংক্ষুব্ধ হয়ে উঠছে।

জনতুষ্টিবাদীদের সমর্থন বাড়ার পেছনে এটি মূল কারণ। কিন্তু এরপরও শরণার্থীদের প্রতি সহানুভূতির নতুন একটা বোধ ইউরোপে জন্ম নিয়েছে। জেরমোঁর সমর্থন লঁ পেনের মতো হলেও তিনি ইউক্রেনের শরণার্থীদের স্বাগত জানানোর বিরোধিতা করেন। এ কারণেই নির্বাচনে তার ভরাডুবি হয়। 

অবশ্য সহিংসতা থেকে জীবন বাঁচাতে পালিয়ে আসা সব শরণার্থীই যে ইউরোপীয়দের সহানুভূতি পাচ্ছে, এমনটা নয়। আবার ইউক্রেনের শরণার্থীদের বড় পরিসরে আশ্রয় দেয়া হচ্ছে, এমনটাও নয়। শরণার্থীর স্রোত আরও বাড়বে কি-না এবং তাদের আত্তীকরণ করে নিতে কতটা মূল্য দিতে হবে, সেই প্রশ্নে দ্বিধা তৈরি হয়েছে। ইউরোপে শরণার্থীদের প্রতি সহানুভূতি যদি স্থায়ী না হয়, তাহলে পুতিনের দিক থেকে আসা হুমকি থেকেই যাবে।

এদিকে মধ্য ও পূর্ব ইউরোপের সরকারগুলোকে বিষয়টা মনে রাখতে হবে। পোল্যান্ডকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন যে নিরাপত্তা দিয়েছে, সেটা দেশটির জনতুষ্টিবাদী প্রশাসনকে মূল্যায়ন করতে হবে। তারা যে সেটা বুঝতে পারছে, সেটার নমুনাও দেখা যাচ্ছে।

হাঙ্গেরির ওরবানের সঙ্গে পোলান্ডের ন্যাটোবিরোধী যে অপ্রকাশ্য জোট ছিল, সমপ্রতি সেটা ভেঙে গেছে। বলা চলে, কয়েক বছরের অভ্যন্তরীণ বিভাজনের পর ইউরোপীয়রা আবার বাইরের শত্রুর বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। নিজেদের মূল্য প্রমাণের জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের সামনে এখন একটি সুবর্ণ সুযোগ এসেছে। প্রতিরক্ষা, জ্বালানি ও অর্থনীতির ক্ষেত্রে যে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়েছে, সম্মিলিত প্রচেষ্টার তা নিরসনের মাধ্যমে সেটা তারা করতে পারে। 

ইউরোপীয় ইউনিয়নের বৈদেশিক বিষয় ও নিরাপত্তা নীতির উচ্চ প্রতিনিধি জোসেফ বোরেল সমপ্রতি বলেছেন, পুতিনের যুদ্ধ ভূ-রাজনৈতিক ইউরোপের জন্ম দিয়েছে। তিনি ঠিক কথাই বলেছেন। এখন ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রধান উদ্দেশ্য হচ্ছে, পুতিনের রাশিয়া যে হুমকি তৈরি করেছে, তা থেকে ইউরোপকে রক্ষা করা।

ইউরোপে ব্রাসেলস এবং ঐতিহ্যবাহী রাজনীতিবিদদের প্রতি আস্থা কমে যাওয়ায় ষড়যন্ত্র তত্ত্বের বিকাশ ঘটে। ফলে জনসাধারণের মধ্যে হাঙ্গেরির ভিক্টর ওরবাস, তুরস্কের এরদোয়ান, যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প ও রাশিয়ার পুতিনের মতো ব্যক্তিদের জনপ্রিয়তা বাড়তে শুরু করে। 

এরপর ২০২০ সালে করোনা মহামারির পর সবকিছু পুনর্নির্মাণ শুরু হয়। অপ্রত্যাশিতভাবে পুনরায় দৃশ্যপটে ফিরে আসার পর ব্রাসেলস জনস্বার্থে কাজ করছে বলে মনে করা হচ্ছে। সদস্য দেশগুলোকে আরও ঐক্যবদ্ধ মনে হচ্ছে। তারা সাধারণ মানুষের মতামতে গুরুত্ব দিচ্ছে।

করোনা মোকাবিলায় ইইউ যেভাবে এক হয়েছে, একইভাবে ঐক্যবদ্ধ হয়ে রাশিয়া-ইউক্রেন সংকট মোকাবিলা করতে ইইউ নেতাদের আহ্বান জানিয়েছেন ইইউর পররাষ্ট্র নীতিবিষয়ক প্রধান জোসেপ বোরেল। ইউরোপে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ ইইউর নেতাদের আবারও একই প্রশ্নের মুখোমুখি করেছে— তারা কী করতে পারেন, কী করা উচিত বা কিসের পক্ষে দাঁড়ানো উচিত।

কিন্তু এই দুই দিনের অনানুষ্ঠানিক শীর্ষ সম্মেলন নতুনভাবে ঐক্যবদ্ধ হওয়া ইইউর ফাটল উন্মোচন করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অনেকে। সব ইইউ নেতাই ক্রমবর্ধমান জ্বালানি ব্যয় এবং রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা ও সম্ভাব্য পাল্টা নিষেধাজ্ঞার প্রভাব নিয়ে উদ্বিগ্ন। 

এ বিষয়ে নিজেদের করণীয় নিয়েও রয়েছে দ্বিমত। কেউ কেউ একটি সর্বজনীন ইইউ সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন। অর্থাৎ ব্রাসেলস থেকে নতুন তহবিল চাইছেন তারা। জার্মানি ও নেদারল্যান্ডসের মতো কয়েকটি দেশ আবার এ বিষয়ে ‘না’ বলে দিয়েছে। ইইউর এই শীর্ষ সম্মেলনের আয়োজক ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাখোঁ। বিশ্বে ক্ষমতাধর নেতাদের মধ্যে তিনি একজন। 

দীর্ঘদিন ধরে একটি শক্তিশালী, আরও স্বাধীন, খাদ্য, প্রযুক্তি এবং শক্তি আমদানি বন্ধ করে এবং ন্যাটোর সঙ্গে কাজ করার জন্য নিজস্ব প্রতিরক্ষা বাহিনী গড়ে তুলেছেন। তবে ইউক্রেনের দুর্ভোগ ও ক্ষতির দৃশ্যে ইইউর নেতাদের মধ্যে আবেগ তৈরি করছে বলেই মনে করা হচ্ছে। ইইউর সদস্যপদ পাওয়ার জন্য ইউক্রেনের আবেদন দ্রুত বাস্তবায়ন করা যায় কি-না, এ নিয়ে ইইউতে বিতর্ক চলছে। তবে সংহতির প্রতীক হিসেবে ভার্সাই প্রাসাদ সাক্ষী হবে বলে মনে করছেন কেউ কেউ।

রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাত ইউরোপের জন্য এমন এক সন্ধিক্ষণে চরম আকার ধারণ করেছে যখন ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী অভ্যন্তরীণ কেলেঙ্কারীতে জর্জরিত, ফ্রান্স আগামী এপ্রিল মাসে অনুষ্ঠেয় প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত, জার্মানির নবনির্বাচিত জোট সরকার রাশিয়ার বিরুদ্ধে ঐকমত্য গড়ে তুলতে পারেনি এবং ইউরো-জোন জ্বালানির উচ্চ মূল্যের জন্য মুদ্রাস্ফীতির বর্ধিত হারের সম্মুখীন।

পাশাপাশি ইউরোপ গত কয়েক মাস ধরে জ্বালানি সংকটের সঙ্গে ঝুকছে এবং এর ফলে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি পেয়েছে ক্রমাগত। ইউরোপের এই বিতর্কিত পরিস্থিতিতে নিরাপত্তা এবং কূটনৈতিক প্রচেষ্টার সব দায় দ্ব্যর্থহীনভাবে ওয়াশিংটনের ওপর বর্তায়। 

একই রকমভাবে একটি একত্রিত, সমন্বিত এবং সুসংহত ইইউ বহিরাগত হামলার বিরুদ্ধে সর্বোত্তম ফলাফল অর্জনে সক্ষম হবে। বিভাজনে জর্জরিত ই ইউ শুধু মাত্র ইউরোপের জন্যই উদ্বেগজনক, তা নয়। এটির ভূ-রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়াও হবে তাৎপর্যপূর্ণ।

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁ ২০১৭ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই একটি সম্মিলিত ইউরোপীয় সেনাবাহিনী গড়ে তোলার এবং ইউরোপের দেশগুলোর সামরিক খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধির জন্য ক্রমাগত আবেদন জানিয়েছেন। 

যদিও তার আবেদনে সংশ্লিষ্ট দেশগুলো বিশেষ কর্ণপাত করেনি এবং সদস্য দেশগুলোর অধিকাংশই ইউরোপীয় সেনা গড়ে তোলার পরিবর্তে নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়ে ওয়াশিংটনের ওপরই নির্ভর করা শ্রেয় বলে মনে করেছে।

এছাড়া সমন্বিতভাবে সামরিক নিরাপত্তা খাতে খরচের পরিমাণ ২০১৭ সালের ৫৫০ কোটি ইউরো থেকে ২০২০ সালে কমে দাঁড়িয়েছে ৪১০ কোটি ইউরোতে। ফলে নিজেদের অস্ত্র কেনার বাজেটের ৩৫% অন্য সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে ভাগ করে নেয়ার ২০১৭ সালের প্রতিশ্রুতি পালন করতে ব্যর্থ হয়েছে ইইউর সদস্য দেশগুলো। 

একই রকমভাবে ইউরোপের সামরিক খাতে খরচের পরিমাণ ২০০৮ সালের ৩০ হাজার ৩০০ কোটি মার্কিন ডলার থেকে ২০২০ সালে ২৯ হাজার ২০০ কোটি মার্কিন ডলারে নেমে এসেছে। সামরিক গবেষণা এবং প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগের ঘাটতি নিয়ে ইইউ সদস্য দেশগুলোকে ইউরোপিয়ান ডিফেন্স এজেন্সি (ইডিএ) সাবধান করলেও পার্মানেন্ট স্ট্রাকচারড কোঅপারেশন (পেসকো), ইউরোপিয়ান ডিফেন্স অ্যাকশন প্ল্যান এবং ইইউর সামরিক দক্ষতার গবেষণা ও প্রযুক্তি খাতে অর্থ বিনিয়োগের জন্য নতুন প্রতিরক্ষা পুঁজি গড়ে তোলার মতো উচ্চাকাঙ্ক্ষী উদ্যোগগুলোর বিশেষ অগ্রগতি হয়নি।

ইইউ এবং ব্রিটেনের মধ্যে অনৈক্য রাশিয়ার বিরুদ্ধে একটি সংঘবদ্ধ ইউরোপীয় প্রত্যুত্তরের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে এবং বিগত বছরগুলোতে এই ক্রমবর্ধমান মতপার্থক্যের মধ্যে সেতুবন্ধনের কাজে ব্রাসেলসের ব্যর্থতা-ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসী পদক্ষেপের পরিপ্রেক্ষিতে এই বিভাজনকে স্পষ্ট করে তুলেছে।