‘মুখোশপড়া গণতন্ত্রের দিকে এ দেশ আর যাবে না’

বিএনপির বর্ণচোরা ও মুখোশপড়া গণতন্ত্রের দিকে বাংলাদেশ আর ফিরে যাবে না বলে মন্তব্য করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিএনপির গণতন্ত্র হলো কারফিউ গণতন্ত্র, তাদের বহুদলীয় গণতন্ত্র বহুদলীয় তামাশা, ভোটারবিহীন গণতন্ত্র বিএনপির বাকরুদ্ধ গণতন্ত্র। বিএনপির বর্ণচোরা ও মুখোশ পরা গণতন্ত্রের দিকে বাংলাদেশ আর ফিরে যাবে না। বিএনপি এখন পথভ্রষ্ট বিশ্বাস হারানো এক রাজনৈতিক দল।  বিনপির স্বাধীনতা মানে বিচারের রাযে তাদের পক্ষে যাওয়া। 

সোমবার (৬ ডিসেম্বর) ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বিজয় দিবস ও স্বাধীনতার সুর্বণ জয়ন্তীর কর্মসূচি সফল করার লক্ষ্য যৌথসভায় তিনি এসব কথা বলেন।  

ওবায়দুল কাদের বলেন, খালেদা জিয়ার অসুস্থতা নিযে বিএনপি নামক দলটি রাজনীতির মাঠে উত্তাপ ছড়াচ্ছে। তারা বিভিন্ন অপকৌশলে আমাদের দল ও দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। খালদা জিয়ার স্বাস্থ্য নিয়ে তারা তাদের মনগড়া বক্তব্য দিচ্ছে। 

খালেদা জিয়ার কিছু হলে এর দায়-দায়িত্ব সরকারকেই নিতে হবে বিএনপি নেতাদের এমন বক্তব্যের জবাবে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, আওয়ামী লীগ নয়, এর দায়-দায়িত্ব বিএনপিকে নিতে হবে। খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য কেন্দ্র করে বিএনপি নেতারা ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করার জন্য দিবা স্বপ্ন দেখছে। তাদের স্বপ্ন একদিন দুঃস্বপ্ন হবে। তারা কখন যে কি বলছেন- তার উপর নিযন্ত্রণ রাখতে পারছে না। এমনকি বিএনপির মহাসচিবও এখন আবোলতাবোল বকছে।

খালেদা জিয়া নাকি না থাকলে আওয়ামী লীগও থাকবে না বিএনপি নেতাদের এমন বক্তব্যের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আসলে বলতে চেয়েছিলেন খালেদা জিয়ার না  থাকলে বিএনপি থাকবে না। কিন্তু তার স্লিপ অব টাং হয়ে আওয়ামী লীগের কথা বলে ফেলছেন। তার মনের কথা ছিলো- বিএনপি, কিন্তু মুখ থেকে ফসকে আওয়ামী লীগের কথা বের হয়ে গেছে। খালেদা জিয়া না থাকলে আওয়ামী লীগ কেন থাকবে না। এটা একটি হাস্যকর কথা। আসলে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর হতাশায় ভুগছেন। আওয়ামী লীগ এদেশের মাটি ও মানুষের দল, এদলের শেকড় এদেশের মাটির অনেক গভীরে। আওয়ামী লীগের ক্ষমতার উৎস বন্দুকের নল নয়, এদেশের জনগণ। যতদিন জন্মভূমি থাকবে-  সবুজের বনভূমিতে লাল সূর্যের পতাকা উড়বে, আমার সোনার বাংলা সংগীত বাজবে, যতদিন পাখিরা গান গাইবে, নদীর কলতান থাকবে, যতদিন বঙ্গবন্ধুর আদর্শের থাকবে ততদিন আওয়ামী লীগ এদেশে থাকবে। যতদিন এদেশে আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনার কীর্তি উন্নয়ন অগ্রগতি অর্জন থাকবে ততদিন আওযামীলীগ ইনশাআল্লাহ বেঁচে থাকবে। 

তথ্য প্রতিমন্ত্রী নারী বিদ্বেষমূলক যে বক্তব্য দিয়েছে এতে কি দল বা সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হয়েছে কিনা সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, এটা তার ব্যক্তিগত মন্তব্য হতে পারে। আমাদের দলের বা সরকারের কোন বক্তব্য বা মন্তব্য না। এই ধরনের বক্তব্য কেন সে দিল, অবশ্যই আমি বিষয়টি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করব।

এসময় উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী, জাহাঙ্গীর কবির নানক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দিপু মনি, মাহবুব উল আলম হানিফ, সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক, এসএম কামাল হোসেন, মির্জা আজম, আবু সাঈদ আল মাহামুদ স্বপন, আফজাল হোসেন, দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার  বিপ্লব বড়ুয়া, উপদপ্তর সম্পাদক সায়েম খান, ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ বজলুর রহমান, দক্ষিণের সভাপতি আবু আহমেদ মন্নাফি, সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবিরসহ মহানগরের নেতৃবৃন্দ। এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ সিটি করপোরেশন মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস, উত্তর সিটি করপোরেশন মেয়র আতিকুল ইসলামসহ ঢাকা ঢাকা দক্ষিণ ও উত্তর সিটির কাউন্সিলগণ।

১৬ ডিসেম্বর সারাদেশের মানুষকে শপথ পড়াবেন প্রধানমন্ত্রী 

অনুষ্ঠান শেষে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের জানান, মহান বিজয় দিবস ও স্বাধীনতার সুর্বণ জয়ন্তী এবং মুজিববর্ষ অনুষ্ঠান উপলক্ষে ১৬ ডিসেম্বর বিকেলে বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনা সারাদেশের মানুষকে শপথ পড়াবেন। 

তিনি বলেন, যারা দেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রা বিঘ্ন করে দেশের মধ্যে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চায তাদের বিরুদ্ধে আমাদের সকলকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। এজন্য বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনার হাতকে আরো শক্তিশালী করতে হবে। আজকে আওয়ামী লীগ অত্যান্ত সুসংগঠিত একটি দল। এদলকে আরো স্মার্ট,  অত্যাধুনিক, সুসংগঠিত, সুশৃঙ্খল করা আমাদের প্রয়াস অব্যাহত থাকবে। ঢাকা সিটিতে আওয়ামী লীগ বেশ তৎপর সুসংগঠিত এবং  বিভিন্ন ইউনিট সম্মেলনের মধ্য দিয়ে নেতাকর্মীদের আরো সুসংগঠিত করা হচ্ছে। 

তিনি আরও বলেন, স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী জীবনে একবারই আসে তাই এই দিনে খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং তাৎপর্যপূর্ণ। এদিন উপলক্ষে আমরা যে কর্মসূচি গ্রহণ করেছি তা ঢাকা সিটিতে মুজিববর্ষের সমাপনী অনুষ্ঠানে সুশৃঙ্খলভাবে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করতে হবে। মুজিববর্ষকে আমরা নতুনভাবে বর্ণাঢ্য আয়োজনে পালন করতে চাই। এজন্য ঢাকা সিটিতে বিভিন্ন সাজসজ্জা করা হবে, প্রতিটা এলাকায় পাড়ায় পাড়ায় গলিতে গলিতেও সাজসজ্জা করা হবে। মনে রাখতে হবে আমাদের সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ স্মৃতি আবেগের স্মৃতি, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার স্মৃতি, স্বাধীনতা ও বিজয়ের ৫০ বছরের স্মৃতি উদযাপন করবো। সকলের সম্মতি নিয়ে অনুষ্ঠান সূচি সাজানো হবে। ঢাকা শহরসহ সারাদেশে আলোকসজ্জা করা হবে। এদিন উপলক্ষে অনেকেই ব্যানার-ফেস্টুন করে কিন্তু বঙ্গবন্ধু, আমাদের নেত্রী ও সজীব ওয়াজেদ জয়ের চেয়ে কারো কারো ছবি বড় দেখা যায় এটা করা যাবে না। বঙ্গবন্ধু, শেখ হাসিনার ও সজীব ওয়াজেদ জয়ের ছবি দেয়ার পর কোনো ব্যক্তি বিশেষের ছবি দেওয়া যাবে না। সৌজন্যে নাম দেওয়া যাবে। 

ওবায়দুল কাদের বলেন- স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী ও মুজিববর্ষ সমাপনী অনুষ্ঠানের উপলক্ষে পাড়ায় পাড়ায়, মহল্লায় আলোকসজ্জা করা হবে এবং এককভাবে করা যাবে না। কর্মসূচী বিষয় বস্তুগুলো দায়িত্বপ্রাপ্ত মেয়রা-কাউন্সিলদের জানিয়ে দেবে। এছাড়া আমরা যে  দুই দিনব্যাপী কর্মসূচি নিয়েছি তাও জানিয়ে দেওয়া হবে। স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী ও মুজিববর্ষ উপলক্ষে ১৬ই ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিকেল চারটায় সারা দেশের মানুষকে শপথ পড়াবেন। এছাড়া সকালে শহীদদের স্মরণে জাতীয় স্মৃতিসৌধ ও বঙ্গবন্ধু প্রাঙ্গণে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হবে। মুজিববর্ষ বাস্তবায়ন কমিটির উদ্যোগে ১৭ তারিখে জাতীয় সংসদ প্রাঙ্গণে বিশাল অনুষ্ঠান করা হবে। সেই অনুষ্ঠানে ভারতের রাষ্ট্রপতি অতিথি হিসেবে আসবেন, এছাড়া ভুটানের রাজাও আসবেন এবং অনুষ্ঠানে তারা বক্তব্য রাখবেন। স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উপলক্ষে ১৮ তারিখে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের শিখাচিরন্তন থেকে র‌্যালি বের হয়ে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর প্রাঙ্গণে সামনে গিয়ে বিজয়ে শোভাযাত্রা শেষ হবে। বিজয় শোভাযাত্রায়,বিভিন্ন ব্যানার ফেস্টুন ও  সাজসজ্জা  থাকবে কিন্তু মানুষের ভোগান্তি যাতে না হয় সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে। এই শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণ করার জন্য সকলকে যথাসমযয়ে আসতে হবে। আপনারা চাইলে মাসব্যাপী যার যার এলাকায় প্রোগ্রামও রাখতে পারেন।

আমারসংবাদ/জেআই