Amar Sangbad
ঢাকা বুধবার, ০৬ জুলাই, ২০২২, ২২ আষাঢ় ১৪২৯

কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন

জয় পেলেও দ্বন্দ্ব কাটেনি আ.লীগে

নিজস্ব প্রতিবেদক

জুন ১৮, ২০২২, ০১:৪৪ এএম


জয় পেলেও দ্বন্দ্ব কাটেনি আ.লীগে

কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর জয় পেলেও স্বস্তিতে নেই আওয়ামী লীগ। বিএনপিবিহীন নির্বাচনে গলার কাঁটা ছিল দলটির দলীয় দ্বন্দ্ব। ভোট গণনার আগ পর্যন্ত শঙ্কা ছিল নৌকার বিজয় নিয়ে। তবে শেষ পর্যন্ত নৌকা বিজয় অর্জন করেছে মাত্র ৩৪৩ ভোটে।

জানা যায়, গত বুধবার অনুষ্ঠিত হয় কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন। ওই দিন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীন চলে ভোটগ্রহণ। মাত্র ৩৪৩ ভোটে কুমিল্লা সিটির মেয়র পদে জয়-পরাজয় নির্ধারিত হয়েছে। 

নৌকা প্রতীকের আরফানুল হক (রিফাত) পেয়েছেন ৫০ হাজার ৩১০ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী টেবিল ঘড়ি প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করা মনিরুল হক (সাক্কু) পেয়েছেন ৪৯ হাজার ৯৬৭ ভোট।

ভোটের লড়াইয়ে তৃতীয় হওয়া ঘোড়া প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ নিজামউদ্দিন পেয়েছেন ২৯ হাজার ৯৯ ভোট। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে কুমিল্লা সিটি নির্বাচন ছিল নতুন নির্বাচন কমিশনের বড় চ্যালেঞ্জ। 

মূলত আগামী দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনের আগে আর কোনো বড় নির্বাচন নেই ইসির সামনে। তাই সবগুলো রাজনৈতিক দলের চোখ ছিলে কুমিল্লায়। নতুন কমিশনের অধীনে কেমন নির্বাচন হবে? নির্বাচন কতটুকু গ্রহণযোগ্য হবে? ক্ষমতাসীনরা কতটা সুবিধা পাবে? তা নিয়ে নানা প্রশ্ন ছিল। কিন্তু ভোটগ্রহণের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সবগুলোর পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে নতুন নির্বাচন কমিশন। 

দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম নির্বাচন কোনো ধরনের সহিংসতা এবং হানাহানি ছাড়াই ভালোভাবে শেষ করেছে। ফলে সরকার, আওয়ামী লীগ ও নতুন নির্বাচন কমিশনের শান্তিপূর্ণ এই নির্বাচন আয়োজনের প্রশংসায় পঞ্চমুখ কুমিল্লার মানুষ। যদিও ভোটের মাঠে প্রার্থীদের জয়-পরাজয়ের হিসাব ছাপিয়ে মূল আলোচনায় ফলাফল ঘোষণার একেবারে   শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তা ঘিরে। পাশাপাশি ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন-ইভিএম নিয়েও ভোটারদের মধ্যে আলোচনা আছেই।  তবে নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন ক্ষমতাসীনরা।

তাদের দাবি, বর্তমান সরকার ও কমিশনের অধীনে সবগুলো নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য হবে। তবে সফলতার এমন অবস্থায় সংসদ সদস্য বাহারকাণ্ডে কিছুটা শঙ্কায় বিএনপিসহ সরকার বিরোধীরা। ফলে দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনে সুষ্ঠু ভোটগ্রহণ নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করছেন কেউ কেউ।

সূত্রে মতে, বিগত দিনে কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের সবগুলো নির্বাচনে আওয়ামী লীগের গলার কাঁটা ছিল দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল। নৌকার মনোনীত প্রার্থীর বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে বিরোধিতা করেছেন স্থানীয়  সংসদ সদস্য আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার এবং তার কর্মী-সমর্থকরা।

 দলের প্রভাবশালী নেতাদের দ্বন্দ্বে সুফল পেয়েছেন বিএনপির মনোনীত প্রার্থীরা। শেষ পর্যান্ত ভোটের মাঠেও নির্বাচিত হয়েছে। কিন্তু সদ্য সমাপ্ত সিটি নির্বাচনে দ্বন্দ্ব থেকে বেরিয়ে আসতে না পারলেও নৌকার পক্ষে কাজ করেছেন সাংসদ ও দলের প্রভাবশালীরা। তারা সরাসরি নৌকার পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন প্রচার-প্রচারণার শুরু থেকে। নির্বাচনের মাঠে কেউ কেউ কাজ না করলেও প্রকাশ্যে বিরোধিতা করেনি। 

তবে দলটির স্থানীয় রাজনীতিতে যে ভেতরে ভেতরে দ্বন্দ্ব আছেই। তা নির্বাচনে ফুটে উঠেছে। সামনে এসেছে স্থানীয় আওয়ামী লীগের রাজনীতির দুর্বলতার। এ নির্বাচনে বিএনপি যদি এককভাবে অংশগ্রহণ করত। তাহলে বিজয়ের ধারেকাছেও যেতে পারতেন না নৌকার প্রার্থী। এমনটাই মনে করছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা। 

আ.লীগ সূত্রে জানা যায়, সদ্য সমাপ্ত কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ক্ষমতাসীন আ.লীগের দলীয় প্রতীকের প্রার্থীর জয়-পরাজয়ের চ্যালেঞ্জ ছিল শুরু থেকেই। তবে সব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে দীর্ঘদিন পর সিটিতে জয় পেয়েছে দলটির দলীয় প্রার্থী।  স্থানীয় আ.লীগের দাবি, এ বিজয় নৌকার বিজয়। আ.লীগের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিজয়। এ বিজয়ের মধ্যে দিয়ে কুমিল্লা উন্নয়নের ধারা আরও বেগবান হবে। 

যদিও কেউ কেউ বলছেন, সদ্য সমাপ্ত সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে নৌকার বিজয়ের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন স্থানীয় সাংসদ ও সাংসদপন্থিরা। নির্বাচনের মাঠ জরিপ, সৃষ্ট সমস্যার সমাধান এবং নৌকার ভোটারদের কেন্দ্রমুখী করতে নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এছাড়া বিএনপির নির্বাচন বর্জন এবং বিএনপি থেকে দুজন প্রার্থী হওয়ায় নৌকার মনোনীত প্রার্থীর কপাল খুলেছে। দলটির দুজন প্রার্থী থাকায় ভোট দুই ভাগে ভাগ হয়েছে। দুই ভাবে ভাগ না হলে সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনের মাঠে নৌকার পরাজয় হতো। 

জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য আব্দুর রহমান বলেন, ‘কুমিল্লায় অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হয়েছে। কর্মী-সমর্থকরা নিজ নিজ পছন্দের প্রার্থীদের স্বাধীনভাবে ভোট দিয়েছেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সব সময় দেশ ও দেশের মানুষের ভাগ্যোন্নয়নে কাজ করে। সেই উন্নয়নের অংশ হিসেবে কুমিল্লার মানুষ নৌকায় ভোট দিয়েছে এবং নৌকার বিজয় নিশ্চিত করেছে।’