Amar Sangbad
ঢাকা শুক্রবার, ১২ আগস্ট, ২০২২, ২৮ শ্রাবণ ১৪২৯

স্মরণ সভায় বক্তারা 

বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়নে আমৃত্যু সংগ্রাম করেছেন মোহাম্মদ নাসিম 

নিজস্ব প্রতিবেদক

জুলাই ৬, ২০২২, ০৬:৫১ পিএম


বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়নে আমৃত্যু সংগ্রাম করেছেন মোহাম্মদ নাসিম 

আওয়ামী লীগের সাবেক প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী প্রয়াত নেতা মোহাম্মদ নাসিম যে ভাবে তার সততা, আদর্শ, শ্রম ও মেধা দিয়ে আমৃত্যু দেশ ও দেশের মানুষের ভাগ্যন্নয়নে কাজ করে গেছেন। নিজ কর্ম গুণ তিনি দেশ ও দেশের মানুষের মাঝে যুগ যুগ বেঁচে থাকবেন। বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখায় বাংলাদেশের রাজনীতিতেও উজ্জল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবেন তিনি। বুধবার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ ডাঃ মিলন হলরুমে প্রয়াত মোহাম্মদ নাসিমের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে স্মরণ সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। 

তারা বলেন, ৭৫’এ ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সপরিবারে হত্যার পর গণতান্ত্রিক আন্দোলনে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি। ছিলেন আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনার বিশ্বস্ত হাতিয়ার। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গঠনে আমৃত্যু সংগ্রাম করেছে গেছেন। দেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় রেখেছেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। দল কিংবা সরকার দায়িত্বপালন করেছেন সমান তালে।   

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য আব্দুর রহমান বলেন, আমার এখনো বিশ্বাস হয় না, মোহাম্মদ নাসিম মারা গেছেন। তিনি আওয়ামী লীগের লক্ষ লক্ষ নেতাকর্মীদের মাঝে বেঁচে আছেন এবং থাকবেন।  

মোহাম্মদ নাসিম আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার বিশ্বস্ত হাতিয়ার ছিলেন উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, মোহাম্মদ নাসিমের উপর সব সময় আস্থা ও বিশ্বাস রাখতেন বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা। দলের পাশাপাশি সরকার ও ১৪ দলের দায়িত্ব দিয়েছিলেন তাকে। আমাদের নেত্রী যখনই কোনো সংঙ্কটে পড়তেন, তখনই মোহাম্মদ নাসিমের উপর আস্থা রাখতেন। 

আব্দুর রহমান আরো বলেন, মোহাম্মদ নাসিম দায়িত্ব নেয়ার পর সুসংগঠিক এবং ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল ১৪ দল। ১৪ দলের কোনো নেতাই কখনও তার উপর অভিমান করতে পারেনি। বরং কারো মনে কোনো কষ্ট থাকলে, তা সুন্দর ভাবে সমাধান দিতেন তিনি। মোহাম্মদ নাসিমের এটাই ছিল বড় গুণ। নিজের ব্যক্তিগত জীবনের কথা স্বরণ করে আব্দুর রহমান বলেন, তিনিতো আমার বড় ভাই ছিলেন। তার সৃতিচারণে আমাকে ডেকেছেন এরচেয়ে বড় আনন্দোর, এরচেয়ে বড় গৌরবের আমার আর কিছু হতে পারে না।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডাঃ মোঃ শারফুদ্দিন আহমেদ বলেন, দেশ ও দেশের মানুষের ভাগ্যন্নয়নের জন্য মোহাম্মদ নাসিম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে গেছেন। যখন যে মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন। সফলতার সাথে সেই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেছেন। তার পরিশ্রমের সুফল এখন দেশের মানুষ পাচ্ছে। দেশে কমিনিউটি ক্লিনিক বাস্তবায়নে মোহাম্মদ নাসিমের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, মোহাম্মদ নাসিমের হাত ধরেই স্বাস্থ্য খাত ঘুরে দাড়িয়েছিল।

মুখ্য আলোচক হিসেবে সিরাজগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য প্রকৌশলী তানভীর শাকিল জয় পিতা মোহাম্মদ নাসিমের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বলেন, পিতার মৃত্যুর পর ছেলে হিসেবে বাবাকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করা অনেক কষ্টের। আমার পিতা মোহাম্মদ নাসিম ছিলেন জনগণের নেতা। নিজের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, মেধা ও শ্রম দিয়ে স্থান করে নিয়েছিলেন প্রতিটি মানুষের মনের মনি কোঠায়। সারাদেশের মানুষ মোহাম্মদ নাসিমকে এক নামে চিনতেন এবং জানতেন। একজন রাজনৈতিক নেতা হিসেবে মোহাম্মদ নাসিম শতভাগ সফল। তিনি আরও বলেন, আমার পিতা ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শের সৈনিক। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়নে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত কাজ করে গেছেন। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এবং এ দেশের জনগণ ছিলেন তার  পরিবার। তার কাছে কেউ কোনো কাজে আসলে তিনি কখনই তাকে ফিরিয়ে দিতেন না।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডাঃ মোঃ শারফুদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য আব্দুর রহমান। মুখ্য আলোচক ছিলেন সিরাজগঞ্জ-১ (কাজীপুর) আসনের সংসদ সদস্য প্রকৌশলী তানভীর শাকিল জয়। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ মেডিক্যাল এসোসিয়েশনের সভাপতি ডাঃ মোঃ মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডাঃ মোঃ জাহিদ হোসেন, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) অধ্যাপক ডাঃ এ কে এম মোশাররফ হোসেন, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ডাঃ ছয়েফ উদ্দিন আহমদ, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডাঃ মোহাম্মদ আতিকুর রহমান, ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ডাঃ স্বপন কুমার তপাদার, প্রক্টর অধ্যাপক ডাঃ মোঃ হাবিবুর রহমান, পরিচালক (সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল) ব্রিগেঃ জেনাঃ অধ্যাপক ডাঃ আব্দুল্লাহ আল হারুন, সহকারী পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান জুয়েল প্রমুখ।

ইএফ