ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Amar Sangbad

ইনস্টাগ্রাম

Amar Sangbad

এক্স

Amar Sangbad


লিংকডইন

Amar Sangbad

পিন্টারেস্ট

Amar Sangbad

গুগল নিউজ

Amar Sangbad


হোয়াটস অ্যাপ

Amar Sangbad

টেলিগ্রাম

Amar Sangbad

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Amar Sangbad


ফিড

Amar Sangbad

ঢাকা মঙ্গলবার, ০৯ জুন, ২০২৬

যে কারণে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত থেকে সরে দাঁড়ালেন শেখ হাসিনা

আমার সংবাদ ডেস্ক

আমার সংবাদ ডেস্ক

জুন ৯, ২০২৬, ০২:৪৩ পিএম

যে কারণে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত থেকে সরে দাঁড়ালেন শেখ হাসিনা

ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে ভারতের নয়াদিল্লিতে অবস্থান করছেন বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনা। সেখান থেকেই পশ্চিমবঙ্গের কলকাতাভিত্তিক প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ‘এই সময়’-কে এক দীর্ঘ ও এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকার দিয়েছেন তিনি। গণভবন ছেড়ে যাওয়া, নাটকীয় পদত্যাগ থেকে শুরু করে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মূল্যায়ন এবং নিজের ও দলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেছেন মুজিব-কন্যা।

মঙ্গলবার সেই চাঞ্চল্যকর সাক্ষাৎকারের প্রথম পর্ব প্রকাশ করেছে সংবাদমাধ্যমটি। ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারতে রাজনৈতিক আশ্রয় নেওয়ার পরপরই রাজনীতি থেকে চিরতরে অবসরের কথাই একটা সময়ে গুরুত্ব দিয়ে ভেবেছিলেন শেখ হাসিনা। তবে এখন সেই পূর্বের ভাবনা সম্পূর্ণ খারিজ করে দিয়েছেন তিনি। দেশের ‘বর্তমান বিশেষ পরিস্থিতি’ বিবেচনা করে অবসরের চিন্তা মাথা থেকে সরিয়ে রেখে ‘নিজের দেশের মানুষের পাশে থাকার’ চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নিয়েছেন আওয়ামী লীগের এই দীর্ঘকালীন সভানেত্রী।

তিনি বলেন, দেশের সাধারণ জনগণ ইতিমধ্যে বুঝতে পেরেছেন আওয়ামী লীগই তাদের একমাত্র নিরাপদ আশ্রয়। এই জনগণের শক্তিতে বলীয়ান হয়েই তিনি আবার দেশে ফিরবেন। গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার গর্ব নিয়ে এবং দেশ পুনর্গঠনের দৃঢ় প্রত্যয় নিয়েই তিনি বাংলাদেশের মাটিতে পা রাখবেন।

একান্ত সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা বলেন, আমার বাবা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আমাকে মানুষের দুঃসময়ে তাদের পাশে থাকার শিক্ষা দিয়েছেন। ১৯৮১ সালে আমি যখন সব হারিয়ে দেশে ফিরেছিলাম, তখন আওয়ামী লীগের তৃণমূলের কর্মীরাই ছিলেন আমার একমাত্র পরিবার। আজ সেই নেতাকর্মীরা দেশজুড়ে নির্যাতিত, আমার দেশের জনগণের জীবন আজ বিপর্যস্ত। এমতাবস্থায় আমি কীভাবে তাদের এভাবে ফেলে বিশ্রামে বা অবসরে যাই?

এর আগে শেখ হাসিনার রাজনীতি থেকে ‘অবসরে’ যাওয়ার জল্পনাটি মূলত তাঁর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের একটি আন্তর্জাতিক বক্তব্যের ভিত্তিতে জোরালো হয়েছিল। সেই সূত্র ধরেই সাক্ষাৎকারে তাঁকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, আপনি দিল্লি আসার পর আপনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় জানিয়েছিলেন, আপনি রাজনীতি থেকে অবসর নিতে চান। আপনি কি এখনও সেই সিদ্ধান্তে অনড়? সে ক্ষেত্রে দল ও দেশের নেতৃত্ব আপনি কার বা কাদের হাতে ছেড়ে যেতে চান?

বিস্তারিত লিখিত উত্তরে আওয়ামী সভানেত্রী শেখ হাসিনা জানান, জয়ের সেই বক্তব্যটি তাঁর দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত অনুভূতির সঙ্গে সম্পর্কিত ছিল। মানুষ সারাজীবন একই দায়িত্ব বা পদে থাকে না। তিনিও বহুবার বলেছেন নতুন নেতৃত্ব আসুক এবং তরুণরা দায়িত্ব নিক। আওয়ামী লীগের বিগত দুটি কাউন্সিলেও তিনি নতুন নেতৃত্বের কথা জোর দিয়ে বলেছিলেন এবং ব্যক্তিগতভাবে তাঁর নিজের আর কিছুই পাওয়ার নেই।

তাহলে হঠাৎ এই ভাবনার বদল কেন, এমন প্রশ্নের জবাবে বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজ বাংলাদেশের সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক নয় এবং গণতন্ত্র মারাত্মকভাবে আক্রান্ত। আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ করার জন্য নতুন আইন করা হয়েছে। আমার লাখো নেতাকর্মী আজ কারাগারে, অনেকে ঘরছাড়া এবং সংখ্যালঘুরা চরম আতঙ্কে রয়েছেন। নিরীহ শিশুরা স্বাস্থ্যসেবা ও টিকার অভাবে মারা যাচ্ছে, নারীরা নির্যাতন ও ধর্ষণের শিকার হচ্ছে। দেশের মুক্তিসংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃত করা হচ্ছে এবং রাষ্ট্রকে ১৯৭১ সালের মূল পথ থেকে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে। এমন একটা সংকটময় সময়ে আমি কীভাবে বলি, আমি বিশ্রামে বা অবসরে যাচ্ছি?

সাক্ষাৎকারে মুজিব–কন্যা আরও যোগ করেন, তিনি কোনো ক্ষমতা চান না, কিন্তু দেশের জনগণের প্রতি তাঁর যে দায়িত্ব রয়েছে তা কোনোভাবেই অস্বীকার করতে পারেন না।

শেখ হাসিনার স্পষ্ট ঘোষণা, বাংলাদেশের জনগণের পূর্ণ নিরাপত্তা, তাদের উন্নত জীবনমান ও অর্থনৈতিক মুক্তি, দেশে গণতন্ত্র ও আইনের শাসন ফিরিয়ে আনা, সকলের সমানাধিকার এবং আওয়ামী লীগের তরুণ প্রজন্মের নেতৃত্ব নির্বাচনের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও আগামী দিনের সাফল্য নিশ্চিত করে, ঠিক তার পরেই তিনি রাজনীতি থেকে অবসর নেবেন।

পরবর্তী নেতৃত্ব সে ক্ষেত্রে কার হাতে যাবে, এমন প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, নেতৃত্ব কার হাতে যাবে, সেটি কোনো ব্যক্তিগত বা পারিবারিক উত্তরাধিকার নয়। আওয়ামী লীগ কারও পারিবারিক সম্পত্তি নয়, এটি একটি শতভাগ গণতান্ত্রিক দল। কাউন্সিলের বা সম্মেলনের মাধ্যমে, মাঠপর্যায়ের কর্মীদের মতামতের ভিত্তিতে এবং যোগ্যতা, ত্যাগ, সাহস ও আদর্শিক দৃঢ়তার নিরিখেই পরবর্তী নেতৃত্ব নির্বাচিত হবে।

আওয়ামী লীগের সভানেত্রীকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে আওয়ামী লীগের শীর্ষ পদাধিকারীদের পরিবর্তন করে নতুনদের দায়িত্ব বণ্টনের কথা দলের ভেতর থেকেই অনেকে বলছেন। অসুস্থ ও অশক্ত নেতাদের সরিয়ে তরুণদের নেতৃত্বে দলকে সংগঠিত করার কোনো পরিকল্পনা কি আপনি রূপায়ণ করতে চলেছেন? সেটা কেমন হতে পারে?

জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, দলীয় পুনর্গঠন ও নেতৃত্বের পরিবর্তন একটি স্বাভাবিক এবং অপরিহার্য প্রক্রিয়া। আমরা এই মুহূর্তে একটা প্রাকৃতিক শুদ্ধকরণের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। যারা প্রকৃত আদর্শের জন্য এই দলে ছিলেন, তারা আজকের এই চরম দুর্দিনে আরও দৃঢ়ভাবে দলের পাশে আছেন। আর যারা শুধু ব্যক্তিগত সুবিধা ও ক্ষমতার আশায় দলে এসেছিলেন, তারা ইতোমধ্যে ভোল পাল্টে ফেলেছেন বা আত্মগোপনে গিয়ে চুপ করে গিয়েছেন। এই শুদ্ধকরণ দলকে দুর্বল করেনি, বরং আরও খাঁটি করেছে।

তিনি ব্যাখ্যা করে বলেন, নেতৃত্ব কোনো অলঙ্কার নয়, এটি একটি পবিত্র দায়িত্ব। যারা এই কঠিন সময়ে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না, যারা কর্মীদের পাশে দাঁড়াতে পারবেন না এবং সংগঠনকে ধরে রাখতে পারবেন না, তাদের বিষয়ে দলীয় কাঠামোর মধ্যেই কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। আবার এটাও মনে রাখতে হবে, আমাদের অনেক প্রবীণ নেতা সারা জীবন দলকে দিয়েছেন, জেল খেটেছেন ও নির্যাতন সহ্য করেছেন, তাদের অবদান কখনও অস্বীকার করা যাবে না। তাদের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা দলের বড় সম্পদ।

আপাতত শীর্ষ নেতৃত্বে বড়সড় বদলের সম্ভাবনা নেই ইঙ্গিত দিয়ে আওয়ামী লীগের সভানেত্রী বলেন, দেশে আগে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরিয়ে এনে নতুন কাউন্সিলের মাধ্যমে দলকে সুসংগঠিত করা হবে। নতুন প্রজন্মের মেধাবী, দেশপ্রেমিক ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী তরুণদের নেতৃত্বে নিয়ে আসা হবে এবং সেই পরিকল্পনা ইতোমধ্যেই করা হয়েছে।

তাঁর ভাষ্যমতে, তরুণ নেতৃত্বের বিষয়ে তিনি সর্বদাই উৎসাহী। আমাদের অনেক তরুণ নেতা আজ নিজ নিজ অবস্থান থেকে রাষ্ট্রযন্ত্রের সকল জুলুম-অত্যাচার-নির্যাতন মোকাবিলা করে অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে আওয়ামী লীগের পতাকা ধরে রেখেছেন এবং এরাই দলের ভবিষ্যৎ।

শেখ হাসিনাকে শেষ প্রশ্ন করা হয়, আপনি সম্প্রতি ঘোষণা করেছেন, মাথা উঁচু করে খুব দ্রুত আপনি বাংলাদেশের মাটিতে ফিরবেন। বর্তমান প্রতিকূল পরিস্থিতিতে বাংলাদেশে আপনার ও আওয়ামী লীগের অন্য নেতাকর্মীদের প্রত্যাবর্তন ও রাজনীতি শুরু করাটা কতটা বাস্তবসম্মত?

জবাবে তিনি বলেন, অতীতের পাকিস্তানি শাসকরা পারেনি, সামরিক শাসকেরা পারেনি, খুনিরা পারেনি, ষড়যন্ত্রকারীরাও পারেনি; বর্তমানের এই বিএনপি সরকারও আওয়ামী লীগকে এ দেশের মাটি থেকে মুছে ফেলতে পারবে না। আমার প্রত্যাবর্তন শুধু কোনো ব্যক্তিগত বিষয় নয়, এটি মূলত বাংলাদেশের হারানো গণতান্ত্রিক অধিকার পুনরুদ্ধারের আন্দোলনের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।

তিনি আরও দৃঢ়তার সাথে বলেন, দেশের সাধারণ জনগণ ইতিমধ্যে বুঝতে পেরেছেন আওয়ামী লীগই তাদের একমাত্র নিরাপদ আশ্রয়। এই জনগণের শক্তিতে বলীয়ান হয়েই তিনি আবার দেশে ফিরবেন। গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার গর্ব নিয়ে এবং দেশ পুনর্গঠনের দৃঢ় প্রত্যয় নিয়েই তিনি বাংলাদেশের মাটিতে পা রাখবেন।

এএন

Link copied!