নারী শ্রমিকদের মজুরিবৈষম্য প্রয়োজন সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টি

বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম চলছে যুগ যুগ ধরে। সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে নারী-পুরুষের বৈষম্য অনেকটা দূর করা গেলেও নারী শ্রমিকরা এখনো মজুরিবৈষম্যের শিকার। এর ফলে নারী ও পুরুষ শ্রমিকদের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি হয়েছে। নারী শ্রমিকরা পুরুষ শ্রমিকদের পাশাপাশি কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করেন। টেকসই কৃষিব্যবস্থায় নারীর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ বলেই বিবেচিত হয়। বাংলাদেশে কৃষি খাতের সাফল্যের পেছনেও নারীদের বিশাল অবদান রয়েছে। 

২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত নারী-পুরুষের মজুরির হার অনুযায়ী নারীদের মজুরি নিয়ে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো ‘কৃষিতে মজুরির হার’ শীর্ষক যে জরিপ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, তাতে উঠে এসেছে নারীদের মজুরিবৈষম্যের চিত্র। অথচ নারী কিংবা পুরুষ উভয়ের ক্ষেত্রেই কর্মঘণ্টা কিংবা কাজ একই; কিন্তু মজুরি মিলছে দুই রকম। শুধু নারী হওয়ায় পুরুষের চেয়ে কৃষিকাজে কম মজুরি মিলছে তাদের। এটি মেনে নিয়েই জীবিকার তাগিদে কাজ করছেন নারী কৃষিশ্রমিকরা।

 ২০১৮ সালের শ্রমশক্তি জরিপ অনুযায়ী দেশের ৭১.৫ শতাংশ নারী কৃষিকাজে নিয়োজিত। নারী কৃষিশ্রমিকের সংখ্যা কোটি ছাড়িয়েছে। কৃষিকাজে জড়িত নারীদের প্রায় অর্ধেক ৪৫.৬ শতাংশ নারী বিনামূল্যে শ্রম দেন। সরকারের কৃষি তথ্য সার্ভিসের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী কৃষিতে নারীরা যে শ্রম দেন, তার ৪৫.৬ শতাংশের ক্ষেত্রে তারা কোনো পারিশ্রমিক পান না। আর বাকি ৫৪.৪ শতাংশের ক্ষেত্রে তারা যে পারিশ্রমিক পান, তা বাজারমূল্যের চেয়ে কম। কৃষিপণ্য বাজারজাতের আগে প্রক্রিয়াকরণের যে ২২টি ধাপ রয়েছে, তার প্রায় ১৭ ধাপে নারীর অংশগ্রহণ রয়েছে।

এটি স্পষ্ট যে, নারীর মজুরিবৈষম্য দূর করতে হলে সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষকে সচেতন হতে হবে। সমমজুরি সম্পর্কিত যেসব আইন কাগজে-কলমে রয়েছে, সেগুলো মাঠ পর্যায়ে যেন যথাযথভাবে প্রয়োগ করা হয়— সেদিকে দৃষ্টি দিতে হবে। আমাদের দেশের নারীদের শুধু কৃষি নয়, বরং দেশের আপামর অর্থনৈতিক খাতেই তাদের অনবদ্য অবদান রয়েছে। নারীরা এখন সব ক্ষেত্রে এগিয়ে যাচ্ছেন। তাই যে কোনো মূল্যে তাদের মজুরিবৈষম্য দূর করতে হবে।

একজন নারী শ্রমিক পুরুষ শ্রমিকের মতোই সমান তালে কাজ করতে পারছেন। তাই সমাজের সাধারণ মানুষের মধ্যে নারী শ্রমিককে দুর্বল ভেবে কম মজুরি দেয়ার যে প্রবণতা রয়েছে, তা দূর করতে হবে। এজন্য প্রয়োজন সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টি। কাজেই সরকার সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে— এটাই প্রত্যাশা।