সম্মাননায় ভূষিত তারিক সারা

‘থিয়েটার’-এর আয়োজনে ‘মুনীর চৌধুরী’ সম্মাননায় ভূষিত হলেন গুণী অভিনেতা তারিক আনাম খান ও সারা যাকের। গত ২৭ নভেম্বর রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার এক্সপেরিমেন্টাল থিয়েটার হলে তাদের হাতে এই সম্মাননা তুলে দেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা এবং ‘থিয়েটার’ সভাপতি ফেরদৌসী মজমুদার। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ‘থিয়েটার’ পরিচালক (সাংগঠনিক) রামেন্দু মজুমদার। ‘মুনীর চৌধুরী’ সম্মাননার নাম ঘোষণা করেন ফেরদৌসী মজুমদার। 

তিনি বলেন, ‘তারিক আনাম খান ও সারা যাকের আমাদের অত্যন্ত প্রিয় দুজন শিল্পী। তারা মুনীর চৌধুরীর সম্মাননায় ভূষিত হচ্ছেন, আর তাদের নাম ঘোষণা করতে পেরেও আমি গর্ব বোধ করছি।’ শুরুতেই ২০২০ সালের জন্য ‘মুনীর চৌধুরী’ সম্মাননা তুলে দেয়া হয় সারা যাকেরের হাতে। 

তিনি তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ‘যারা আমার সঙ্গে একই মঞ্চে সম্মাননা পেলেন, তাদেরকেও আমার পক্ষ থেকে অভিনন্দন, ভালোবাসা। আজকের দিনটি আমার জন্য ভীষণ আনন্দের এবং একইসাথে কষ্টেরও। কারণ গত বছর যে দিনটিতে এই সম্মাননার কথা ঘোষণা করা হলো, তার পরদিনই আলী যাকের আমাদের ছেড়ে চলে গেলেন। 

সত্যি বলতে কী, মুনীর চৌধুরী সম্মাননাটা আমরা যারা নাট্যাঙ্গনে কাজ করি, তাদের কাছে অনেক সম্মানের এবং এর প্রাপ্তিটা নিঃসন্দেহে অনেক গৌরবের। জাতীয় পর্যায়ের পদকের চেয়ে মুনীর চৌধুরীর সম্মাননা কোনো অংশেই কম নয়। তাই এ সম্মাননা প্রাপ্তিতে আমি সত্যিই ভীষণ গর্বিত এবং আনন্দিত। ধন্যবাদ থিয়েটারের সবাইকে।’ 

এর পরপরই তারিক আনাম খান বলেন, ‘আমার জন্য আজকের দিনটি ভীষণ আবেগের। মুনীর চৌধুরী সম্মাননা পদক যখন প্রথম দেয়া হয়, তখন আমরা বেশ উৎসাহ নিয়ে মুনীর চৌধুরীর সম্মাননা পদক দিয়েছিলাম। আমরা কখনো স্বার্থের লড়াইয়ে দল ভাঙিনি, কোনোরকম নিজেদের মতো একটি দল গড়ে কাজ করার আগ্রহটাই ছিলো মূল কারণ।’

যার নামে এই পদক আমি পেলাম, আমি মনে করি শ্রদ্ধেয় মুনীর চৌধুরীর নাটক বা তার কাজকর্ম নিয়ে বাংলা মঞ্চে অনেক কম কাজ হয়েছে। তিনি কতো আধুনিক একজন নাট্যকার ছিলেন। আজ সেই সময় এসেছে তার নাটককে বারবার মঞ্চে আনার। আমি সত্যিই গর্বিত এই সম্মাননা প্রাপ্তিতে।’ একইমঞ্চে মোহাম্মদ জাকারিয়া পদকে ভূষিত হন সম্বিত সাহা এবং জ্যোতি সিন্হা। মুনীর চৌধুরী সম্মাননা প্রাপ্তদের ৫০ হাজার এবং মোহাম্মদ জাকারিয়া সম্মাননা প্রাপ্তদের ২৫ হাজার টাকা অর্থমূল্য তুলে দেয়া হয়। বাংলাদেশের নাট্যচর্চায় আধুনিক চেতনা সঞ্চারে অগ্রণী পুরুষ মুনীর চৌধুরী এবং বাংলা নাটকের ইতিহাসে এক অনন্য সাধারণ নাট্যব্যক্তিত্ব মোহাম্মদ জাকারিয়া।