নান্দাইলে ইউপি মেম্বারের নামে মিথ্যা মামলা

ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার ১৩নং চরবেতাগৈর ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত মেম্বার ও আওয়ামী পরিবারের সদস্য মোঃ বাদল হোসাইনের নামে একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। একই ইউনিয়নের চরভেলামারী আশ্রয়ন প্রকল্পের স্বামী মৃত আবুল কাশেমের স্ত্রী মনোয়ারা গত ৬ মে অনধিকার প্রবেশ করিয়া মারধর করত সাধারণ জখম, শ্বাসরোধ করিয়া হত্যার চেষ্টা, শ্লীলতাহানি ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ এনে নান্দাইল মডেল থানায় ৪৪৭/৩২৩/৩০৭/৩৫৪/৫০৬/(২) পেনাল কোর্ড মোতাবেক একটি মামলাটি দায়ের করেন। 

এলাকার একটি কুচক্রী মহলের প্ররোচনায় গত ৬ মে উক্ত মহিলা মামলাটি দায়ের করেন। একজন নির্বাচিত ইউপি সদস্যের নামে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যমূলক এই মামলার ঘটনায় এলাকার জনমনে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে এবং এলাকাবাসী উক্ত মামলা থেকে ইউপি সদস্যকে অতি জরুরি অব্যাহতি প্রদানের জন্য ও কোন প্রকার পুলিশি হয়রানি না করার জন্য নান্দাইল মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তাকে অনুরোধ জানিয়েছেন। 

অনুসন্ধানে জানা গেছে, চরভেলামারী গ্রামে প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার উপহার ভূমিহীনদের জন্য ঘর প্রকল্পে উক্ত মহিলা মনোয়ারা ৭নং ঘরের বরাদ্দ পান। মনোয়ারা ৭নং ঘরে না উঠে খোকন মিয়ার জন্য বরাদ্দকৃত ২নং ঘরে জোরপূর্বক উঠে পড়ে। এতে করে ২নং ঘরের বরাদ্দ প্রাপ্ত মোঃ খোকন মিয়া তাকে বাধা দেয় এবং ঘরে তালা লাগায়। ২নং ঘরে উঠতে না পেরে উক্ত মহিলা স্থানীয় ইউপি মেম্বার বাদল হোসাইনের প্রতি চরমভাবে ক্ষিপ্ত হয়। ঘরে তালা লাগানো প্রসঙ্গে একটি পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হলে ১ মে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে নান্দাইল উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মাহফুজুল হক অন্যান্য কর্মকর্তাদের সাথে নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ইউপি চেয়ারম্যান সহ এলাকাবাসীকে নিয়ে বিষয়টি ফয়সালা করেন এবং মনোয়ারা বেগমের দাবির প্রেক্ষিতে পুনরায় লটারী প্রদান করলে উক্ত মনোয়ারা ১০নং ঘরের বরাদ্দ পান। 
মনোয়ারা তার ইচ্ছামত ২নং ঘর না পাওয়ার ক্ষোভে গত ৬ই মে একটি কুচক্রী মহলের প্ররোচনায় ও ইন্দনে আওয়ামী পরিবারের সদস্য ইউপি মেম্বার বাদল হোসাইনের নামে নান্দাইল মডেল থানায় উক্ত মিথ্যা মামলাটি দায়ের করেন। 

এ বিষয়ে বাদল হোসাইন বলেন, উক্ত মহিলার দায়েরকৃত মামলাটি সম্পূর্ণ মিথ্যা বানোয়াট। তিনি উর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তার মাধ্যমে মামলাটি তদন্তমূলে এই মিথ্যা মামলা থেকে তাকে অব্যাহতি প্রদানের জোর দাবি জানিয়েছেন। 

নান্দাইল মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ মিজানুর রহমান আকন্দ জানান, উক্ত মহিলার লিখিত আবেদনের প্রেক্ষিতে মামলাটি নেওয়া হয়েছে। মামলার তদন্তকালে মিথ্যা প্রমাণিত হলে চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রদান করা হবে। 

নান্দাইল উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. এরশাদ উদ্দিন জানান, উক্ত ঘটনার একটি যথাযথ ও সঠিক প্রতিবেদন জেলা প্রশাসক মহোদয়ের বরাবরে ৪ঠা মে /২০২১ প্রেরন করা হয়েছে। 

উল্লেখ্য, উক্ত মহিলা মনোয়ারা এখনও জোরপূর্বক ভাবে প্রশাসনের সিদ্ধান্তকে অমান্য করে ২নং ঘরে জবরদখল করে অবস্থান করছেন।

আমারসংবাদ/কেএস