সিলেট ৩ আসনে কে হচ্ছেন মাহমুদ উস সামাদের উত্তরসূরি

আসন্ন উপ-নির্বাচন সামনে রেখে সরগরম সিলেট ৩ আসন। ফেঞ্চুগঞ্জ, দক্ষিণ সুরমা ও বালাগঞ্জ নিয়ে গঠিত এই আসন।

মাহমুদ উস সামাদের মৃত্যুতে শূন্য হওয়া সিলেট-৩  আসনে নৌকা প্রতীক পেতে চান অন্তত ৩ ডজন। এর মধ্যে দলের ত্যাগী-পরীক্ষিত নেতা-কর্মী যেমন আছেন, প্রবাসী, ব্যবসায়ী। বিএনপি উপনির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেওয়ায় নৌকা পেতে মরিয়া তারা। কারণ নৌকা পেলেই বিজয়। এ ধারণায় উপনির্বাচনেও প্রার্থীর ছড়াছড়ি। 

ইতোমধ্যে মনোনয়ন প্রত্যাশীরা শুরু করেছেন দৌড়-ঝাপ। সম্ভাব্য অনেক প্রার্থী নানা রংয়ের ব্যানার পোস্টারের মাধ্যমে তাদের প্রার্থিতা জানান দিতে ভোটারদের দৃষ্টি আকর্ষণ অব্যাহত রেখেছেন তারা।

কখনো নির্বাচনী এলাকায় না গেলেও কেউ কেউ এখন জনদরদি সেজে বিতরণ করছেন খাদ্য সামগ্রীসহ করোনা প্রতিরোধ সামগ্রী।

অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের আশা করে ভোটাররা বলছেন, জনগণের চাওয়া পাওয়াকে মূল্যায়ন করবে এমন প্রার্থীই বেছে নেবেন তারা। চায়ের দোকানে এখন আলোচনার অন্যতম অনুষঙ্গ নির্বাচন। 

বিভিন্ন আলোচনায় উন্নয়নের খেরো খাতা খুলে বসছেন ভোটাররা। এরই মধ্যে নিজেদের পছন্দের প্রার্থী নিয়ে সেরে নিচ্ছেন চুলচেরা বিশ্লেষণ। অনেকে বলছেন মাহমুদ উস সামাদের মতো আমরা একজন মানুষ চাই, আমাদের একমাত্র চাওয়া এলাকার সার্বিক উন্নয়ন।

এলাকাবাসী বলছে, রাস্তাঘাটের  উন্নয়ন কাজ এখনো বাকি রয়েছে। আমরা আশা করছি, দ্রুত এর উন্নয়ন হবে। 

দলীয় সূত্রমতে, সিলেট-৩  আসনে জনপ্রিয় ও সাংগঠনিকভাবে দক্ষ প্রার্থী খুঁজছে আওয়ামী লীগ।

এ ব্যাপারে দলের হাইকমান্ডের নির্দেশে সাংগঠনিক ও একাধিক সংস্থা মাঠ জরিপ করছে। দলের জন্য নিবেদিত, নিজ এলাকায় সামাজিক কর্মকান্ড সম্পৃক্ত ও অধিকতর জনপ্রিয়-এমন যোগ্য নেতা খুঁজছেন তারা। 

এ আসনে এখন পর্যন্ত ৩ ডজন এর অধিক প্রার্থীর নাম শোনা গেলেও মাহমুদ উস সামাদের মতো জনপ্রিয় দক্ষ প্রার্থী খুঁজছে আওয়ামী লীগ। 

আর কে হবেন মাহমুদ উস সামাদের যোগ্য উত্তরসূরি তা নিয়ে নানা হিসাব কষছেন নীতিনির্ধারকরা।

সিলেট ৩ আসনটি সিলেট নগরীর কাছাকাছি এলাকায় গুরত্ব অনেক বেশি। এছাড়া শিল্পনগরী ফেঞ্চুগঞ্জ ও রয়েছে এ আসনে। ফলে গুরুত্বপূর্ণ এ আসনে নির্বাচিত হয়ে দক্ষতার সঙ্গে গত ৩ বার দায়িত্ব পালন করেছেন প্রয়াত এমপি মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী। বর্তমান সরকারের আন্তরিকতা প্রয়াত এমপি মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরীর দক্ষতার ফলে এই এলাকায় বিগত দিনে বেশ উন্নয়ন সাধিত হয়েছে। বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকার ফলে এই আসনে ইতোমধ্যে দলীয় মনোনয়ন পেতে বেশ কয়েকজন নেতা দৌড়-ঝাপ শুরু করেছেন।

ইতোমধ্যে মনোনয়নপ্রত্যাশীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ত্রাণ কার্যক্রমের মাধ্যমে নির্বাচনী এলাকার মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে সাহায্য-সহযোগিতা করে নিজের পরিচয় জানান দিচ্ছেন। 

সিলেট ৩ আসনে উল্লেখযোগ্য প্রার্থীরা হলেন প্রয়াত মাহমুদ উস সামাদের স্ত্রী ফারজানা সামাদ চৌধুরী, দলের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য ইনাম আহমদ চৌধুরী, সাবেক কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) মহাসচিব ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক ডা. এহতেশামুল হক চৌধুরী দুলাল, যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজসেবা বিষয়ক সম্পাদক ও সিলেট জেলা আওয়ামীলীগের সদস্য হাবিবুর রহমান হাবিব, দক্ষিণ সুরমা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবু জাহিদ, সিলেট জেলা বারের পিপি এডভোকেট নিজাম উদ্দিন, সাবেক সহকারী এর্টনী জেনারেল ও বাংলাদেশ এ্যাথলেটিক্স ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ও বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের কার্যনির্বাহী সদস্য এডভোকেট আব্দুর রকিব মন্টু, ডাকসুর সাবেক সদস্য মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট দেওয়ান গৌস সুলতান, ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল বাছিত টুটুল, ফেঞ্চুগঞ্জ সরকারি  কলেজের সাবেক ভিপি সাংবাদিক শাহ মুজিবুর রহমান জকন, যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টার আওয়ামী লীগ নেতা স্যার এনাম উল ইসলাম, যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক  আ.স.ম মিসবাহ।

এ নির্বাচনী এলাকায় ৩ ডজনের  অধিক প্রার্থী বিভিন্ন ভাবে দলের হাইকমান্ডের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করছেন। এলাকায় নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে তারা যোগাযোগ বাড়িয়ে দিয়েছেন।

প্রয়াত মাহমুদ উস সামাদের স্ত্রী ফারজানা সামাদ চৌধুরী বলেন, আমার স্বামী এলাকার মানুষকে ভালোবাসতেন। তিনি এলাকার উন্নয়নে অনেক কাজ হাতে নিয়েছেন। কিছু কাজ সমাপ্ত হয়েছে, কিছু কাজ বাকি রয়েছে। জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশ ও আশীর্বাদ পেলে স্বামীর অসমাপ্ত উন্নয়ন কাজগুলো সুচারুরূপে সম্পন্ন করতে আগামী দিনে এলাকার জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে ভূমিকা রাখতে আগ্রহী। 

তিনি আরও বলেন, সাধারণ মানুষ নির্বাচন করার অনুরোধ করেছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মনোনয়ন দিলে প্রার্থী হব।

শাহ মুজিবুর রহমান জকন বলেন, তৃণমূলের কর্মী হিসেবে আমাকে জনপ্রতিনিধি হওয়ার সুযোগ দিলে উন্নয়নের পাশাপাশি দলকেও সুসংগঠিত করব। তিনি আরও বলেন, আমাদের অভিভাবক বঙ্গবন্ধুকন্যা যে সিদ্ধান্ত দেবেন সেটাই চূড়ান্ত।

অ্যাডভোকেট নিজাম উদ্দিন বলেন, দলের কাজ করি, মানুষের সেবা করার চেষ্টা করি। আল্লাহ ও নেত্রী চাইলে নির্বাচন করব।

আব্দুল বাছিত টুটুল বলেন, মাঠপর্যায়ের কর্মী হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে দলের তৃণমূলের রাজনীতি করছি। একজন নিবেদিতপ্রাণ কর্মী হিসেবে দলের মনোনয়ন চাইব।

সর্বশেষ দুই জাতীয় নির্বাচনে মাহমুদ উস সামাদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে মাঠে ছিলেন 
যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের ত্রান ও সমাজসেবা বিষয়ক সম্পাদক ও সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য হাবিবুর রহমান হাবিব। মনোনয়ন বঞ্চিত হলেও হাল ছাড়েননি তিনি।

মনোনয়নপ্রত্যাশী হাবিবুর রহমান হাবিব আমার সংবাদকে বলেন, গত ১২ বছর ধরে এলাকার মানুষের জন্য মাঠে কাজ করছি। জনপ্রতিনিধি না হয়েও এলাকার উন্নয়নে ভূমিকা রাখার চেষ্টা করেছি। 

তিনি আরও বলেন, বিগত দিনেও আমি মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলাম। এবার আমি আশাবাদী দল আমাকে মনোনয়ন দেবে। 

আরেক প্রার্থী যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টার আওয়ামী লীগ নেতা স্যার এনাম উল মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। তিনি বলেন, জনপ্রতিনিধি হলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে মূল লক্ষ্য। সরকারের চলমান উন্নয়ন প্রকল্পের পাশাপাশি ব্যক্তিগতভাবেও অনেক উন্নয়ন পরিকল্পনা রয়েছে।

দক্ষিণ সুরমা উপজেলা চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবু জাহিদ বলেন, যারা মনোনয়ন চাইছেন, তাদের অধিকাংশ ব্যবসায়ী। এলাকার সঙ্গে সম্পৃক্ততা নেই। আওয়ামী লীগের রাজনীতির সুবাদে নির্বাচনী এলাকার তিন উপজেলার দলের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক রয়েছে আমার।

চলতি বছরের জুলাইয়ের মাঝামাঝিতে সিলেট-৩ সংসদীয় আসনের উপনির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এই নির্বাচনের তারিখ ঠিক করা হবে আগামী ২ জুন কমিশন সভায়।  

সোমবার (২৪ মে) নির্বাচনের কমিশন সভা শেষে এ তথ্য জানিয়েছেন ইসি সচিব হুমায়ুন কবীর খোন্দকার। 

আমারসংবাদ/কেএস