বাউফলে উদ্দেশ্য প্রণোদিত জমি জরিপ বন্ধের দাবিতে কৃষকদের মানববন্ধন 

‘করোনার সময় বন্ধ কর জরিপ, বাচাও গরীব’ স্লোগানকে সামনে রেখে পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কালাইয়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের (শৌলা গ্রামের) দুই শতাধিক কৃষক মানববন্ধন কর্মসূচি ও সমাবেশ করেছে।

রোববার (৩ অক্টোবর) বেলা ১১ টার দিকে বাউফল প্রেসক্লাবের সামনের সড়কে ঘণ্টাব্যাপী ওই কর্মসূচি পালন করে।

কয়েকজন কৃষক বলেন, ১৫টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা নিয়ে বিশাল উপজেলা। সেখানে গুটি কয়েক ভুমিদস্যু অবৈধভাবে দখলকৃত জমি বৈধ করার লক্ষে সম্পূর্ণ উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে কালাইয়া ইউনিয়নের কেবলমাত্র একটি ওয়ার্ডে ডিয়ারা জরিপ করাচ্ছে।তাঁরা এই ডিয়ারা ভূমি জরিপ চান না, সেটেলমেন্ট জরিপ চান। কিন্তু এই মুহূর্তে না।

মো. জামাল উদ্দিন (৫০) বলেন, একটি উপজেলার একটি মাত্র গ্রামে জরিপ কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। এতে যে কেউ বুঝতে পারবে যে, এটা অসৎ উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য করোনাকালীন ভূমি জরিপ করা হচ্ছে। আগে দেখেছি জরিপ করার এক-দু মাস আগে মাইকিং করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করার জন্য প্রচার করা হত।কিন্তু এখানো কোনো প্রকার প্রচার ছাড়াই এক প্রভাবশালী ব্যক্তির বাড়িতে থেকে জরিপ কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।

মো. মনিরুজ্জামান (৪৫) ও মো. মিলন খলিফা (৪৭) অভিন্নভাবে বলেন, কথায় আছে জরিপ মানে গরীব। এমনিতেই করোনার কারণে তারা অর্থিক দৈন্যতার মধ্যে আছেন। এর মধ্যে এই অসময়ে ভূমি জরিপ হওয়ায় তারা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। কাগজপত্র তুলতে অনেক টাকার প্রয়োজন। যা তাদের কাছে নাই। তারা এই জরিপ বন্ধের দাবি জানান।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, স্থানীয় এক প্রভাবশালী ব্যক্তির বাড়িতে থেকে জরিপ কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।

জরিপ কার্যক্রমের দায়িত্বে থাকা বরিশালের ডিয়ারা সেটেলমেন্ট অপারেশনের জরিপকারক মো. রেজাউল করিম বলেন, ভূমি রেকর্ড জরিপ অধিদপ্তরের নির্দেশে দুইজন জরিপকারকের নেতৃত্বে একটি দল গত মার্চ মাস থেকে ডিজিটাল পদ্ধতিতে শৌলা গ্রামে জরিপ কার্যক্রম চালাচ্ছেন। বর্তমানে মানচিত্র তৈরি করছেন। এই জরিপ চলাকালীন কারো কাছ থেকে কোনো প্রকার অর্থিক সুবিধা নেওয়া হচ্ছে না বলেও তিনি দাবি করেন। 
অপর এক প্রশ্নের তিনি আরও বলেন, সরকারের নির্দেশে ভূমি জরিপ কার্যক্রম চালাচ্ছেন। তারা বন্ধ করতে বললে বন্ধ করে দিবেন।

আমারসংবাদ/কেএস