তৃতীয় ধাপের নির্বাচন শেষ, নিহত ৬

বিচ্ছিন্ন সহিংসতার মধ্য দিয়ে তৃতীয় ধাপে ১ হাজার ইউনিয়ন পরিষদে (ইউপি) ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই ধাপে ৩৩টি ইউপিতে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) এবং বাকিগুলোতে ব্যালট পেপারের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ হয়েছে। 

রোববার (২৮ নভেম্বর) সকাল ৮টায় শুরু হয়ে বিরতিহীনভাবে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলে। দিনভর জাল ভোট, ভোট বর্জন, ব্যালট পেপার ছিনতাই ও হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটেছে দেশের বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে। সেখানে ছয়জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

তৃতীয় ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের ভোট চলাকালে সংঘর্ষ হয় অন্তত ১০ জেলায়। তবে বিকেল পর্যন্ত কোনো প্রাণহানি ঘটেনি। নির্বাচন পরবর্তী সেই ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে।

লক্ষ্মীপুর:
লক্ষ্মীপুর থেকে আসে প্রাণহানির প্রথম খবরটি। এরপর নরসিংদী ও মুন্সিগঞ্জে ভোটের পরে সংঘর্ষে তিনজন নিহতের খবর পাওয়া যায়।

লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জের ইছাপুর ইউনিয়নের এক কেন্দ্রে ভোট শেষ হওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে বিকেল পৌনে ৪টার দিকে সংঘর্ষ হয়। আওয়ামী লীগ ও বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকদের এই সংঘর্ষে ইউনিয়ন ছাত্রলীগ নেতা সজিব হোসেন নিহত হয়েছেন। নিহত সজিব ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন। তিনি আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী শাহনাজ আক্তারের সমর্থক ছিলেন।

নরসিংদী:
নরসিংদীর রায়পুরায় নির্বাচনী সহিংসতায় আরিফ মিয়া (২৪) নামে এক সিএনজি অটোরিকশা চালক গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছেন। রোববার সন্ধ্যায় উপজেলার চান্দেরকান্দি ইউনিয়নের চান্দেরকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের পাশে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় পুলিশসহ ১০ জন আহত হয়েছেন। নিহত আরিফ মিয়া শিবপুর উপজেলার যোশর ইউনিয়নের জানখারটেক গ্রামের চাঁন মিয়ার ছেলে। রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিহতের মরদেহ রাখা হয়েছে বলে স্বীকার করেছেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আবু সাইদ মোহাম্মদ ফারুক।

স্থানীয়রা জানান, রায়পুরার চান্দেরকান্দি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নৌকা প্রতিক নিয়ে নির্বাচন করেন খোরশেদ আলম মিঠু। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আনারস প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন মেছবাহ উদ্দিন খন্দকার মিতুল। বিকেল পাঁচটার দিকে ভোটগণনার সময় দুই মেম্বার প্রার্থীর সমর্থকসহ দুই চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকরা সংঘর্ষে জড়ায়।

মুন্সীগঞ্জ:
মুন্সীগঞ্জে সদর উপজেলায় ইউপি নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর পৃথক সহিংসতায় শাকিল(১৭) ও রিয়াজুল শেখ(৭০) নামের দুইজন নিহত ও বেশ কয়েক জন আহত হয়েছে। আহতদের মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। রোববার রাত ৭ থেকে ৮ টার মধ্যে এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও নিহতের পরিবার জানায়, বাংলাবাজার ইউনিয়নের বানিয়াল কাজিরচর এলাকার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কেন্দ্র ফলাফল ঘোষণার পর পরাজিত মহিলা মেম্বার আরফা বেগমের কর্মীরা ধারাল অস্ত্রের আঘাতে বিজয়ী মহিলা মেম্বার প্রার্থী রাবেয়া বেগমের ভাগ্নে শাকিল নিহত হয়।

নিহত শাকিলের বাড়ি শরিয়তপুর জেলার সফিপুর থানাধীন দোলারচর এলাকার কাচিকাটা গ্রামের হারুন মোল্লার পুত্র। তিনি তার মামি রাবেয়া বেগমের বাড়িতে বেড়াতে এসেছিলেন।

এদিকে, একই উপজেলার পঞ্চসার ইউনিয়নের গোসাইরবাগ গ্রামের রিয়াজুল শেখের মৃত্যু হয়েছে। সে ওই ইউনিয়নের স্বতন্ত্র প্রার্থী (টেলিফোন) আলী সিদ্দিকের বড় ভাই।

ঠাকুরগাঁও:
ঠাকুরগাঁওয়ে ভোট শেষে সংঘর্ষের ৬ জন আহত ও দুইজন নিহত হয়েছে। রাত সাড়ে ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

আমারসংবাদ/এমএস