নিজের ভোটটিও তিনি খুঁজে পাননি ভোট বাক্সে

নিজের ভোটটিও তিনি খুঁজে পাননি ভোট বাক্সে

নাগেশ্বরীতে ২৮ নভেম্বরের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ভোটের বাক্সে অন্যান্য ভোট তো দুরের কথা পরিবারসহ নিজের ভোটটিও খুঁজে না পাওয়ায় মর্মাহত নজরুল ইসলাম বলেন, অপ্রত্যাশিত এ ফলাফল শোনার পরে আমি মানসিকভাবে দুর্বল হয়ে গেছি। লজ্জায় বাইরে যেতে মন চায় না। কাল থেকে নিজেকে আমি প্রায় ঘরবন্দি করে ফেলেছি। ভোটের কথা মনে উঠলেই হাউমাউ করে আমার কান্না আসছে। 

যদি কর্মী-সমর্থকরা আমাকে ধোকা দেয় তারপরেও আমি, আমার স্ত্রী মেহরা খাতুন, বড় ছেলে মফিজুল ইসলাম, তার স্ত্রী কল্পনা খাতুন, মেজ ছেলে এনামুল হক, তার স্ত্রী ফরিদা বেগমসহ রক্তের সম্পর্কের আত্মীয় স্বজনরা ভোট দিলে অন্তত দেড়শত থেকে দুইশত ভোট পাওয়ার কথা। সেখানে শুন্য ভোট হয় কিভাবে। আমি এটা মেনে নিতে পরছি না। এ ফলাফলে আমি পুরোপুরি বেইজ্জত হয়ে গেছি। তাই রাতেই আমি সংশ্লিস্ট অফিসে ভোট পুনঃগননার আবেদন করেছি।

হ্যাঁ-এমনি এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে নাগেশ্বরীর রামখানা ইউনিয়নে। তৃতীয় দফায় ২৮ নভেম্বর রামখানাসহ উপজেলায় ১৩ ইউনিয়নে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এ নির্বাচনে রামখানা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ৩ নং ওয়ার্ড থেকে সদস্য পদে টিউবওয়েল প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করেন নাখারগঞ্জ পশ্চিম রামখানা দেওয়ানটারী গ্রামের ইজ্জত তুল্ল্যার ছেলে নজরুল ইসলাম। 

প্রতীক প্রাপ্তির পর বিজয়ী হতে অন্যান্য প্রার্থীর মত কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে প্রচারণা চালান তিনি। করেন উঠোন ও খুলি বৈঠক। সবার মত দুপুর ২ টা থেকে রাত ৮ টা পর্যন্ত চলে প্রতীক ও প্রার্থীর প্রচারণা। পোষ্টার লাগানো হয় ওয়ার্ডের সর্বত্রই। বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট প্রার্থনা করেন তিনি।

সবশেষে ভোটের দিন কেন্দ্রে টিউবওয়েল প্রতীকের ১ জন এজেন্টও ছিল। অথচ রোববার দিনশেষে গননা করে দেখা গেছে তিনি একটি ভোটও পাননি। তাহলে তিনি, তার স্ত্রী, পরিবারের অন্যান্য সদস্য, আত্মীয়স্বজন, তার শুভাকাঙ্খি, কর্মী-সমর্থক ও এজেন্ট কেউই কি তাকে ভোট দেয়নি। এটি কিভাবে সম্ভব। এ নিয়ে বিস্তর আলোচনা চলছে এলাকায়।

নজরুল ইসলাম টিউবওয়েল প্রতীকে কোন ভোট না পেলেও তার প্রতিদ্বন্ধী প্রার্থী নুরজামাল শেখ ফুটবল প্রতীকে পেয়েছেন ৭১৬, ফজলে রহমান বৈদ্যুতিক পাখা প্রতীকে পেয়েছেন ৪, সফিকুল ইসলাম তালা প্রতীকে পেয়েছেন ৮৭৭ ভোট।

ভোটের এ ফলাফলে কোনভাবে হিসেব মিলাতে পারছেন না প্রার্থী নজরুল ইসলাম নিজেও। 

উপজেলা নির্বাচন অফিসার আনোয়ার হোসেন আবেদন পাওয়ার কথা নিশ্চিত করে জানান, এটি আইনিভাবে মোকাবেলা করার জন্য তাকে পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

আমারসংবাদ/এআই