কেরানীগঞ্জে রিটার্নিং অফিস ঘেরাও চেষ্টা, ফলাফল স্থগিত

ঢাকার কেরানীগঞ্জে শান্তিপূর্ণভাবে শুরু হওয়া তৃতীয় ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন শেষ হয়েছে গোলাগুলির মধ্যদিয়ে। ১১টি ইউনিয়নে বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ছাড়া বড় ধরণের কোন ঘটনা না ঘটলেও হযরতপুর ইউনিয়নে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে সহিংসতায় জড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বহিস্কৃত সভাপতি ও বিদ্রোহী প্রার্থী হাজী আলাউদ্দিনের কর্মী সমর্থকেরা। 

ভোট গণনায় গড়মিল হওয়ায় রাতে প্রশাসন ভোট বাক্স উপজেলায় নিয়ে আসতে চাইলে বাধা দেয় ঘোড়া মার্কার সমর্থকেরা। রাস্তা বন্ধ করে তাদের অবরুদ্ধ করে রাখলে উপজেলা প্রশাসনের সহায়তায় তাদের উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকালে প্রায় দুই শতাধিক ফাঁকা গুলি ব্যবহার করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

এর আগে আটটি ইউনিয়নে বিনা ভোটে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ায় বাকি তিনটি ইউনিয়নে হয়েছে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন। এতে বাস্তা ইউনিয়ন থেকে আশকর আলী, শাক্তা থেকে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন হাবিবুর রহমান হাবিব। অপর ইউনিয়ন হযরতপুরে এখনো ঘোষণা করা হয়নি ফলাফল। তবে উভয় প্রার্থীই তাদের বিজয়ী ঘোষণা করছে।

অনুষ্ঠানিকভাবে ফল ঘোষণা না হওয়ায় আজ সকালে কেরানীগঞ্জ উপজেলা চত্বরে অবস্থান নেয় আওয়ামী লীগের বহিস্কৃত সভাপতি ও বিদ্রহী প্রার্থী আলাউদ্দিনের কর্মী সমর্থকরা। তারা ঘোড়া প্রতিককে জয়ী ঘোষণা করতে নির্বাচন অফিসের সামনে অবস্থান নিতে চাইলে সেখান থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের তাড়িয়ে দেয়। পরে তারা গুলিস্তান-বান্ধুরা সড়কে অবস্থান নিয়ে সাংবাদিকদের নানা অনিয়মের কথা তুলে ধরেন। 

এসময় রাস্তায় ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয় এবং উপজেলা কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। খবর পেয়ে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আনোয়ার হোসেন আয়নালের স্বমর্থনে সামনাসামনি অবস্থায় সরকারি ইস্পাহানি কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি শাহ জালাল অপুর ও সেচ্ছাসেবকলীগ নেতা মিরাজুর রহমান সুমন ও নাজিম মেম্বারসহ তার নির্বাচনী এলাকা হতে ট্রাক ভরে আসা হাজারখানেক সমর্থক।

বিদ্রোহী প্রার্থী আলাউদ্দিন বলেন, ভোট জালিয়াতি করেও তারা আমাকে পরাজিত করতে পারেনি। পাঁচটি কেন্দ্রে আমি দেড় হাজার ভোটে এগিয়ে থাকায় নৌকার প্রার্থীর নিশ্চিত পরাজয় জেনে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করা হচ্ছে না। আমরা নির্বাচনের ফলাফল না নিয়ে ঘরে ফিরবো না।

নৌকার প্রার্থী আনোয়ার হোসেন আয়নাল বলেন, জনগণ নৌকায় ভোট দিয়ে তাকেই জয়ী করেছে। ফলাফল ঘোষণা হলেই বুঝা যাবে কে জয়ী। জয় নৌকারই হবে ইনশাআল্লাহ। 

এব্যাপারে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আব্দুল আজিজ কথা বলতে রাজি হননি।

কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ আবু সালাম মিয়া জানান, আইনশৃঙ্খলা অবনতির আশঙ্কায় উভয় প্রার্থীর সমর্থকদের উপজেলা চত্বর থেকে  সড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এই মুহূর্তে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

উল্লেখ, গত ২৮ নভেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বাস্তা ইউনিয়নের রাজাবাড়ী কেন্দ্রে বিদ্রোহী প্রার্থী জেড এ জিন্নাহ(ঘোড়া প্রতিক) কে মারধর ও শাক্তা ইউনিয়নের স্বতন্ত্র প্রার্থী সজিব বেপারি( মোটরসাইকেল প্রতিক) অনিয়মের অভিযোগে নির্বাচন বর্জন করে।তাছাড়া শুভাঢ্যা ইউনিয়নের পিকে রায় স্কুলে বোমা বিস্ফোরণ,বাক্তারচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনার খবর পাওয়া গেছে।

আমারসংবাদ/এআই