বরিশালে লাগাতার বর্ষণে চরম জনভোগান্তি, কৃষির ব্যাপক ক্ষতি

ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদের প্রভাব

ঘূর্ণিঝড় ‘জাওয়াদ’ শক্তি হারিয়ে বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। যার প্রভাবে বরিশালে গত দুইদিন ধরে থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছে। রোববার দিবাগত রাত থেকে বৃষ্টির পরিমাণ বাড়লেও সোমবার (৬ ডিসেম্বর) বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তা কমতে থাকে। এদিন বেলা ১টা পর্যন্ত হিমেল হাওয়ার সঙ্গে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হলেও বিকেল থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত মুষলধারে বৃষ্টি হয়েছে। এতে জেলার বিভিন্ন উপজেলার নিচু এলাকায় হাঁটুপানি জমেছে। এছাড়া বৃষ্টির পানি জমে বরিশাল নগরীর বিভিন্ন অলিগলিতে জলাবদ্ধতার সমস্যা দেখা দিয়েছে। হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টির কারণে সোমবার বরিশাল নগরের রাস্তাঘাট অনকেটাই ফাঁকা, অফিস-আদালতেও তেমন একটা ভিড় ছিল না। অবিরাম বৃষ্টির কারণে মানুষ ছিল ঘরমুখী। বৃষ্টির কারণে দিনের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের থেকে কিছুটা কমেছে।

বরিশাল আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, রোববার (৫ ডিসেম্বর) সকাল ৬টা থেকে সোমবার (৫ ডিসেম্বর) বেলা ১২টা পর্যন্ত ১৪ দশমিক ২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। চট্টগ্রাম, মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরে ৩ নম্বর সতর্কতা সংকেত এবং স্থানীয় নদী বন্দরে এক নম্বর সতর্কতা সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। 

বরিশাল আবহাওয়া অফিসের সিনিয়র অবজারভার মো. আনিসুর রহমান জানান, ঘূর্ণিঝড় ‘জাওয়াদ’ দুর্বল হয়ে নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। নিম্নচাপের প্রভাবে সঞ্চালনশীল মেঘমালার সৃষ্টি হয়েছে। সঙ্গে হালকা বাতাস বইছে। সঞ্চালনশীল মেঘমালার কারণে বৃষ্টি হচ্ছে। গতকাল বিকেল থেকে আজ সকাল পর্যন্ত বরিশালে ১৪ দশমিক ২ মলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, হালকা থেকে মাঝারি ধরনের এই বৃষ্টি থেমে যাওয়ার পর তাপমাত্রা কমে গিয়ে শীতের অনুভূতি বাড়তে পারে। আর নদী তীরবর্তী এলাকায় হালকা থেকে মাঝারি কুয়াশা পড়তে পারে। মাসের মাঝামাঝি সময়ে একটি এবং শেষের দিকে আরেকটি শৈত্যপ্রবাহ সৃষ্টি হতে পারে।

এদিকে বরিশাল জেলা কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে নদ-নদী গুলোতে জোয়ারের পানি স্বাভাবিকের চেয়ে ২ ফুট বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। অবিরাম ভাড়ি বর্ষণে উঠতি আমন ধান, বোরো বীজ, পানবরজ, রবিশস্য ও শীতকালীন সবজি ক্ষেত তলিয়ে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির নিরুপনের জন্য কর্মকর্তারা মাঠ পর্যায়ে কাজ শুরু করেছেন।

আমারসংবাদ/এমএস