বাঁশির আওয়াজে কম্পিত উপজেলা

কুমিল্লার মুরাদনগরে শুক্রবার (১৪ জানুয়ারি) ছিলো ২১টি ইউনিয়নের প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দের দিন। সব কেটাগরীর প্রার্থীরা সমবেত হয়েছিলো স্ব স্ব রিটার্নিং কর্মকর্তার কর্যালয়ে মার্কা নেয়ার জন্য। সমাগম না ঘটানোর নির্দেশনা থাকলেও মিছিলে মিছিলে জনসমূদ্রে রূপ নেয় উপজেলার চারপাশ। প্রত্তেক প্রার্থীর সমর্থকদের হাতে ছিলো ভূভূজেলা বাঁশি। বাঁশির আওয়াজে থমথমের পরিবেশ সৃষ্টি হয়। 

অপরদিকে উপজেলার ২১টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে ৫ হাজার ৫’শ শিক্ষার্থী টিকা নিতে এসে পড়েন বিব্রতকর পরিস্থিতিতে। উপজেলা সদরের আসপাশের সড়কে প্রায় ৩ কিলোমিটার জুড়ে ছিলো যানযট। ফলে একদিকে ভোগান্তিতে পরেন পথচারী অপরদিকে উৎসবের আমেজ দেখা যায় প্রার্থী সমর্থকদের মাঝে। সবমিলিয়ে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত প্রায় অর্ধ লক্ষ লোকের সমাগম ঘটে উপজেলা সদরে।

নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়, আগামী ৩১শে জানুয়ারী উপজেলা ২১টি ইউনিয়নে ভোট গ্রহণ হবে। তারই ফলশ্রুতিতে গত ৩ জানুয়ারি ছিলো মনোনয়ন পত্র দাখিল ও ৬ জানুয়ারি ছিলো যাচাই বাছাই এবং ১৩ জানুয়ারি ছিলো প্রার্থীতা প্রত্যাহারের শেষ দিন।  

আজ শুক্রবার দেয়া হয়েছে প্রতীক বরাদ্দ। এ উপজেলা থেকে ২১টি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে ১৫৭ ও সংরক্ষিত (মহিলা) সদস্য পদে ২১৬ এবং সাধারণ (মেম্বার) সদস্য পদে ৭৯৫জনসহ মোট ১১৬৮জন প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। অধিকাংশ প্রার্থী ১০ থেকে ১২টি গাড়ি ভর্তি লোক নিয়ে আসেন। প্রত্যেক প্রার্থীর গড়ে ৫০ জন সমর্থক ধরে হিসেব করলে ১১৬৮ জন প্রার্থীর পক্ষে লোক আসেন ৫৮ হাজার ৪’শ জন। 

অপদিকে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: মোঃ নাজমুল আলম বলেন, ১৫ জানুয়ারীর মধ্যে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষার্থীদের টিকা দেয়া শেষ করার নির্দেশনা রয়েছে। সেই সুবাদে শুক্রবার বন্ধের দিনেও ২১টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৫ হাজার ৫’শ শিক্ষার্থীদেরকে টিকা দেয়া হয়েছে। 

ভোগান্তিতে পড়া বেশ কয়েকজন সাধারণ পথচারী বলেন, অন্যদিনের চাইতে বেশ কয়েকগুন ভাড়া গুনলেও স্বাদচ্ছন্দে গন্তব্যে যাওয়া যায়নি। কারণ ৩ কিলোমিটার জুড়ে ছিলো যানযট। 

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অভিষেক দাশ বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আমাদের চেষ্টার কমতি ছিলো না। চিন্তার বাহিরে লোক সমাগম হয়েছে।

আমারসংবাদ/কেএস