Amar Sangbad
ঢাকা বুধবার, ২৫ মে, ২০২২, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯

বিএনপির কাছে পরাজয়ের হ্যাটট্রিক ঠেকাবে আ.লীগ

রফিকুল ইসলাম

রফিকুল ইসলাম

মে ১৪, ২০২২, ০১:২৯ এএম


বিএনপির কাছে পরাজয়ের হ্যাটট্রিক ঠেকাবে আ.লীগ

সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনকে সামনে রেখে টালমাটাল কুমিল্লা আওয়ামী লীগের রাজনীতি। দলটির স্থানীয় নেতাদের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব, কোন্দল, বিভেদ, বিভাজন ও বিভক্তি এখন বিষফোঁড়া। এমন অবস্থায় সিটি নির্বাচনে নৌকার মনোনীত প্রার্থীর বিজয় নিশ্চিত করাই চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছে দলটির স্থানীয় নেতাকর্মীরা। তবে বিষয়টি মানতে নারাজ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সিনিয়র নেতারা।

তারা বলছেন, নৌকার বিজয় নিশ্চিত করতে আওয়ামী লীগ ঐক্যবদ্ধ। গত দু-বার বিএনপির প্রার্থীর কাছে পরাজয় বরণ করলেও এবার নৌকা নিরষ্কুশ বিজয় অর্জন করবে।   
 
তথ্যমতে, আগামী ১৫ জুন অনুষ্ঠিত হবে কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন। অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি শেষ করছে নির্বাচন কমিশন-ইসি। এদিকে কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন হ্যাটটিক পরাজয় ঠেকাতে দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। 

গতকাল প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে দলের স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ড সভায় দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত করে দলটির সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কুমিল্লা মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আরফানুল হক রিফাতকে নৌকা প্রতীকের মনোনয়ন দিয়েছেন তিনি। এবার এ সিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতিকের মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন ১৪ জন।   

আ.লীগ সূত্রে জানাযায়, গত দুবার অনুষ্ঠিত কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মতোই এবারো নৌকার প্রধান বাধা হতে পারে আওয়ামী লীগে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব, কোন্দল, বিভক্তি ও বিভাজন। দল টানা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থাকলেও দলীয় কোন্দলে জর্জরিত দলটির স্থানীয় নেতাকর্মীরা। সৃষ্টি হয়েছে দল-উপদলে। ফলে সিটি নির্বাচনের মাঠে নৌকার প্রধান বাধা হতে পারে দলীয় কোন্দল বলে মনে করছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা।

একই সুরে কথা বলছেন দলটির কেন্দ্রীয় নেতারাও। তাদের মতে— ভোটের মাঠে বিরোধী শিবিরের প্রার্থীর চেয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ করাই চ্যালেঞ্জ। নৌকার মনোনয়ন যাকে দেয়া হোক, ভোটের রাজনীতিতে চুপ থাকতে পারে দলের বড় একটি অংশ। যদিও ক্ষমতাসীন দলের দায়িত্বশীল নেতারা বলছেন, প্রার্থীর নির্ধারণের পর পরই দলীয় কোন্দল নিরসনে গুরুত্ব দেয়া হবে। 

জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন আমার সংবাদকে বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই কুমিল্লায় আওয়ামী লীগের অভ্যন্তীণ দ্বন্দ্ব  চলে আসছে। চলমান এই দ্বন্দ্ব নিরসনের জন্য নানামুখী উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। দ্বন্দ্বের কারণ অনুসন্ধান ও বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। আশা করি সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের আগেই স্থানীয় আওয়ামী লীগের মধ্যে দ্বন্দ্ব-কোন্দল সমাধান হয়ে যাবে। 

তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যাকে নৌকার মনোনয়ন দিয়েছেন। দল-মত নির্বিশেষে দলের সব পর্যায়ের নেতাকর্মীরা এক্যবদ্ধভাবে ভোটের মাঠে নৌকার পক্ষে কাজ করবে। বিগত নির্বাচনের পরাজয় চিন্তা না করে এবার নৌকার বিজয়ের চিন্তা করা হবে। আশা করি ভোটের মাঠে নৌকার বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিজয় অর্জন করবে।

জানা যায়, সর্বশেষ ২০১৭ সালে অনুষ্ঠিত কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের কারণে হেরে যান আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের মনোনীত প্রার্থী আঞ্জুম সুলতানা সীমা। সে সময় তার পরাজয় নিয়ে দলীয় কোন্দলকে দায়ী করেন খোদ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

বিষয়টি নিয়ে দলীয় প্রধান শেখ হাসিনার সাথেও আলোচনা করে দলটির শীর্ষ নেতারা। তখন নৌকার পরাজয়ের কারণ বিশ্লেষণ এবং দলীয় কোন্দল নিরসনের তাগিদ দেন আওয়ামী লীগ সভাপতি। তার এমন নির্দেশনা থাকলেও এখনো পর্যন্ত দ্বন্দ্ব নিরসন হয়নি। বরং সিটি নির্বাচনের দিন যতই এগিয়ে আসছে, ততই শঙ্কা মাথাচারা দিয়ে উঠছে। 

জানতে চাইলে কুমিল্লা জেলা আওয়ামী লীগের এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে আমার সংবাদকে বলেন, ‘ভোটের মাঠে নৌকা হারানোর ক্ষমতা বিরোধীদের নেই। তারা নৌকার কাছে বিপুল ভোটের ব্যবধানে হারবে। সে ক্ষেত্রে দলীয় নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে নৌকার পক্ষে কাজ করতে হবে এবং নৌকায় ভোট দিতে হবে। কিন্তু চলমান দ্বন্দ্বের কারণে যদি একটি অংশ নির্বাচনি প্রচার-প্রচারণায় না আসে। নৌকায় ভোট না দেয়। তাহলে কোনোভাবেই নৌকার বিজয় অর্জন সম্ভব নয়।’ 

জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য আব্দুর রহমান আমার সংবাদকে বলেন, ‘কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনকে সামনে রেখে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধ। আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যাকে নৌকার মনোনয়ন দিয়েছেন। তার বিজয় নিশ্চিত করতেই বিভেদ ভুলে সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবে।’