Amar Sangbad
ঢাকা বুধবার, ২৫ মে, ২০২২, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯

আ.লীগকে হারানোর হ্যাটট্রিক চান সাক্কু সাহসে জামায়াত! 

আবদুর রহিম 

আবদুর রহিম 

মে ১৪, ২০২২, ০১:৩২ এএম


আ.লীগকে হারানোর হ্যাটট্রিক চান সাক্কু সাহসে জামায়াত! 

চলমান সরকারের অধীনে নির্বাচন বর্জন করেছে বিএনপি। আগামী ১৫ জুন অনুষ্ঠেয় কুমিল্লা সিটিতেও কোনো প্রার্থী দেবে না। বিএনপির দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে, কেউ বিদ্রোহী হয়ে নির্বাচন করলে দলীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এমন কঠোর নির্দেশনার মধ্যেও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন বর্তমান মেয়র ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মনিরুল হক সাক্কু ও জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি নিজাম উদ্দিন কায়সার। 

বিএনপির দুবারের নির্বাচিত মেয়র মনিরুল হক সাক্কু প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা ভোটের লড়াই জমে ওঠবে বলে মনে করছেন সবাই। কারণ আওয়ামী লীগ দুবার বিএনপি প্রার্থীর কাছে পরাজিত হয়েছে।

এবারো তেমন কিছু ঘটতে পারে। বিএনপি প্রার্থী ঘোষণা না দিলেও স্থানীয় নেতাকর্মীরা ঠিকই দলের অনুগত ব্যক্তির পক্ষে কাজ করবে। তবে বিএনপির দুই প্রার্থী মাঠে থাকায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। 

ভোটের আগেই সাক্কুর দলীয় আদর্শের আরেক প্রার্থী ইতোমধ্যে সাক্কুকে ক্ষমতাসীন সরকারের অনুগত বলে প্রচারণা চালাচ্ছেন। তবে অপপ্রচার ও ক্ষমতাসীন সরকারের প্রার্থীর সাথে লড়াই করে দুবারের জনপ্রিয়তার মাঠ থেকে হ্যাটট্রিক করার ব্যাপারে দৃঢ় মনোবলে রয়েছেন বলে জানিয়েছেন সাক্কুর নেতাকর্মীরা। 

মাঠপর্যায়ে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মনিরুল হক সাক্কুর এবারের টার্গেট কোনো প্রার্থীর সাথে লড়াই নয়, এবার তিনি লড়বেন আওয়ামী লীগের দলীয় প্রতীকের সাথে। আওয়ামী লীগের দলীয় প্রতীককে হারিয়ে হ্যাটট্রিকের দিকেই নজর দিয়েছেন। প্রায় ১৩ বছর কুমিল্লার জমিনে আধিপত্য করায় তার নেতাকর্মী, সমর্থক আস্থার সীমানা দীর্ঘ হয়েছে। ভক্ত ও জনসমর্থনের আশ্বাসে তিনি এবারো প্রার্থী হয়েছেন। 

এদিকে স্থানীয় একটির ভাষ্য, পেছন থেকে দুবারের মেয়র সাক্কুকে কুমিল্লার জামায়াতে ইসলামী সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে। কুমিল্লাতে বড় একটি ভোট ব্যাংক রয়েছে জামায়াতের। স্থানীয়দের ভাষ্য, জামায়াতের ভোট যেদিকে যাবে কুমিল্লার মেয়র তিনিই হবেন। সাক্কু থাকা অবস্থায় নাগরিক কোনো সুবিধা থেকে জামায়াত বঞ্চিত হয়নি। আড়ালে জামায়াতকে সাপোর্ট দিয়ে গেছেন সাক্কু। জামায়াতের সাপোর্টে এবারো বেলাশেষে সাক্কুর বিজয়ের বড় সম্ভাবনা রয়েছে।

২০১১ সালের ৬ জুলাই কুমিল্লা পৌরসভা ও সদর দক্ষিণ পৌরসভার মোট ২৭টি ওয়ার্ড নিয়ে সিটি কর্পোরেশন গঠিত হয়। ২০১২ সালের ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত প্রথম নির্বাচনে বিএনপি থেকে পদত্যাগ করে নাগরিক কমিটির ব্যানারে নৌকার প্রার্থী অধ্যক্ষ আফজল খানকে হারিয়ে প্রথম মেয়র নির্বাচিত হন কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক মো. মনিরুল হক সাক্কু। 

পরে ২০১৭ সালের ৩০ মার্চ বিএনপির মনোনয়নে সাক্কু নৌকার প্রার্থী আঞ্জুম সুলতানা সীমাকে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো কুসিকের মেয়র নির্বাচিত হন। এরপর দলীয় কর্মকাণ্ডে ‘নিষ্ক্রিয়তার’ অভিযোগ এনে গত বছর মনিরুল হক সাক্কুকে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্যপদ থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়। তবে তিনি কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক পদে রয়েছেন। স্থানীয় রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত রয়েছেন।

মনিরুল হক সাক্কু বলেন, ‘আমি গত দুই মেয়াদে মেয়র হিসেবে সফলভাবে সিটি কর্পোরেশনের কার্যক্রম পরিচালনা করেছি। কুমিল্লার মানুষ আমার ওপর সন্তুষ্ট। আমার দলের নেতাকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের অনুরোধে মনোনয়ন ফরম কিনেছি। নগরবাসীকে দীর্ঘ ১৩ বছর সেবা দিয়েছি।

নেতাকর্মীসহ আমার অনেক ভক্ত সমর্থক রয়েছে তাদের সাথে আলোচনা করে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছি। আমি বিশ্বাস করি, নাগরিকের ভোটে এবার আর কেউ হ্যাটট্রিক ঠেকাতে পারবে না। সুষ্ঠু নির্বাচন হলে আমি বিজয়ী হওয়ার ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী।’

আরেক স্বতন্ত্র প্রার্থী নিজাম উদ্দিন কায়সার বলেন, ‘কিছু আওয়ামী নামধারী বিএনপির নেতা আছে। তাদের বলে জাতীয়তাবাদী আওয়ামী লীগ। তাদের নির্যাতনে দলের নেতাকর্মীরা অতিষ্ঠ। নির্যাতিত নেতাকর্মীদের চাপের মুখে আমি প্রার্থী হয়েছি। আমি শেষ পর্যন্ত ভোটে থাকব।’ 

সংশ্লিষ্ট বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আমার সংবাদকে বলেন,  ‘চলমান সরকারের অধীনে আমরা আর কোনো নির্বাচনে অংশগ্রহণ করব না। এটি আমাদের দলীয় সিদ্ধান্ত। এ নীতিগত সিদ্ধান্ত পরিবর্তন হবে না।

এই সরকার দেশের পুরো নির্বাচন ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে ফেলেছে। তাদের অধীনে কোনো নির্বাচনই সুষ্ঠু হয়নি। জাতীয় নির্বাচন থেকে শুরু করে প্রত্যেক স্থানীয় সরকারের নির্বাচনে তারা ভোটডাকাতি করেছে। কুমিল্লা সিটিতে সুষ্ঠু ভোট হবে এ দেশের মানুষ বিশ্বাস করে না। তাই সিটি কুমিল্লা সিটিতে বিএনপি প্রার্থী দেবে না। এ নিয়ে বিএনপি ভাবেওনি।’