Amar Sangbad
ঢাকা বুধবার, ০৬ জুলাই, ২০২২, ২২ আষাঢ় ১৪২৯

বিদেশ ভ্রমণ বন্ধে ক্ষোভ

বেলাল হোসেন 

বেলাল হোসেন 

মে ১৯, ২০২২, ০১:০২ এএম


বিদেশ ভ্রমণ বন্ধে ক্ষোভ

কর্মকর্তাদের বিদেশ ভ্রমণের নিষেধাজ্ঞা নিয়ে প্রশাসনে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। কথায় ও কাজে তাদের ক্ষোভ ও হতাশার বিষয়টি প্রকাশ পাচ্ছে। আগামী ২২ মে সাতদিনের সফরে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের একজন অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বে আইসিটি বিভাগের চারজন কর্মকর্তা সুইজারল্যান্ড এবং মালয়েশিয়া যাওয়ার কথা। এছাড়াও স্থানীয় সরকার বিভাগের ১০ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল ১৬ মে জাপান ও থাইল্যান্ড প্রশিক্ষণে যাওয়ার কথা ছিল। 

আটদিনের ওই প্রশিক্ষণের বিষয়ে গত এপ্রিলে প্রজ্ঞাপনও জারি করা হয়। অর্থ বিভাগের ১২ মে জারি করা প্রজ্ঞাপনের কারণে প্রশিক্ষণ সফরটি বাতিল করা হয়েছে। খাদ্য নিরাপত্তার বিষয়ে প্রশিক্ষণ নিতে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের ৩২ জন কর্মকর্তার একটি প্রতিনিধি দল ২১ মে ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়া যাওয়ার কথা ছিল। 

প্রজ্ঞাপন জারির আগেই নিষেধাজ্ঞার কারণে তা বাতিল করা হয়েছে। সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ সফরের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করায় এখন পর্যন্ত তিন শতাধিক কর্মকর্তার বিদেশ সফর-সংক্রান্ত জিও (গভর্নমেন্ট অর্ডার) বাতিল করা হয়েছে। এতে করে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কর্মকর্তারা হতাশা প্রকাশ করেছেন। 

গতকাল সচিবালয়ে বেশকিছু মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব ও উপসচিবদের সাথে এ প্রতিবেদকের কথা হলে তারা জানান, বিদেশ সফরে সম্প্রতি বৈষম্য করা হচ্ছে। বিদেশে কোনো বিষয়ের ওপর স্কিল প্রোগ্রাম হলে শুধু বড় স্যাররা নিজেদের নাম লিখিয়ে নেন। এটা এক ধরনের আয়ের কৌশল হয়ে গেছে। তবে বিদেশ সফর বন্ধ হওয়ায় অনেকে উল্লাস প্রকাশ করে বলেছেন দেশের অর্থ সাশ্রয় হবে। 

অপরদিকে কয়েকজন অতিরিক্ত সচিব বলেছেন, বিদেশে গিয়ে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষতা অর্জন করা প্রয়োজন। কর্মকর্তারা তো পর্যায়ক্রমে এসব প্রশিক্ষণে যান। তবে কিছু কর্মকর্তা সরকারি সফরটি পারিবারিক সফরে পরিণত করেছেন। ফলে কর্মকর্তাদের বিদেশ সফর নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তারা সরকারি সফর একেবারেই বন্ধ করায় হতাশা প্রকাশ করেন। 

বিদেশ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞায় পড়া কর্মকর্তারা বলছেন, আগে জিও হওয়ায় অনেক কর্মকর্তা ভিসা, হোটেল বুকিং, বিমান টিকিটসহ যারা সব প্রস্তুতি করে ফেলেছেন, তারা এখন কী করবেন? পরিপত্র অনুযায়ী, ঠিক কোন তারিখ থেকে এবং কী কী কারণে বিদেশ সফর যাওয়া যাবে না, কোন কোন ক্ষেত্রে যাওয়া যাবে, তা নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। 

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জারি করা পরিপত্রের আলোকে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা না থাকায় এক ধরনের বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। বর্তমানে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে অভ্যন্তরীণ ট্রেনিং সেশন ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। 

চলতি সপ্তাহে সচিবালয়ে এক সমীক্ষায় দেখা যায়, বেশির ভাগ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বিভিন্ন ট্রেনিংয়ে এখন ব্যস্ততম সময় পার করছেন। গতকাল জনপ্রশাসন, তথ্য অধিদপ্তর, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়সহ বেশকিছু মন্ত্রণালয়ে ট্রেনিং সেশন দেখা গেছে। মূলত এখানে একদিনের (দুই থেকে তিন ঘণ্টার) ট্রেনিং হয়ে থাকে। 

উল্লেখ্য, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ কমাতে বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ সফর বন্ধের বিষয়ে গত ১২ মে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে পরিপত্র জারি করা হয়েছে। 

পরিপত্রে বলা হয়েছে, করোনাপরবর্তী অর্থনীতি পুনরুদ্ধার ও বর্তমান বৈশ্বিক সংকটের প্রেক্ষাপটে পুনরায় আদেশ না দেয়া পর্যন্ত এক্সপোজার ভিজিট, শিক্ষাসফর, এপিএ এবং ইনোভেশনের আওতামুক্ত ভ্রমণ ও ওয়ার্কশপ বা সেমিনারে অংশগ্রহণসহ সব ধরনের বৈদেশিক ভ্রমণ বন্ধ থাকবে। এ আদেশ উন্নয়ন বাজেট ও পরিচালন বাজেট উভয় ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। অবিলম্বে আদেশটি কার্যকর হবে। 

সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ সফরের বিষয়ে বলেন, আমরা এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছি। 

এখন থেকে প্রধানমন্ত্রী পরিষ্কারভাবে বলে দিয়েছেন, বিদেশ সফর আর নয়। যদি বিশেষ কারণে কর্মকর্তাদের বিদেশ সফরে যেতে হয়, তাহলেই যাবেন, অন্যথায় নয়। সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ সফর কমানো হচ্ছে, আরও কমানো হবে। 

এরপর গত ১৬ মে রাষ্ট্রায়ত্ত, স্বায়ত্তশাসিত, আধা সরকারি প্রতিষ্ঠান এবং রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীদেরও বিদেশ ভ্রমণ সীমিতকরণের নির্দেশ দেয় অর্থ মন্ত্রণালয়।

এতে বলা হয়, পরিচালন ও উন্নয়ন বাজেটের আওতায় রাষ্ট্রায়ত্ত, স্বায়ত্তশাসিত, আধা সরকারি প্রতিষ্ঠান এবং রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীদেরও বিদেশ ভ্রমণ বন্ধ থাকবে।