Amar Sangbad
ঢাকা বুধবার, ০৬ জুলাই, ২০২২, ২২ আষাঢ় ১৪২৯

সাংগঠনিক কার্যক্রমে ব্যস্ত আ.লীগ

রফিকুল ইসলাম 

রফিকুল ইসলাম 

মে ২৪, ২০২২, ০১:৫১ এএম


সাংগঠনিক কার্যক্রমে ব্যস্ত আ.লীগ

জাতীয় সম্মেলন সামনে রেখে ব্যস্ত আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য সাধারণ সম্পাদক পদপ্রত্যাশীরা। তারা দলীয় এবং দিবসভিত্তিক অনুষ্ঠানগুলোতে যোগ দিচ্ছেন নিয়মিত। কেউ কেউ জেলা-উপজেলার সম্মেলনে যোগ দিয়ে নিজেদের অবস্থান জানান দিচ্ছেন। তাদের টার্গেট যেকোনো মূল্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃষ্টিতে আসা। যদিও সম্মেলনে নিজেদের প্রার্থিতার বিষয়ে কথা বলতে নারাজ তারা। 

সূত্রে জানা যায়, আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দলের ২২তম জাতীয় সম্মেলনকে ব্যাপক গুরুত্বের সাথে দেখছেন আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা। চ্যালেঞ্জিং এ নির্বাচনের আগে দলকে সাংগঠনিকভাবে আরও শক্তিশালী করতে চান তারা। সর্বশেষ দলের কার্যনির্বাহী সংসদের সভায় এমন বার্তা দিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। 

বিশেষ করে জাতীয় সম্মেলনের আগে মেয়াদোত্তীর্ণ জেলা-উপজেলার সম্মেলন করতে বিভাগীয় দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের নির্দেশনাও দিয়েছেন তিনি। দ্রুত সময়ের মধ্যে সমাধানের তাগিদ দিয়েছেন তৃণমূলের সৃষ্ট দ্বন্দ্ব, বিভেদ, বিভাজন ও বিভক্তি দূর করতে। 

দল থেকে ছেঁটে ফেলতে বলেছেন বিতর্কিত ও অনুপ্রবেশকারীদের। মূলত দ্বাদশ নির্বাচনকে বেশ চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিচ্ছেন বঙ্গবন্ধুকন্যা। এজন্য নির্বাচনের আগে কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত দলকে সাংগঠনিকভাবে আরও শক্তিশালী করতে চান তিনি।  

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দলের জাতীয় সম্মেলন এবং দ্বাদশ নির্বাচনের চিন্তা মাথার রেখেই জেলা-উপজেলা পর্যায়ের সম্মেলনে তোড়জোড় এখন আওয়ামী লীগে। প্রায় প্রতিদিন দেশের কোথাও না কোথাও সম্মেলন হচ্ছেই। তুলে আনা হচ্ছে দলের দুর্দিনের ত্যাগী, পরীক্ষিত, পরিশ্রমী ও মেধাবিদের। মাঠ ও ভোটের রাজনীতিতে শক্তিশালী আওয়ামী লীগ গঠনে বিতর্কিত, হাইব্রিড, অনুপ্রবেশকারী ও সুবিধাভোগীদের দল থেকে বাদ দেয়া হচ্ছে। শুধু তাই নয়, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে তৈরি করা হচ্ছে বিতর্কিত এমপি-মন্ত্রীদের আমলনামা। 

তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সাথে এমপিদের কি ধরনের সম্পর্ক, স্থানীয় সরকারের নির্বাচনগুলোতে নৌকার পক্ষে কার কি অবস্থান ছিল,  দলের অভ্যন্তরে কে কে গ্রুপিং তৈরি করছে, এমপি-মন্ত্রীদের স্ত্রী-সন্তান ও পরিবার কোথায় কোথায় আওয়ামী লীগের রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ করছেন— তা নিয়ে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা হচ্ছে। আওয়ামী লীগের টার্গেট যেকোনো মূল্যে নির্বাচনের আগে তৃণমূলকে ঐক্যবদ্ধ ও শক্তিশালী করা। 

জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাইদ আল মাহমুদ স্বপন আমার সংবাদকে বলেন, তৃণমূলে মেয়াদোত্তীর্ণ ইউনিটে সম্মেলন ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। এটি দলের জাতীয় সম্মেলনেরও অংশ। জাতীয় সম্মেলনের আগে মেয়াদোত্তীর্ণ ইউনিট সম্মেলনকে সব সময় গুরুত্ব দেয়া হয়। এবারো তার ব্যতিক্রম হচ্ছে না। 

তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগ একটি গতিশীল রাজনৈতিক দল। এই দলের নেতাকর্মীরা গণতন্ত্রে বিশ্বাসী। তাই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নেতৃত্ব তৈরি করা হচ্ছে। বিতর্কিত, হাইব্রিড ও অনুপ্রবেশকারীদের বাদ দিয়ে যোগ্য এবং ত্যাগীদের নেতৃত্বে নিয়ে আসা হচ্ছে। ত্যাগীদের মূল্যায়নের মধ্যে দিয়ে আওয়ামী লীগ সাংগঠনিকভাবে আরও শক্তিশালী হবে।  
   
আ.লীগ সূত্রে জানা যায়, দলের ২২তম জাতীয় সম্মেলনে সবার দৃষ্টি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পদটি ঘিরে। মূলত এবারো সভাপতি হিসেবে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার বিকল্প দেখছেন না আওয়ামী লীগের সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা। 

তবে তার সাথে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ওবায়দুল কাদের তৃতীয় মেয়াদে দায়িত্ব পাচ্ছেন নাকি নতুন কেউ আসবে তা নিয়ে জোর গুঞ্জন শুরু হয়েছে। শারীরিক সমস্যার কারণে এবার কাদের বাদ পড়ার গুঞ্জন বেশ তুঙ্গে। ফলে সাধারণ সম্পাদক পদে বেশকিছু নাম ঘুরে ফিরে আলোচনায় উঠে আসছে। 

এদের মধ্যে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক, অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক, আব্দুর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ, তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক, মির্জা আজম। যদিও নিজ নিজ প্রার্থিতা নিয়ে কথা বলতে নারাজ পদপ্রত্যাশীরা। 

তাদের দাবি, সুসংগঠিত ও স্মার্ট আওয়ামী লীগ গঠনে বদ্ধপরিকর দলের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। নেতৃত্ব নির্বাচনে তার সিদ্ধান্তই সব। তিনি যে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন বা যাকে সাধারণ সম্পাদক করবেন, পদপ্রত্যাশীরা সবাই তার নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধভাবে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করবেন।   

জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী জাফর উল্লাহ আমার সংবাদকে বলেন, আগামী ডিসেম্বরে নির্ধারিত সময়েই আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। এই সম্মেলনকে ঘিরে সব ধরনের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। 

তিনি আরও বলেন, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এবার আওয়ামী লীগের সম্মেলন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে তৃণমূল পর্যায়ে আওয়ামী লীগকে সাংগঠনিকভাবে আরও শক্তিশালী করতে হবে। সংগঠনকে নতুনভাবে সাজাতে হবে। এজন্য মেয়াদোত্তীর্ণ ইউনিটগুলোকেও গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।