রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে শ্রীলঙ্কাকে হারাল দক্ষিণ আফ্রিকা

রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে শ্রীলঙ্কাকে হারাল দক্ষিণ আফ্রিকা

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার টুয়েলভে নিজেদের তৃতীয় ম্যাচে শ্রীলঙ্কাকে ৪ উইকেটের ব্যবধানে হারিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। এই জয়ের মধ্য দিয়ে তিন ম্যাচের দুটিতে জয় পেয়েছে প্রোটিয়ারা। অন্যদিকে দুই হারের বিপরীতে একটিতে জয় পেয়েছে শ্রীলঙ্কা।

শনিবার (৩০ অক্টোবর) শারজাহ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে টস জিতে শ্রীলঙ্কাকে ব্যাটিংয়ে পাঠায় দক্ষিণ আফ্রিকা। প্রথমে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ১৪২ রানে অলআউট হয়ে যায় লঙ্কানরা। জবাবে ব্যাট করতে নেমে এক বল এবং ৪ উইকেট হাতে রেখে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় প্রোটিয়ারা। দলটির পক্ষে সর্বোচ্চ ৪৬ রান করেছেন অধিনায়ক টেম্বা ভুবামা। এ জন্য সমান সংখ্যক বল খেলেছেন তিনি। কিন্তু দলের জয়ের জন্য যখন ১৭ বলে ৩৩ রান প্রয়োজন ঠিক তখনই বাউন্ডারিতে ক্যাচ তুলে দেন তিনি। এ সময় মাঠে নামেন প্রিটোরিয়াস। কিন্তু তিনিও প্রথম বলেই আউট হয়ে যান। এর মধ্য দিয়ে চলমান বিশ্বকাপে দ্বিতীয় বোলার হিসেবে হ্যাট্টিক পূর্ণ করলেন লঙ্কান স্পিনার হাসারাঙ্গা। এর আগে ১৫তম ওভারের শেষ বলে মারকামের উইকেট নিয়েছিলেন হাসারাঙ্গা। বাকি দুটি উইকেট শিকার করেন ১৭তম ওভারের প্রথম দুই বলে।

এরপর আর উইকেট হারাতে দেননি ডেভিড মিলার ও রাবাদা। ম্যাচ জিতিয়েই মাঠ ছাড়েন তারা। এর মধ্যে শেষ ওভারে জয়ের জন্য দরকার হয় ১৫ রান। ওভার করতে আসেন লাহিরু কুমারা। প্রথম বলে ১ রান নিয়ে মিলারকে স্ট্রাইক দেন রাবাদা। দ্বিতীয় ও তৃতীয় বলে বিশাল দুটি ছক্কা মারেন মিলার। শেষ তিন বলে প্রয়োজন হয় ২ রানের। মিলার সিঙ্গেল নেন। পরের বলেই বাউন্ডারি হাঁকিয়ে জয় নিশ্চিত করেন রাবাদা।

এর আগে টস হেরে সাবধানী ব্যাটিংয়ে ইনিংসের শুরুটা করে শ্রীলঙ্কা। ইনিংসের চতুর্থ ওভারে কুশল পেরেরাকে ফিরিয়ে ওপেনিং জুটি ভাঙেন আনরিখ নর্কিয়ে। ১০ বলে ৭ রানে ফেরেন পেরেরা। প্রথম জুটিতে লঙ্কানরা স্কোরবোর্ডে তোলে ২০ রান। এরপরেই কমতে থাকে শ্রীলঙ্কার রানের গতি।

কুশল পেরেরা ফিরলে চারিথ আসালানকাকে সঙ্গে নিয়ে কিছুটা প্রতিরোধ গড়েন ওপেনার নিশানকা। এই জুটিতে আসে ৪০ রান। আসালানকাকে ২১ রানে রান আউট হলে ভাঙে এই জুটি।

মাঝে লঙ্কানদের মিডল অর্ডার নাড়িয়ে দেন তাবরাইজ শামসি। একে একে ফিরিয়ে দেন অভিষ্কা ফার্নান্দো, ভানুকা রাজাপাকসা ও ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গাকে। দ্রুত ৫ উইকেট হারিয়ে কিছুটা চাপে পড়ে যায় লঙ্কানরা। সেখান থেকে দলকে উদ্ধার করেন হাসারাঙ্গা। ওপেনিংয়ে নেমে ১৯ ওভার পর্যন্ত টিকে ছিলেন তিনি। তাঁর ব্যাটে ভর করেই নির্ধারিত ওভারে লড়াইয়ের পুঁজি পায় শ্রীলঙ্কা।

বল হাতে দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে ১৭ রান দিয়ে সর্বোচ্চ তিনটি উইকেট নেন শামসি। ম্যাচ সেরার পুরস্কারও পেয়েছেন তিনি। সমান তিনটি উইকেট নিয়েছেন ডোয়াইন প্রিটোরিয়াস। দুটি উইকেট নিয়েছেন আনরিখ নর্কিয়ে।

আমারসংবাদ/ইএফ