স্পোর্টস ডেস্ক
জুন ৯, ২০২৬, ১২:৪৪ পিএম
বিশ্বকাপে ষষ্ঠ শিরোপা জয়ের লক্ষ্যে মাঠে নামতে যাচ্ছে ব্রাজিল ফুটবল দল। তবে বিশ্বমঞ্চের এই মহাযজ্ঞ শুরুর আগে সেলেসাওদের প্রতি ভক্ত ও সমালোচকদের আরও বেশি সম্মান দেখানোর আহ্বান জানিয়েছেন ব্রাজিলিয়ান মিডফিল্ডার ব্রুনো গিমারায়েস।
সর্বশেষ ২০০২ সালে বিশ্বকাপ জিতেছিল ব্রাজিল। এরপর অনুষ্ঠিত পাঁচটি বিশ্বকাপের মধ্যে চারবারই তাদের যাত্রা থমকে গেছে কোয়ার্টার ফাইনালে। এবার উত্তর আমেরিকায় অনুষ্ঠিত ২০২৬ বিশ্বকাপে ব্রাজিল অংশ নিচ্ছে ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের ষষ্ঠ স্থানে থেকে। অতীতের মতো বিশ্ব ফুটবল শাসন করা সুপারস্টারদের উপস্থিতি বর্তমান দলে তুলনামূলক কম থাকায় নানামুখী সমালোচনাও হচ্ছে।
নিউ জার্সিতে ব্রাজিল দলের বেস ক্যাম্পে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে নিউক্যাসল ইউনাইটেডের মিডফিল্ডার ব্রুনো গিমারায়েস বলেন, অন্য কোনো দলের জার্সিতে পাঁচটি বিশ্বকাপজয়ী তারকা বা ঐতিহ্য নেই। আমাদের বর্তমান স্কোয়াডে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ও রাফিনিয়ার মতো বিশ্বমানের খেলোয়াড় রয়েছে, যারা বিশ্বের সেরা ক্লাবগুলোর হয়ে নিয়মিত খেলছে। তাই আমাদের ফুটবলারদের তাদের প্রাপ্য সম্মান দেওয়া উচিত।
কোচ কার্লো আনচেলত্তির অধীনে ব্রাজিল দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চলের বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে পঞ্চম স্থানে থেকে কোনোমতে মূল পর্বে জায়গা করে নেয়। বাছাইয়ে তারা শীর্ষে থাকা চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আর্জেন্টিনার চেয়ে ১০ পয়েন্ট পিছিয়ে ছিল। আগামী শনিবার নিউ ইয়র্কের উপকণ্ঠে অবস্থিত মেটলাইফ স্টেডিয়ামে মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে ব্রাজিলের এবারের বিশ্বকাপ অভিযান।
বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে নামার আগে দুটি প্রস্তুতি ম্যাচেই দারুণ জয় পেয়েছে ব্রাজিল। রিও ডি জেনিরোতে পানামাকে ৬-২ গোলে উড়িয়ে দেওয়ার পর ওহাইওর ক্লিভল্যান্ডে মিসরকে ২-১ ব্যবধানে পরাজিত করেছে তারা।
মিসরের বিপক্ষে জয়সূচক গোল করা গিমারায়েস বলেন, এর চেয়ে ভালো অনুভূতি আর হতে পারে না। আমরা দুটি ম্যাচই জিতেছি এবং মাঠে ভালো ফুটবল খেলেছি। কিছু বিষয়ে আরও উন্নতি করার সুযোগ রয়েছে, তবে আমরা নিজেদের পুরোপুরি প্রস্তুত বলেই মনে করছি।
তিনি আরও বলেন, মূল বিশ্বকাপ শুরু হয়ে গেলে বাছাইপর্বের বা আগের সব ব্যর্থতা মানুষ ভুলে যায়। আমরা চাই প্রথম ম্যাচেই জয় দিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করতে, যাতে সামনের কঠিন পথচলার জন্য একটি শক্ত ভিত্তি তৈরি হয়।
বিশ্বকাপের গ্রুপ ‘সি’-তে ব্রাজিলের অন্য দুই প্রতিপক্ষ তুলনামূলক দুর্বল হাইতি ও স্কটল্যান্ড। এদিকে দলের প্রাণভোমরা নেইমার গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলোতে আদৌ খেলতে পারবেন কি না, তা নিয়ে এখনও অপেক্ষায় রয়েছে সেলেসাও শিবির।
বার্সেলোনা ও প্যারিস সেন্ট জার্মেইনের সাবেক এই বিশ্বসেরা তারকার বয়স এখন ৩৪ বছর। বর্তমানে তিনি খেলছেন ব্রাজিলের ঘরোয়া ক্লাব সান্তোসে। ২০২৩ সালের পর থেকে চোটের কারণে জাতীয় দলের হয়ে আর কোনো আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেননি তিনি।
তা সত্ত্বেও নেইমারকে বিশ্বকাপ স্কোয়াডে অন্তর্ভুক্ত করে বড় ধরনের এক ঝুঁকি নিয়েছিলেন ইতালিয়ান কোচ আনচেলত্তি। কিন্তু শেষ মুহূর্তে পায়ের পেশীতে নতুন করে চোট পেয়ে দুই থেকে তিন সপ্তাহের জন্য মাঠের বাইরে চলে যান এই ফরোয়ার্ড।
এরই মধ্যে চোটের কারণে মূল স্কোয়াডে একটি পরিবর্তন আনতে বাধ্য হয়েছে ব্রাজিল। উরুর চোটে বিশ্বকাপ থেকে সম্পূর্ণ ছিটকে গেছেন রোমার ফুলব্যাক ওয়েসলি। তাঁর জায়গায় জরুরি ভিত্তিতে দলে নেওয়া হয়েছে ২৬ বছর বয়সী মিডফিল্ডার এডারসনকে। ইতালিয়ান ক্লাব আতালান্তার হয়ে খেলা এই ফুটবলার বিশ্বকাপ শেষে ইংলিশ ক্লাব ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে যোগ দিতে পারেন বলে জোরালো গুঞ্জন রয়েছে।
সতীর্থ ওয়েসলির দ্রুত সুস্থতা কামনা করে গিমারায়েস আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, বিশ্বকাপে দেশের হয়ে খেলা একজন ফুটবলারের ক্যারিয়ারের সর্বোচ্চ অর্জনগুলোর একটি। আমরা আশা করি ওয়েসলি এই মানসিক ধাক্কা কাটিয়ে দ্রুত সুস্থ হয়ে মাঠে ফিরবে।
এএন