Amar Sangbad
ঢাকা শনিবার, ১৩ আগস্ট, ২০২২, ২৯ শ্রাবণ ১৪২৯

‘শান্ত’ নীতিতে বিএনপি

আবদুর রহিম

আগস্ট ৬, ২০২২, ১২:৪১ এএম


‘শান্ত’ নীতিতে বিএনপি

‘শান্ত’ চলা নীতি গ্রহণ করেছে বিএনপি। দ্বাদশ নির্বাচনের আগে যেকোনো পরিস্থিতি ঠাণ্ডা মেজাজে মোকাবিলা করা হবে। হাঙ্গামা পুলিশ কিংবা রাজনৈতিক আক্রমণে নেতাকর্মীদের হারালেও বড় কোনো প্রতিবাদে যাবে না।

আন্দোলন সংগ্রামে রাজপথে বিশৃঙ্খলাও করা হবে না। হরতাল-অবরোধ, বৃহৎ অবস্থানের মতো কোনো কর্মসূচিতেও যাবে না। বিশেষ কয়েকটি দেশের ইঙ্গিতে নির্বাচন পর্যন্ত চুপ থাকবে।

গত সপ্তাহে পুলিশের গুলিতে ভোলা জেলা ছাত্রদলের সভাপতি নূরে আলম ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা আবদুর রহিমকে হারালেও প্রতিবাদে বড় কোনো ভূমিকায় যায়নি দলটি। এ নিয়ে দল থেকে শোক ও দুদিন প্রতিবাদ কর্মসূচি ঘোষণা করেই ‘শান্ত’ রয়েছে।

জানা যায়, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি নিহত হলে গত বৃহস্পতিবার ভোলায় সকাল-সন্ধ্যা হরতাল ডেকেছিল দলটি। কিন্তু হরতালের কয়েক ঘণ্টা পর দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় সংবাদ সম্মেলন করে হরতাল প্রত্যাহার করে নেন।

বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হয়,  জনগণের ভোগান্তির কথা বিবেচনা করে সকাল-সন্ধ্যা হরতালের পরিবর্তে আধাবেলা পালনের সিদ্ধান্ত হয়। এ নিয়ে দলের নির্ভরযোগ্য সূত্রগুলো বলছে— হরতালের ঘোষণা কয়েকটি বিশেষ দেশ বিএনপির ওপর অসন্তোষ প্রকাশ করে।

তাদের সন্তুষ্টি রাখতে এ মুহূর্তে ইস্যু থাকলেও বড় কোনো সিদ্ধান্তে যাবে না। বাংলাদেশে পশ্চিমা কয়েক দেশের ভবিষ্যৎ ব্যবসা পরিকল্পনা রয়েছে। হরতালের মাধ্যমে অর্থনৈতিক সেক্টরে কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়ুক কেউ চায় না।

তাই ইস্যু থাকলেও এখনই সেটি কাজে লাগনোর চিন্তা বিএনপির পক্ষ থেকে নেয়া হচ্ছে না। আগামী নির্বাচনে আন্তর্জাতিক সহানুভূতি ও সব ধরনের কূটনৈতিক ফসল ঘরে রাখতে এখনই খারাপ পরিবেশে বিএনপি পা বাড়াবে না।

আগামী নির্বাচন পর্যন্ত রাজনৈতিক পদক্ষেপ গুলো রাজনৈতিক অস্ত্র দিয়ে কৌশলে মোকাবিলা করা হবে।  ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের অধীনে কোনো নির্বাচনে অংশ না নেয়ার যে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে এর সাথে আরো কিছু দলকেও একমত করাতে বৈঠক সমঝোতা চালাচালি চলছে।

সরকারবিরোধী ‘বৃহত্তর রাজনৈতিক জোট’ গড়তে এরই মধ্যে ছোট-বড় সমমনা ডান-বাম ও ইসলামি ২২টি দলের সাথে প্রাথমিক সংলাপ শেষ করেছে বিএনপি। এর মধ্যে ২০ দলীয় জোটের শরিক দলের বাইরে ‘গণতন্ত্র মঞ্চে’-এর শরিক পাঁচটি দলের সাথে সংলাপ করে দলটি। ঘরোয়াভাবে শান্তিপূর্ণ পদক্ষেপগুলো শেষ করছে। ঐক্যবদ্ধতার একাদশ রূপে এবারো মির্জা ফখরুল চলছেন। তবে নেতৃত্বের ব্যাপারে এখন থেকেই প্রশ্ন তোলা হচ্ছে।

লন্ডনে বসে ঢাকায় রাজনীতি নেতৃত্ব কেউ গ্রহণ করছেন না। তারেক রহমানকে দেশের আসার আহ্বান করা হচ্ছে। সিনিয়র অগ্রাধিকার দিয়ে নেতৃত্বর জন্য দাবি তোলা হচ্ছে। এলডিপির সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদকে নেতা বানাতে অনেকেই দাবি তুলছে।

কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম তিনি প্রকাশ্যে বলেছেন,  সুদূর লন্ডন থেকে নয়— আগামী দিনে কঠিন সময়ে রাজনৈতিক মাঠে সশরীরে উপস্থিত থেকেই নেতৃত্ব দিতে হবে।

তবে বিএনপির পক্ষ থেকে অন্য কোনো জোটের কাউকে নেতা হিসেবে গ্রহণ করছে না। ক্ষমতার ভারসাম্য নিয়েও বিএনপির কাছে প্রস্তাব তুলে ধরা হয়েছে। বিএনপি আন্দোলনের অংশ হিসেবে সবার কথা মনোযোগ দিয়ে শুনছে। সরকারকে সরাতে রাজনৈতিক পদক্ষেপ চাচ্ছে। মেতের ঐক্যমত চাচ্ছে।

আন্দোলন নিয়ে প্রস্তাব আসলে পাশ কাটিয়ে যাচ্ছে। আন্দোলনের কৌশলের কথা বলছেন। দেশ অচলের মতো কোনো চিন্তায় বিএনপি যাচ্ছে না। আরো ‘শান্ত’ থেকে নির্বাচনের মাঠ পর্যন্ত ধৈর্য ধরা হচ্ছে।

এ নিয়ে জানতে চাইলে কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম আমার সংবাদকে বলেছেন, ‘দীর্ঘ সময় খালেদা সরকারের দেয়া শর্তে মুক্তি রয়েছে। জেল খেটেছেন লম্বা সময়। হয়ে গেছেন অসুস্থ। শীর্ষ নেতা ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান লন্ডনে রয়েছেন। এখন সেখান থেকে ভার্চুয়ালি নেতৃত্ব দিচ্ছেন। কিন্তু আন্দোলন-সংগ্রামের সময় দেশে সশরীরে থেকে নেতৃত্ব দেয়ার মতো যোগ্য ও সুনির্দিষ্ট নেতা লাগবে।

তিনি মনে করেন, অন্যরাও বিষয়টি এভাবে চিন্তা করছেন। তবে এটুকু ধারণা করছি— রাজনীতিতে এখন আর অতীত নিয়ম অনুসরণ করলে চলবে না। রাস্তা বন্ধ করে দিলেই সরকারের পতন হবে না। যুগের সাথে সময়ের সাথে অনেক কিছুর পরিবর্তন হয়েছে। এ জন্য বিএনপিও নীরবে থেকে কাজ করছে। রাজনৈতিক পাল্টা আক্রোমণে যাচ্ছে না।’

এ ব্যাপারে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘বিএনপি সব সময় আন্দোলন করে যাচ্ছে। হাজার হাজার নেতা গুম-খুনের শিকার হয়েছে। এবারো পুলিশের গুলিতে দুজন শীর্ষ নেতা নিহত হয়েছেন। এ সরকার বিএনপিকে নিয়ে ষড়যন্ত্র করছে। তারা চাচ্ছে বিএনপি ভাঙচুর করুক। কিন্তু বিএনপি তা করবে না। বিএনপি জনগণের দল, গণতন্ত্রের দল। জনগণের ভাষাকে আগে অগ্রাধিকার দেয়া হবে। তাই শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিই বিএনপির অন্যতম অস্ত্র।’