Amar Sangbad
ঢাকা বুধবার, ৩০ নভেম্বর, ২০২২, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৯

জয়িতার গানেও বেঁচে থাকবেন প্রয়াত আলাউদ্দীন আলী

বিনোদন প্রতিবেদক

বিনোদন প্রতিবেদক

সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২২, ০২:৩৬ এএম


জয়িতার গানেও বেঁচে থাকবেন প্রয়াত আলাউদ্দীন আলী

ঢাকা কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মুক্তা সাহার কন্যা অনন্যা জয়িতা। জয়িতার দুটি স্বপ্ন ছিল একটি স্থাপত্যবিদ্যায় পড়াশোনা করা এবং অন্যটি প্রয়াত বরেণ্য সুরস্রষ্টা আলাউদ্দীন আলীর সুরে গান গাওয়া। প্রথম স্বপ্নটি জয়িতা নিজের মেধায় পূরণ করেছেন। পড়ছেন শাহজালার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থাপত্যবিদ্যায়। কিন্তু দ্বিতীয় স্বপ্নটি পূরণ করতে এগিয়ে এলেন তার মা মুক্তা সাহা।

খুব ছোটবেলা থেকেই শাহনাজ রহমতুল্লাহ, রুনা লায়লা, সাবিনা ইয়াসমিন ও মিতালী মুখার্জির যে গানগুলো গেয়ে গেয়ে অভ্যস্ত জয়িতা, তার মধ্যে অধিকাংশ গানেরই সুরকার আলাউদ্দীন আলী। যে কারণে মায়ের কাছে একসময় জয়িতা বায়না ধরে আলাউদ্দীন আলীর সুরে গান গাওয়ার।

২০১৮ সালের ডিসেম্বরে এক দিন সুযোগ হলো জয়িতার আলাউদ্দীন আলীকে গান শোনানোর। আর তখনই আলাউদ্দীন আলী জয়িতার মাঝে নতুন এক সম্ভাবনা দেখতে পেলেন। জয়িতার কণ্ঠে মুগ্ধ হয়ে জয়িতারই জন্য আলাউদ্দীন আলী চারটি গান লিখলেন এবং সুর করলেন। আলাউদ্দীন আলীর ইচ্ছে লাি একটি অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে জয়িতাকে সবার সামনে তুলে ধরবেন। কিন্তু তার আগেই চলে গেলেন তিনি। কিন্তু জয়িতা আর তার মা আলাউদ্দীন আলীর সেই স্বপ্ন পূরণ করেছেন জয়িতার কণ্ঠের প্রথম গানের অ্যালবাম ‘প্রাণের মানুষ’ প্রকাশের মধ্য দিয়ে।

গানগুলোর শিরোনাম হচ্ছে ‘সন্ধ্যা আকাশ’, ‘যে কথা বলতে পারি না’, ‘তোমার মন ছিলো না বলে’ ও ‘প্রাণের মানুষ’। গানগুলোর সংগীতায়োজন করেছেন ফোয়াদ নাসের বাবু।

আলাউদ্দীন আলীকে নিয়ে স্মৃতিচারণ এবং নিজের স্বপ্নপূরণ হওয়া প্রসঙ্গে অনন্যা জয়িতা বলেন, ‘স্যারের ছোট মেয়ের নাম রাজকন্যা। তিনি আমাকে এতটাই স্নেহ করতেন যে, আমাকে আদর করে বড় রাজকন্যা ডাকতেন। আমি কখনো ভাবতেও পারিনি যে, স্যার আমার জন্য গান লিখেবেন, সুর করবেন। কিন্তু আমার মা সেই স্বপ্ন পূরণ করতেই উদ্যোগী হন।

স্যারের ইচ্ছে ছিল আমাকে একটি অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে সবার সামনে আনতে। কিন্তু স্যারই আজ নেই। ভাবলেই খুব কষ্ট হয়। এরই মধ্যে গানগুলো প্রকাশিত হলো। আজ তিনি বেঁচে থাকলে সবচেয়ে বেশি খুশি হতেন তিনি। আমার শেষ গানগুলোর মধ্য দিয়েও স্যার বেঁচে থাকবেন, এটাই আমার প্রাপ্তি। স্যার যেন স্বর্গবাসী হন— সে প্রার্থনা করি। আর স্যারের স্ত্রী শ্রদ্ধেয় মিমি আন্টির প্রতি আমি কৃতজ্ঞ।’

গানে জয়িতার হাতেখড়ি মায়ের কাছেই। পরবর্তীতে লুৎফুল হাসান মিলন, ২০০৭ থেকে সঞ্জীব দে’র কাছে ক্লাসিক্যাল, ছায়ানটে নজরুল সংগীতের সব কোর্স প্রায় সম্পন্ন করেছেন।
 

Link copied!