Amar Sangbad
ঢাকা রবিবার, ০৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩, ২৩ মাঘ ১৪২৯

মরুর বুকে জ্বলে উঠতে পারেন যারা

ক্রীড়া প্রতিবেদক

ক্রীড়া প্রতিবেদক

নভেম্বর ২১, ২০২২, ০১:৪১ এএম


মরুর বুকে জ্বলে উঠতে পারেন যারা

মরুর বুকে বাঁশি বেজে উঠেছে; শুরু হয়ে গেছে ফুটবলের মহারণ। দ্য গ্রেটেস্ট শোন অন আর্থ ফুটবল বিশ্বকাপ; যার দামামায় মেতে উঠেছে সারা বিশ্ব। এবারের আসরে লিওনেল মেসি এবং ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর ওপর থাকবে বাড়তি নজর। 

এক যুগেরও বেশি সময় ধরে বিশ্ব ফুটবলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন এই দুই তারকা। খুব সম্ভবত এটিই তাদের শেষ বিশ্বকাপ। কি নেই লিওনেল মেসি! ক্লাব ফুটবলের প্রায় সব রেকর্ডই তো নিজের করে নিয়েছেন এই তারকা। আন্তর্জাতিক ট্রফির স্বাদও নিয়েছেন গত বছর। এখন শুধু একটা প্রাপ্তিই বাকি; তা হলো বিশ্বকাপ।

এই বিশ্বকাপের ট্রফিতে একটি চুমু আঁকতে পারলেই ষোল কলা পূরণ হবে লিওনেল মেসির। আর এই ষোলকলা পূরণ করার জন্য এবার মরুর বুকে জ্বলে উঠতে পারেন আর্জেন্টাইন এই সুপারস্টার। ১৯৯৬ সালে সর্বশেষ বিশ্বকাপ জিতেছিল আর্জেন্টিনা। দীর্ঘদিন শিরোপা খরা কাটাতে এবার মরিয়া মেসি। একটি বিশ্বকাপ জিততে এটাই সম্ভবত মেসির শেষ সুযোগ।

টানা ৩৬ ম্যাচে হার নেই লিওনেল স্কালোনির দলের। তাইতো আত্মবিশ্বাসটাও রয়েছে তুঙ্গে। ২০১৪ সালে বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠলেও শিরোপা ছুঁয়ে দেখতে পারেননি দলের প্রাণ ভোমরা লিওনেল মেসি। তবে টুর্নামেন্ট সেরার গোল্ডেন বল পুরস্কারটি উঠেছিল তার হাতেই। চলতি বছরেও দারুণ ফর্ম নিয়েই কাতারে এসেছেন মেসি। জাতীয় দল এবং ক্লাব পর্যায়ে নিয়মিতই করছেন গোল।

এছাড়া সতীর্থদের দিয়ে গোলও করাচ্ছেন সাত বারের ব্যালন ডি-অর জয়ী তারকা। ২০২১ সালে কোপা আমেরিকা কাপে গোল্ডেন বল ও গোল্ডেন বুট দুটিই পেয়েছিলেন মেসি। জাতীয় দলের হয়ে এ পর্যন্ত ১৬৪ ম্যাচে ৯০ গোল করেছেন তিনি। তাই শেষ বিশ্বকাপটা নিজের করে রাখতে সর্বোচ্চ চেষ্টাই করবেন গ্রহের অন্যতম সেরা এই ফুটবলার।

অন্যদিকে আলোচনায় আছেন পর্তুগিজ সুপারস্টার ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। লিওনেল মেসির মতো তারও সম্ভবত এটিই শেষ বিশ্বকাপ। রোনালদো ক্লাব পর্যায়ে অনেক কিছুই জিতেছেন। ব্যালন ডি-অর জিতেছেন পাঁচবার। বয়স তার প্রায় ৩৮ ছুঁই ছুঁই। এই বয়সে তার বুটজোড়া তুলে রাখারই কথা। তাতে কি! বয়স হলেও রোনালদোর গতি এবং গোল করার ক্ষুধা কোনোটাই কমেনি। জাতীয় দলের হয়ে ১৯১ ম্যাচে তার মোট গোল ১১৭টি। রোনালদোরও এই বিশ্বকাপই শেষ বিশ্বকাপ খুব সম্ভবত। ফর্মেও রয়েছেন বেশ ভালো; তাই বলায় যাচ্ছে এই আসরে তিনিও জ্বলে উঠতে পারেন। ব্রাজিলিয়ান তারকা নেইমার; তিনিও রয়েছেন বেশ আলোচনায়। পিএসজির হয়ে দারুণ সময় পার করছেন ব্রাজিলিয়ান এই ফরোয়ার্ড।

সমপ্রতি নেইমার বলেছেন, নিজের শেষ বিশ্বকাপ হিসেবেই এবারের বিশ্বকাপ খেলবেন তিনি। যদিও বয়স ৩০। আরেকটি বিশ্বকাপ খেলতেই পারেন। তবে ঘন ঘন ইনজুরি ও বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে নেইমারের স্বাভাবিক খেলায় বেশ ব্যাঘাত ঘটে। তবে সমপ্রতি চমৎকার ফর্মে আছেন এই ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড। তাই এই বিশ্বকাপে বিশেষ কিছু করতে চান নেইমার। দলটিও বেশ ভারসাম্যপূর্ণ। জাতীয় দলের জার্সি গায়ে ১২১ ম্যাচে ৭৫ গোল করেছেন নেইমার। ব্রাজিলিয়ান এই তারকার এখনো বিশ্বকাপটা ছুঁয়ে দেখা হয়নি। তাই এবার হয়তো সামর্থ্যরে সবটুকু দিয়ে চেষ্টা করবেন তিনি। ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স; চ্যাম্পিয়ন দলের অংশ ছিলেন ফরোয়ার্ড কিলিয়ান এমবাপ্পে।

২৩ বছর বয়সি ফ্রান্সের এই ফরোয়ার্ড ২০১৮ বিশ্বকাপে চমক দেখিয়েছেন। তার দুরন্ত গতির কাছে হিমশিম খেয়েছে পৃথিবীর সেরা সেরা রক্ষণভাগের খেলোয়াড়রাও। প্রথম বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদও পেয়েছেন তরুণ বয়সে। এটা তার দ্বিতীয় বিশ্বকাপ। ক্লাব ও জাতীয় দলের হয়েও রয়েছেন ভালো ফর্মে। ফ্রান্সের হয়ে ৫৯ ম্যাচে ২৮ গোল করেছেন এমবাপ্পে।

তাই তিনিও জ্বলে উঠতে পারেন এবারের আসরে। আর্জেন্টাইন আরেক স্ট্রাইকার অ্যানহেল ডি মারিয়া। খুব সম্ভবত তারও শেষ বিশ্বকাপ এটি। ৩৪ বছর বয়সি ডি মারিয়া মূলত ফরোয়ার্ড হলেও তিনি দলটির অন্যতম প্লে-মেকার। মিডফিল্ডেও রাখেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। কোপা আমেরিকা ও ফিনালিসিমা  ট্রফি জয়ে ডি মারিয়া রেখেছেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। দুটি ম্যাচেই গোল করেছেন তিনি। কোপা আমেরিকায় ফাইনালের সেরা খেলোয়াড়ও হয়েছেন আর্জেন্টাইন এই ফরোয়ার্ড। এই বিশ্বকাপেও মেসির পর ডি মারিয়াই আর্জেন্টিনার অন্যতম ভরসা।

জাতীয় দলের হয়ে ১২৪ ম্যাচে ২৭ গোল করেছেন মারিয়া। সবদিক থেকে বিবেচনা করলে দেখা যায় যে এই আসরে তিনিই হতে পারেন আর্জেন্টিনার ট্রামকার্ড। আর্জেন্টাইন আরেক ট্রামকার্ড লাউতারো মার্টিনেজ। ২৫ বছর বয়সি এই স্ট্রাইকার ইন্টার মিলান ও জাতীয় দলের হয়ে নিয়মিত গোল করে যাচ্ছেন। মেসি এবং ডি মারিয়ার বলের জোগান পেলে গোল করতে কাপর্ণ্য করেন না এই ফরোয়ার্ড। এ পর্যন্ত জাতীয় দলের হয়ে ৪০ ম্যাচে ২১ গোল করেছেন মার্টিনেজ।

পোল্যান্ডের স্ট্রাইকার রবার্ট লেওয়ানডোভস্কি; বর্তমান সময়ের সেরাদের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় তিনি। ৩৪ বছর বয়সি পোল্যান্ড ও বার্সার এই স্ট্রাইকার বিগত কয়েক বছর ধরে নিজেকে গোল মেশিন রূপে তুলে ধরেছেন। জাতীয় দলের হয়েও ভালো ফর্মে রয়েছেন। ১৩৪ ম্যাচে করেছেন ৭৬ গোল। বিশ্বকাপে জ্বলে উঠতে তিনিও রয়েছেন প্রস্তুত। ইংলিশ স্ট্রাইকার হ্যারি কেইন; ২৯ বছর বয়সি ইংল্যান্ড স্ট্রাইকারের এটা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ।

২০১৮ সালের বিশ্বকাপে ৬ গোল করে জিতে নিয়েছিলেন গোল্ডেন বুট। এবারও তারকা ঠাসা ইংলিশদের অন্যতম ভরসা এই হ্যারি কেইন। ইংল্যান্ডের হয়ে ৭৫ ম্যাচে ৫১ গোল করেছেন এই স্ট্রাইকার। ক্রোয়োশিয়ার তারকা স্ট্রাইকার ৩৭ বছর বয়সি লুকা মদরিচ। এবারের বিশ্বকাপে তিনিও হতে পারেন সেরা স্ট্রাইকার। রিয়াল মাদ্রিদের মাঝমাঠের অন্যতম সেনাপ্রধান এই মিডফিল্ডার।

গত বিশ্বকাপে ক্রোয়েশিয়াকে তুলেছিলেন ফাইনালে। কিন্তু বিশ্বকাপ জয় অধরাই থেকে যায় মদরিচদের। উরুগুইয়ান স্ট্রাইকার লুইস সুয়ারেজ; ৩৫ বছর বয়সি এই স্ট্রাইকারের এটিই হয়তো শেষ বিশ্বকাপ। বার্সেলোনা ও অ্যাথলেটিক মাদ্রিদের সাবেক এই ফরোয়ার্ড এখনো রয়েছেন ফর্মের তুঙ্গে। তাই ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপে নিজের সেরাটা দিয়েই যে তিনি খেলবেন তাতে কোনো সন্দেহ নেই।

জাতীয় দলের হয়ে ১৩৪ ম্যাচে ৬৮ গোল করেছেন এই স্ট্রাইকার। কেভিন ডি ব্রুইনে; ৩১ বছর বয়সি এই মিডফিল্ডার ম্যানসিটি ও বেলজিয়ামের মাঝমাঠের অন্যতম ভরসা। বর্তমান সময়ের অন্যতম সেরা মিডফিল্ডারও তিনি। জাতীয় দলের হয়ে ৯৩ ম্যাচে ২৫ গোল করেছেন এই প্লে-মেকার। তাই নজর থাকবে এই মিডফিল্ডারের ওপরও।

Link copied!