Amar Sangbad
ঢাকা রবিবার, ০৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩, ২৩ মাঘ ১৪২৯

কোনোভাবেই পল্টনের রাস্তায় সমাবেশ করতে দেয়া হবে না : আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাসিম

নিজস্ব প্রতিবেদক

ডিসেম্বর ২, ২০২২, ১২:৩৩ এএম


কোনোভাবেই পল্টনের রাস্তায় সমাবেশ করতে দেয়া হবে না : আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাসিম

আওয়ামী লীগের অন্যতম যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাসিম। তিনি তার বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে ১৯৮১ সালে মাদারীপুর জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি; এরপর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ সভাপতি ছিলেন। ১৯৯৪ সালের ২৭ জুলাই আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন স্বেচ্ছাসেবক লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি নির্বাচিত হন।

পরপর তিনবার আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হন। সংসদ সদস্যও ছিলেন। দীর্ঘদিন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন খ্যাতনামা এই রাজনীতিবিদ। সমসাময়িক রাজনৈতিক নানা ইস্যুতে দৈনিক আমার সংবাদের মুখোমুখি হয়েছেন আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাসিম। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন-মাসুদুল হাসান অলড্রিন

রাজধানীর নয়াপল্টনে ঢাকা বিভাগীয় সমাবেশ করার ব্যাপারে অনড় বিএনপি। ইতোমধ্যে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের পক্ষ থেকে দলটিকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করার জন্য অনুমতি দেয়া হয়েছে। অথচ বিএনপি বলছে, তারা নয়াপল্টন ছাড়া অন্য কোথাও সমাবেশের অনুমতি চায়নি। আওয়ামী লীগের একাধিক সূত্রে জানা গেছে, তারা নয়াপল্টনের সমাবেশকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির কারণ হিসেবে আশঙ্কা করছে। অতীতের অভিজ্ঞতায় নৈরাজ্য এড়াতে বিএনপিকে রাস্তায় সমাবেশ করতে দিতে চায় না সরকার। সাম্প্রতিক সময়ে আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতাদের কথায় এটি স্পষ্ট।

আসছে ১০ ডিসেম্বর বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় সমাবেশে সরকার নানাভাবে  প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে— এমন অভিযোগ উঠেছে দলটির পক্ষ থেকে। এ অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বাহাউদ্দিন নাসিম বলেন, আমাদের দলের পক্ষ থেকে স্পষ্ট বলা হয়েছে— বিএনপি যদি জনমত গঠনের জন্য জনসভা করে, সেটা তারা করতে পারে। এতে দলের পক্ষ থেকে কোনো বাধা নেই, নেতাকর্মীরাও কোনো বাধা তৈরি করবেন না। কিন্তু আমরা জানি, তাদের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য ভালো নয়। তারা সহিংসতার উসকানি, নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি তৈরি করে জনগণের জান-মালের ক্ষতির মতো কাজগুলো করবে। তিনি বলেন, দেশে প্রচলিত আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে যে কাজগুলো করা উচিত, তারা সেটা করতে যানে না। বিএনপি আইনকে পদদলিত করে বেআইনি কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে সফলতা খুঁজে বেড়ায়। এটা নতুন কিছু নয়। দলটি জন্মলগ্ন থেকেই বিবেকবর্জিত। এ কারণে আগুনসন্ত্রাস, বোমাবাজি ও মানুষ পুড়িয়ে তারা রাজনৈতিক সফলতা পাওয়ার অপচেষ্টায় লিপ্ত।

বিরোধী দলকে সভা-সমাবেশ করতে বাধা দেয়া কি গণতন্ত্র বিকাশে সহায়ক?
এমন প্রশ্নের জবাবে বাহাউদ্দিন নাসিম বলেন, জনস্বার্থে জনগণই আন্দোলন করে। কিন্তু জনস্বার্থে এমন কোনো ইস্যুতে তারা আন্দোলন করে না। বাংলাদেশের ইতিহাস থেকে আমরা জেনেছি ও দেখেছি, আন্দোলন-সংগ্রামে মানুষ অংশগ্রহণ করে ও ঝাঁপিয়ে পড়ে। আর বিএনপি-জামায়াতের কর্মকাণ্ড হলো, তারা মানুষ হত্যা করে। যেখানে ছাত্র-শিক্ষক-কর্মচারী, পরিবহন চালক-শ্রমিক, এমনকি ভোটকেন্দ্রের পোলিং এজেন্ট, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক, আনসার, পুলিশ, বিজিবি ও সেনাবাহিনীর সদস্য কেউই তাদের রোষানল থেকে রেহাই পায়নি। এটা আন্দোলন নয়— সন্ত্রাসী তৎপরতা।

আওয়ামী লীগ সরকার কি সমাবেশের স্থান চাপিয়ে দিচ্ছে?
এ বিষয়ে তিনি বলেন, সরকার কোনো সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিচ্ছে না। দেখুন, কোনো শর্ত ছাড়াই বিএনপি সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জনসভা করতে চায় না। তারা জনসভা করতে চায় পল্টনের রাস্তায়, ফুটপাতে দাঁড়িয়ে। ফুটপাতে কতজন লোক ধরবে? ফুটপাতে মঞ্চ করে জনসভা করলে কতজন লোক ওই জনসভায় আসবে? তারা কেউ বলে পাঁচ লাখ, কেউ বলে ১০ লাখ লোকের সমাবেশ হবে। কেউ বলে ওইদিন তারা সরকারের দায়িত্বও নেবে! ওইদিন  নাকি খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানও সমাবেশে আসবেন— এমনটাও ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি।

সরকার কি কোনো বাধা দেবে এ সমাবেশে?
বিষয়টি নিয়ে এই সিনিয়র নেতা বলেন, আমরা তো চাই তারেক রহমান দেশে ফিরে আসুক। উনি দুর্নীতি-সন্ত্রাস ও ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার দায়ে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি। আদালত কর্তৃক তাকে যে সাজা দেয়া হয়েছে, সে সাজা তাকে অবশ্যই ভোগ করতে হবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী চেষ্টা করছে তাকে কীভাবে দেশে ফিরিয়ে এনে সাজা কার্যকর করা যায়। তিনি তো মুচলেকা দিয়ে দেশ থেকে চলে গিয়েছিলেন, বলেছিলেন বাংলাদেশের রাজনীতিতে আর আসবেন না। তার মানে তিনি কথা রাখেননি। বেগম জিয়া এতিমের অর্থ আত্মসাৎ মামলায় আদালতের রায়ে সাজাপ্রাপ্ত আসামি। তাদের দুজনের কারো রাজনৈতিক সভা-সমাবেশে অংশগ্রহণের সুযোগ নেই। সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা এটা পারেন না। সেক্ষেত্রে আদালত ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আইনানুগ পদক্ষেপ নেবে। এটি আওয়ামী লীগের ব্যক্তিগত ইস্যু নয়।

দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি তারেক রহমান কীভাবে ভার্চুয়ালি রাজনৈকি সমাবেশ করছেন— এর পরিপ্রেক্ষিতে আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেয়া সরকারের কাজ। আওয়ামী লীগ ও সরকার দুটি আলাদা বিষয়; একে এক করে ফেললে হবে না। রাজনৈতি ও সাংগঠনিকভাবে আওয়ামী লীগ তার অবস্থান থেকে কথা বলছে। সরকারও তার জায়গা থেকে কথা বলছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে যারা আছেন, জনগণ ও রাষ্ট্রের সম্পদ রক্ষার দায়িত্ব যাদের হাতে। তারা কিন্তু পরিষ্কার ভাষায় কথা বলেছে। একটি দায়িত্বশীল রাজনৈতিক দলের সদস্য হিসেবে আওয়ামী লীগ, সহযোগী এবং ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের নেতাকর্মীরা জনগণের সম্পদ ও জীবন রক্ষায় মানুষের পাশে থাকবে। জনগণকে আশ্বস্ত করে আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, একজন মানুষেরও যাতে রক্ত না ঝরে, কারো জীবন সংশয় যেন তৈরি না হয়, আমরা জনগণকে পাশে নিয়ে এর সতর্ক পাহারা  দেব। বিএনপি অরাজক পরিস্থিতি ঘটালে তা দৃঢ়তার সাথে মোকাবিলা করব। এ দেশের দায়িত্বশীল দল হিসেবে, জনগনেণ বন্ধু হিসেবে আওয়ামী লীগ ঘরে বসে থাকবে না। তার মানে এই নয় যে, আমরা লাঠি নিয়ে তাদের সাথে মারামারি করতে যাব, পেট্রোল বোমা ছুড়ে মারব। বরং আমরা জনগণকে সাথে নিয়ে তাদের নৈরাজ্যের জবাব দেব। কীভাবে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হয়, সে আন্দোলনের ইতিহাস আওয়ামী লীগের ভালো জানা আছে।

বিএনপি কোনো শঙ্কা থেকেই কি সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে যেতে রাজি নয়— এমন প্রশ্নের উত্তরে এই নেতা বলেন, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান একটি ঐতিহ্যবাহী স্থান এবং অনেক ইতিহাসের ধারক-বাহক। এখানে সমাবেশ করতে গেলে কিছু শর্ত তো থাকবেই, আওয়ামী লীগের বেলায়ও এটা মেনে চলতে হয়। বিএনপিকেও তা মেনেই সমাবেশ করতে হবে। ৫০-৬০ হাজারের বেশি লোক পল্টনের রাস্তায় জড়ো হওয়া সম্ভব নয়। ওখানে সমাবেশ করলে পুরো ঢাকা শহরে যানজট তৈরি হবে। জনদুর্ভোগ ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হবে। কিন্তু বিএনপি এটাই চায়। তিনি বিএনপিকে প্রশ্ন করেন, তারা যদি সত্যিকার অর্থে জনগণের জন্য এবং জনগণকে সাথে নিয়ে আন্দোলন করতে চায়, তাহলে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে যেতে বাধা কোথায়?

বাহাউদ্দিন নাসিম বলেন, বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা কতটুকু সহনশীল ও ধৈর্যশীল— এটা বিএনপিকে বুঝতে হবে। অথচ তাকেই উৎখাত করতে চায় বিএনপি; তবুও তিনি প্রতিহিংসাপরায়ণ নন। তারা সকাল-বিকাল বলছে আমরা পালিয়ে যাব। অথচ তারাই এখন আর পল্টনের বাইরে যেতে চায় না। সরকার পরিবহন ধর্মঘট ডেকে সমাবেশে বাধা তৈরি করছে— বিএনপি নেতাদের এমন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তিনি বলেন, পরিবহন নেতা তো খালেদা জিয়ার লোক, শামসুর রহমান শিমুল বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এবং বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান। তাকে প্রশ্ন করুন কেন পরিবহন ধর্মঘট ডাকা হয়। সরকার তো ধর্মঘট চায় না। কারণ এতে জনগণের ভোগান্তি হয়। পরিবহন ব্যবসায়ীদের কোনো দল  নেই, ওখানে মিলেমিশে সব হয়। আওয়ামী লীগ ও সরকারের পক্ষ থেকে আমরা আন্তরিকভাবে চেষ্টা চালাব যাতে কোনো ধর্মঘট না হয়।
আওয়ামী লীগ নেতারা শঙ্কিত কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা জনগণের কথা বলি। আগামীতে দেশকে কীভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যায়, সে কথা বলি। আমরা নিয়মিত সভা-সমাবেশ করছি, আমরা শঙ্কিত নই। আমাদের সভা-সমাবেশে লাখ লাখ লোক জড়ো হয়, এটা কি শঙ্কা? বরং এটা দেখে বিএনপি শঙ্কিত।

সমাবেশের স্থান কোথায় হলে ভোগান্তি কম হবে বলে মনে করেন— এমন প্রশ্নে নাসিম বলেন, তারা তুরাগ নদীর তীরে সমাবেশ করুক, ওখানে ৫০ লাখ মানুষ জড়ো হতে পারেবে। তারা পূর্বাচলে যেতে পারে, ওখানেও ২০ লাখ লোকের সমাবেশ হতে পারে। ওখানে সমাবেশ করে তারা নিজেদের জনপ্রিয়তা প্রমাণ করুক। এতে ঢাকা শহরে মানুষের ভোগান্তি হবে না। রাজনীতিকে অস্থিতিশীল, কলুষিত করার জন্য, ঢাকা শহরে রক্তের হোলি খেলার জন্য দেশের সন্ত্রাসীদের ভাড়া করে এনে বিএনপি যে প্রস্তুতি নিচ্ছে, এটা তো হতে দেয়া যায় না। তিনি আরও বলেন, তারা ২০১৩, ২০১৪ এবং ২০১৫ সালে মাসের পর মাস একটানা অগ্নিসন্ত্রাস করেছে, অবরোধের নামে কি না করেছে। সেই অবরোধ না তুলে খালেদা জিয়া বাড়ি চলে গেছেন। এখনও সেই অবরোধ প্রত্যাহার করে নেয়নি। হেফাজতে ইসলামের অবরোধ ও নৈরাজ্যের পেছনে বিএনপির সব নেতার ইন্ধন ছিল। বিএনপি মতিঝিলের সমাবেশে খাবার, পানি ও টাকা-পয়সা নিয়ে গিয়েছিল, তাদের নেতারা হেফাজতের মঞ্চে বক্তব্য দিয়েছিলেন। এসব মানুষ ভুলে যায়নি।

বিএনপিকে উদ্দেশ করে বাহাউদ্দিন নাসিম বলেন, শক্তি থাকলে তারা গণঅভ্যুত্থান করে দেখাক, সেটা পল্টনের রাস্তায় কেন হবে?

বিএনপি আগে অভিযোগ দিত সমাবেশ করার জায়গা নেই। এখন তো সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের জায়গা দিয়েছে। তাদের সমাবেশ নির্বিঘ্ন করার জন্য ছাত্রলীগের সম্মেলন দুদিন এগিয়ে আনা হয়েছে। এটা তো নজিরবিহীন ঘটনা। এ সরকারের সহনশীলতার এমন নজির অতীতে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার দেখিয়েছে কী? বিএনপি-জামায়াত জোট বরং আওয়ামী লীগের শান্তি সমাবেশে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় গ্রেনেড হামলা করেছে। এতে ২৪ জন শহীদ হয়েছিলেন। তারা দেশে এমন নৃশংস হামলার নজির স্থাপন করেছিল। তাদের মূল টার্গেট ছিল শেখ হাসিনাকে হত্যা করা। তখন খালেদা জিয়া সংসদে এই হামলার বিষয়ে কোনো মুলতবি প্রস্তাবও আনেননি। বরং তিনি সংসদে দাঁড়িয়ে বলেছেন— শেখ হাসিনা ভ্যানিটি ব্যাগে করে বোমা নিয়ে গেছেন!

তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার গণতন্ত্রের প্রতি শ্রদ্ধাশীল বলেই বিএনপিকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করার অনুমতি দিয়েছে। তাদের দেশের প্রচলিত আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শান্তিপূর্ণভাবে সমাবেশ শেষ করতে হবে। পল্টন এলাকায় রাস্তা দখল করে নৈরাজ্য তৈরি করলে, জনগণের জান-মালের ক্ষতি করলে জনগণকে সাথে নিয়ে সেসব নৈরাজ্য প্রতিহত করা হবে।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারই বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা করেছে, আওয়ামী লীগ করেনি। আদালত দ্বারাই তাদের নেতা-মন্ত্রীরা সাজাপ্রাপ্ত হয়েছেন। দুদকের মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়েছেন। তাদের সময়ই বাংলা ভাইয়ের মতো জঙ্গির উত্থান ঘটেছে এবং বাংলা ভাই প্রকাশ্যে অস্ত্র নিয়ে পুলিশ প্রহরায় মিছিল করত, ঘুরে বেড়াত। সে নিরীহ মানুষকে মেরে দুই পা উল্টো করে গাছে ঝুলিয়ে রাখত। শায়খ আব্দুর রহমান ও মুফতি হান্নানের মতো ভয়ঙ্কর জঙ্গি শেখ হাসিনাকে হত্যার জন্য কোটালীপাড়ার বোমা পুঁত রেখেছিল; বিএনপি-জামায়াত জোট তাদের ব্যবহার করে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা এবং সারা দেশে ৫০০ জায়গায় সিরিজ বোমা হামলা করিয়েছিল।

একটি শক্তিশালী বিরোধী দল কেন গড়ে উঠল না— এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটি অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা চাই একটি শক্তিশালী বিরোধী দল গড়ে উঠুক, যারা জনগণের স্বার্থে গঠনমূলক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড করবে। সরকারের ভুলত্রুটিকে ধরিয়ে দেবে। কিন্তু দেশের স্বার্থে, জনগণের স্বার্থে সেই রাজনীতি তো বিএনপি-জামায়াত ধারণ করে না। তারা অনৈতিক স্বার্থ হাসিলের জন্য রাজনীতি করে।

১০ ডিসেম্বর কোনো নৈরাজ্যকর ও সহিংস পরিস্থিতি তৈরি হলে আওয়ামী লীগ কী করবে— এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যদি তারা এমন কিছু করে, তাহলে আমরা জনগণকে সাথে নিয়ে উপযুক্ত জবাব দেব।

দেশে গণতান্ত্রিক সংকটের সুযোগে তৃতীয় শক্তির আবির্ভাব ঘটতে পারে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অনেকে মনে করছেন। এ ধরনের  পরিস্থিতির উদ্ভব ঘটলে কী করবেন— এমন প্রশ্নের জবাবে বাহাউদ্দিন নাসিম বলেন, বিএনপির রাজনীতির একমাত্র লক্ষ্য হলো তৃতীয় শক্তি। কিন্তু জনগণের শক্তিতে আমরা বলীয়ান।  দেশের জনগণই হলো মূল শক্তি এবং জনগণের শক্তির ওপর আস্থা রেখেই আওয়ামী লীগ চলছে। আমরা জনগণের সমর্থনে বিশ্বাসী। তৃতীয় শক্তির কোনো জায়গা বাংলাদেশের সংবিধানে নেই এবং এ দেশের জনগণ তা কখনো মেনে নেয়নি। এটা পাকিস্তান নয়— বাংলাদেশ। ৩০ লাখ শহীদের রক্তে এ দেশ স্বাধীন হয়েছে। তারা যেটাকে তৃতীয় শক্তি বলে মনে করে, আমরা সেটাকে জনগণের শক্তি বলে মনে করি। বাংলাদেশের মানুষ সব সময় গণতন্ত্রের প্রতি আস্থাশীল।

সম্ভাব্য রাজনৈতিক সহিংসতা ও অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়ানোর জন্য আওয়ামী লীগ কোনো সাংগঠনিক পদক্ষেপ নেয়ার কথা ভাবছে কি না অথবা বিরোধী রাজনৈতিক দলের সাথে আলাপ-আলোচনার পথ খোলা রেখেছে কি না— এমন প্রশ্নে এই সিনিয়র নেতা বলেন, আলোচনা করা যাবে না, তা আমি বলিনি। আবার আলোচনার প্রয়োজন আছে, সেটাও বলিনি। আমরা যা বলি, তা প্রকাশ্যে বলি; গোপনে বলি না। গোপনে কোনো আঁতাত করার প্রয়োজনও আমাদের নেই। সন্ত্রাসের পথ কোনো ভালো পথ পথ নয়। এ পথে কখনো মুক্তি আসতে পারে না। সাম্প্রদায়িক রাজনীতি এ দেশে বাতিল। এটা আমাদের কৃষ্টি-কালচারের সাথে যায় না। 
আগামী ৬ ডিসেম্বর ছাত্রলীগের আসন্ন জাতীয় সম্মেলন এগিয়ে আনার ব্যাপারে বাহাউদ্দিন নাসিম বলেন, মূলত ১০ তারিখে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিএনপির সমাবেশকে নির্বিঘ্ন করতেই ছাত্রলীগের জাতীয় সম্মেলন এগিয়ে আনা হয়েছে।

ছাত্রলীগের সম্মেলনে নেতৃত্ব নির্বাচনে বয়স নির্ধারণের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, করোনাকালে ছাত্রলীগ অনেক ভালো কাজ করেছে; আক্রান্তদের পাশে দাঁড়িয়েছে। বৈশ্বিক মহামারীর কারলে ছাত্রলীগের সম্মেলন যথাসময়ে হয়নি। এ কারণে নেতৃত্ব নির্বাচনে বয়সের সীমা শিথিল করার বিষয়ে হাইকমান্ড ভাবছে।

এবার নেতৃত্ব নির্বাচনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে থেকে কোনো প্রার্থীকে বিবেচনা করা হবে কি না— এ ব্যাপারে তিনি জানান, বিভিন্ন ইউনিটে যোগ্য কেউ থাকলে নেতৃত্বে আসতে বাধা নেই।

Link copied!