জীবন্ত লাশ থেকে পুনরুজ্জীবন: অসাধারণ এক মানবিকতার গল্প

গল্পটা নাইজেরিয়ার। ঘটনা ২০১৬ সালের। ডেনমার্কের এক মানবিক সহায়তা কর্মী আনজা রিংগ্রিন নাইজেরিয়ার পথে প্রান্তরে ঘুরছেন। ঘুরতে ঘুরতে থমকে দাঁড়ালেন, নাইজেরিয়ার চরম দুর্দশাগ্রস্থ এক রাস্তার সামনে।

তিনি হতভম্ব দৃষ্টি নিয়ে লক্ষ্য করলেন, এক মানবশিশুকে। অবশ্য, মানবশিশু বলে চিহ্নিত করতেও কষ্ট হবার কথা। কারণ, শিশুটি ছিল মৃত্যুপথযাত্রী। খাদ্যের অভাবে, ক্ষুদা তৃষ্ণায় আক্রান্ত হয়ে ছেলেটি অনাহারে এতোটাই শুকিয়ে গেছে যে, তাকে কঙ্কাল বলে ভ্রম হবার কথা।

মাত্র দুইবছর ছিল তখন শিশুটির। বাবা মা শিশুটিকে ফেলে চলে গেছে কোথাও। হয়ত, অভাবের পৃথিবীতে একটা বাড়তি মুখের খাবার যোগাড়ে অসমর্থ হয়ে পরাজয় স্বীকার করে তারা নিজ সন্তানকে ত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছে কিংবা অন্য কোনো কারণ। কে জানে!

সবচেয়ে পরিহাস, শিশুটির নাম হোপ, বাংলায় আশা। অথচ, শিশুটিকে আশা দেখাবার কেউ নেই। পৃথিবীতে সে বরং সমস্ত বেঁচে থাকার সুযোগ হারিয়ে মৃত্যুর প্রহর গুণছিল।

আনজা রিংগ্রিন ইউরোপের নাগরিক। তার কাছে শিশুটির এই দুর্দশা, মৃত্যুর লড়াই হতভম্ব হবার মতো ব্যাপার নিশ্চয়ই। ইউরোপে অন্তত এরকম দৃশ্য তাকে দেখতে হতো না চোখের সামনে। তিনি দ্রুতই শিশুটির মুখে বোতল থেকে পানি তুলে পানি করালেন।

লাশ মুড়িয়ে যেভাবে নিয়ে যাওয়া হয়, তিনি যেন খানিকটা ওমন করে একটা কম্বলে মুড়িয়ে শিশুটিকে নিয়ে গেলেন হাসপাতালে।

হোপ নামক শিশুটির বেঁচে থাকার লড়াই সহজ ছিল না। প্রচণ্ড পরিমাণ মেডিক্যাল ট্রিটমেন্ট নিতে হয়েছে তাকে। তাকে রাস্তার পাশে কুড়িয়ে পাওয়ার ৮ সপ্তাহ পরের একদিন।

সেদিন পরীক্ষা করে দেখা গেল, হোপ একটু একটু করে সুস্থ হচ্ছে। কঙ্কালসার দেহে একটু মাংসের টান লেগেছে। একটু ওজন বেড়েছে। সবচেয়ে বড় কথা, হোপের মুখে সেদিন হাসি দেখা গিয়েছিল এক চিলতে...