আবারও মঞ্চে আসছে শংকর সাওজালের ‘নির্বাসন দণ্ড’

বিনোদন প্রতিবেদক প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৭, ২০২২, ০১:৩০ এএম

শংকর সাওজাল, একাধারে একজন অভিনেতা, নাট্যরচয়িতা, নাট্যনির্দেশক এবং একজন ফটোগ্রাফার। ভীষণ প্রচারবিমুখ এই গুণীজনের মধ্যে সেই ছোট্টবেলাতেই অসাম্প্রদায়িক চর্চার চেতনা জাগ্রত হয় তার স্কুলশিক্ষক মমিন উদ্দিন মাস্টার ও ক্যানভাসার (পরবর্তীতে শংকর জানতে পারেন তিনি ছিলেন মূলত একজন কমিউনিস্ট) হাকিম শিকদারের কাছ থেকেই। শংকর সাওজালের স্কুলজীবন কেটেছে পিরোজপুরে।

পরবর্তী সময় চারুকলাতে ভর্তি হলেও কিছুদিন পর তা ছেড়ে দিয়েছেন। একসময় উদীচীর সঙ্গে নিজেকে সম্পৃক্ত করেন। কিন্তু নাটক মঞ্চায়ন নিয়ে তাদের সঙ্গে মতবিরোধ হয় বলে সেখান থেকে বের হয়ে স্ত্রী রুমানা রহমানসহ জামি-রুমি, জহির, পুতু, আলমসহ আরও বেশ কজনকে সঙ্গে নিয়ে ‘কারক নাট্য সম্প্রদায়’ নামে নাটকের দল গড়ে তোলেন। এরশাদবিরোধী আন্দোলনে তার দলই প্রথম পথনাটক প্রদর্শন করে।

যার মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে ‘মহারাজার অনুপ্রবেশ’,‘ টিয়া পাখির সমাচার’, ‘আমরা তোমাদের ভুলবো না’, ‘সার্কাস সার্কাস’, নূর হোসেনকে নিয়ে ‘জাগে লক্ষ নূর হোসেন’ এবং এ দলের একমাত্র মঞ্চস্থ নাটক ছিল শংকর সাওজালেরই রচিত ও নির্দেশিত ‘নির্বাসন দণ্ড’। নাটকটি সে সময়ে ভীষণ সাড়া ফেলেছিল। এখন পর্যন্ত এই নাটকটি ৪০ বার মঞ্চস্থ হয়েছে। এ নাটকে অভিনয়ও করেন তিনি।

শংকর সাওজাল জানান, করোনার আগেই আবারও এই নাটক মঞ্চায়নের ইচ্ছে ছিল। কিন্তু করোনার কারণে মাঝপথে এসে থেমে যায়।

শংকর সাওজাল জানান, আবারও দ্রুতই নাটকটি মঞ্চে আনা হচ্ছে। সেই প্রস্তুতিই নেয়া হচ্ছে। টিভি নাটকে শংকর সাওজালকে প্রথম দেখা যায় হুমায়ূন আহমেদের দুই পর্বের নাটক ‘কুসুম’-এ।

পরবর্তীতে তাকে কাজী নজরুল ইসলামের ‘মৃত্যুক্ষুধা’, সেলিনা হোসেনের ‘অপরাধ’, সৈয়দ শামসুল হকের ‘কবি’সহ আরও বেশকিছু নাটকে অভিনয়ে দেখা যায়। মামুনুর রশীদের ‘স্বপ্নের শহর’ নাটকে একজন বাউল চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন তিনি। তারই মুখে দর্শক প্রথম শুনতে পান ‘ভালো আছি ভালো থেকো’ গানটি।

আফজাল হোসেনের পরিচালনায় রাতকানা শিশুদের সচেতনতা গড়ে তুলতে তিনি একটি বিজ্ঞাপনে মডেল হয়েছিলেন। এই বিজ্ঞাপনের ‘রোগ বালাইতো আছে দুনিয়ায়, ভালো থাকার আছে যে উপায়’ জিঙ্গেলটি ভীষণ জনপ্রিয়তা পেয়েছিল।

এক জীবনের প্রাপ্তি প্রসঙ্গে শংকর সাওজাল বলেন, ‘প্রাপ্তির বিষয়টি চিন্তা করে জীবনে কখনো কাজ করিনি। তবে এই যে মানুষ ভালোবাসে— এটাই জীবনের অনেক বড় পাপ্তি। যে কাজগুলো আমি করছি, সে কাজগুলো আমৃত্যু করে যেতে চাই। কোনোকিছুর অপেক্ষা না করেই তা করে যেতে চাই।’

শংকর সাওজালের গ্রামের বাড়ি পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায়। তার এক মেয়ে যুক্তা ও এক ছেলে অঙ্গন। তার জন্মদিন ২ জুন। ১৯৬৫ সাল থেকে ক্যামেরাই ছিল তার সময় কাটানোর মূল অবলম্বন। ক্যামেরাই সর্বতোভাবে তার প্রাণময়তাকে বাঁচিয়ে রাখে— এটা তার বিশ্বাস।