পবিত্র ঈদুল ফিতর সামনে রেখে ব্যাংকে টাকা উত্তোলনের চাপ বেড়েছে। তারল্য সংকটে থাকা ব্যাংকগুলো এই চাপ সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে। ব্যাংকিং কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে ধার করে চলতে হচ্ছে এসব ব্যাংককে। ধারের মাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ায় আন্তঃব্যাংক মানি মার্কেট বা কলমানি মার্কেটে উত্তাপ বাড়ছে। ফলে টাকা ধার করতে উচ্চ সুদ গুনতে হচ্ছে। ইদের আগে ব্যাংকের শেষ কর্মদিবস হিসেবে আজ টাকা উত্তোলনের চাপ আরও বাড়বে বলে ধারণা সংশ্লিষ্টদের। তবে চাহিদা যতই বৃদ্ধি পাক কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বেধে দেয়া সুদ সীমার কারণে কিছুটা সুবিধা পাচ্ছে সংকটে থাকা ব্যাংকগুলো।
কলমানি মার্কেটের তথ্য অনুযায়ী, গতকাল সোমবার আন্তঃব্যাংকে ধারের পরিমাণ ছিল সাত হাজার ৯১ কোটি টাকা। আগের দিন রোববার এই ধারের পরিমাণ ছিল সাত হাজার ২১৯ কোটি টাকা। চলতি এপ্রিলের শুরু থেকেই আন্তঃব্যাংকে স্বল্পমেয়াদি ধারের চাপ বেড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, এপ্রিলের ১২ কার্যদিবসে মোট ৯০ হাজার ৩৫৯ কোটি টাকা ধার করা হয়েছে, যার বড় অংশই নেয়া হয়েছে এক দিনের জন্য। এ সময়ে সর্বোচ্চ ৯ শতাংশ সুদে টাকা ধার নেয় ব্যাংকগুলো।
খাতসংশ্লিষ্টরা জানান, ঈদ সামনে রেখে গ্রাহকদের নগদ টাকার চাহিদা বাড়ে। বিশেষ করে কেনাকাটা করতে নগদ টাকা উত্তোলনের হিড়িক দেখা যায়। ফলে এ সময় অনেক ব্যাংকে নগদ টাকার সংকট তৈরি হয়। এ সংকট মোকাবিলায় আন্তঃব্যাংক কলমানি বা বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে সুদে টাকা ধার করে ব্যাংকগুলো। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, চলতি মাসের শুরু থেকে আন্তঃব্যাংক বাজারে ব্যাংকগুলোর ধারের পরিমাণ বাড়তে শুরু করে। গত ২ এপ্রিল এক ব্যাংক আরেক ব্যাংক থেকে পাঁচ হাজার ৭২৭ কোটি টাকা ধার করে। ৩ এপ্রিল এ ধারের পরিমাণ বেড়ে তিন হাজার ৯৬ কোটি টাকায় দাঁড়ায়। ৪ এপ্রিল ধারের অঙ্ক ছিল আট হাজার ৮০৫ কোটি, ৫ এপ্রিল আট হাজার ৭৩ কোটি, ৬ এপ্রিল আট হাজার ৫৭৬ কোটি এবং ৯ এপ্রিল ৯ হাজার ৬১৬ কোটি, ১০ এপ্রিল ছয় হাজার ৮৭২ কোটি, ১১ এপ্রিল সাত হাজার ৯৮৪ কোটি, ১২ এপ্রিল ছয় হাজার ৮৭০ কোটি টাকা ধার করে।
সব মিলিয়ে চলতি মাসে ব্যাংকগুলো কলমানিতে ধার করেছে ৯০ হাজার ৩৫৯ কোটি টাকা। এর মধ্যে ৭৩ হাজার ৬৫৫ কোটি টাকাই স্বল্পমেয়াদি (ওভার নাইট) ধার। গতকাল আন্তঃব্যাংক সাত হাজার ৯১ কোটি টাকা ধারের মধ্যে একদিন মেয়াদি ধারের পরিমাণ ছিল চার হাজার ৯৮৬ কোটি টাকা। গড়ে ৬ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ সুদে এ লেনদেন হয়। আগের দিন রোববার কলমানিতে সাত হাজার ২৯১ কোটি টাকা লেনদেন হয়, যার গড় সুদ ছিল ৬ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ। কলমানি ছাড়াও আন্তঃব্যাংকে তিন থেকে ১৮২ দিন মেয়াদি ধার নেয় ব্যাংকগুলো। এসব লেনদেনে ৯ শতাংশ পর্যন্ত সুদ উঠছে। মাঝে আন্তঃব্যাংকে আরও বেশি সুদ উঠেছিল।
তবে মৌখিক নির্দেশনায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, আন্তঃব্যাংক লেনদেনেও কোনো ব্যাংক ৯ শতাংশের বেশি সুদ নিতে পারবে না। আন্তঃব্যাংকের পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে প্রতিনিয়ত ধার করে চলছে ব্যাংকগুলো।