ফের জটে ফাজিল শিক্ষার্থীরা

মো. মাসুম বিল্লাহ প্রকাশিত: মে ২০, ২০২৩, ০২:২৬ পিএম

                                                                              দুবছরের জটে লক্ষাধিক শিক্ষার্থী
                                                       একবারের তারিখে পরীক্ষা নিতে পারছে না বিশ্ববিদ্যালয়টি
                                                                   অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের ব্যাপক অসন্তোষ প্রকাশ

আগের প্রশাসনের অদক্ষতায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে
—ড. মো. আব্দুর রশিদ, নবনিযুক্ত উপাচার্য, আইএইউ

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে থাকাকালীন মাদ্রাসা পর্যায়ের ফাজিলের (ডিগ্রি) শিক্ষার্থীদের জটে পড়তে হতো। জট থেকে মুক্তি ও মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় আধুনিকায়নের সমন্বয়ের জন্য ২০১৩ সালে ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়। করোনার আগ পর্যন্ত যথাসময়ে ক্লাস ও পরীক্ষা নেয়ায় সুনাম অর্জন করেছে প্রতিষ্ঠানটি। কিন্তু করোনার পর দুবছরের জটে আটকা পড়েছে লক্ষাধিক শিক্ষার্থী। একবারের তারিখে পরীক্ষা নিতে পারছে না প্রতিষ্ঠানটি। এ নিয়ে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ বিরাজ করছে। বিশ্ববিদ্যালয়টির নবনিযুক্ত উপাচার্য বলেন, আগের প্রশাসকদের অদক্ষতায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সেশন ঘাটতি এক বছরের মধ্যে আনার জন্য আমরা চেষ্টা করছি। 
জানা যায়, শিক্ষার্থীদের সেশন ঘাটতি (ইয়ার লস) দূর করার জন্য সরকার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এর ফলে করোনার আগ পর্যন্ত দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ে চালু হয়েছে যথাসময়ে ক্লাস ও পরীক্ষার রীতি। করোনার মাঝেও শিক্ষার্থীদের ঘাটতি পোষানোর জন্য অনলাইনে ক্লাসের ব্যবস্থা করেছে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। কিন্তু পরীক্ষা নেয়া সম্ভব না হওয়ায় দেড় বছরের করোনায় এক বছর ঘাটতিতে রয়েছে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

অন্যদিকে ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা দুবছর পিছিয়ে পড়েছে। একই শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের তুলনায় তারা এক বছর পিছিয়ে রয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়টির আইটি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, তিন বর্ষ মিলিয়ে ফাজিলের মোট পরীক্ষার্থী এক লাখ আট হাজার ১১৪ জন। এ বছর ফাজিল প্রথম বর্ষের পরীক্ষার জন্য রেজিস্ট্রেশন করেছে ৪০ হাজার ৮১১ জন। দ্বিতীয় বর্ষের পরীক্ষার্থী সংখ্যা ৩৪ হাজার ৭৯৭। আর তৃতীয় বর্ষের ৩২ হাজার ৫০৬ জন। 

শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয় একবারের রুটিনে কখনোই পরীক্ষা নিতে পারেনি। দ্বিতীয় বর্ষের পরীক্ষার দেড় বছর পর তৃতীয় বর্ষের রুটিন দেয়া হয়েছে। রুটিন অনুযায়ী পরীক্ষার আশায় ছিলাম। কিন্তু এখন আবার দুই মাস পিছিয়ে দিয়েছে। 

এ ব্যাপারে ফাজিল ৩য় বর্ষের পরীক্ষার্থী রাকিব হাসান বলেন, এ মাসের ২৭ তারিখ থেকে আমাদের পরীক্ষা নেয়ার কথা ছিল। এরই আলোকে এতদিন প্রস্তুতি নিয়েছি। কিন্তু এখন আবার নতুন করে পরীক্ষার রুটিন দেয়া হয়েছে। দুই মাস পিছিয়ে দিয়েছে। এ দুই মাস বসে থেকে কি করব? এমনিতেই দুবছর পিছিয়ে গেছি। 

পরীক্ষা না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আজিজুল হক বলেন, একই শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী হওয়ার পরও অন্যরা আমাদের থেকে এক বছর এগিয়ে গেছে। এখন আবার পরীক্ষা পিছিয়েছে। চাকরির পরীক্ষা দেয়ার সময় ওদের চেয়ে চেয়ে দেখা ছাড়া উপায় থাকবে না। 

ফাজিল তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী সাইফুল্লাহ মানসুরের বাবা বলেন, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের জট এখন আবার আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ে দেখা যাচ্ছে। সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান যেখানে জট কমানোর জন্য কাজ করছে, ওরা সেখানে পরীক্ষা পিছিয়ে দিয়েছে। ওরা আসলে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এমন তামাশা কেন করছে! 

রুটিন দেয়ার পরও পরীক্ষা স্থগিত করা ও  সেশনজটের ব্যাপারে ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের নবনিযুক্ত উপাচার্য ড. মো. আব্দুর রশিদ আমার সংবাদকে বলেন, আমি দায়িত্ব পাওয়ার পরই দেখি পরীক্ষার সময়সূচি ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্তু পরীক্ষার কোনো ধরনের প্রস্তুতি নেয়া হয়নি। পরীক্ষা কারা নেবে, কীভাবে  নেবে, কারা খাতা দেখবে— এ ধরনের কোনো পরিকল্পনাই ছিল না। হুট করে একটি তারিখ ঘোষণা করলেই হয় না। এগুলো ঠিক করার জন্য দুই মাস পর পরীক্ষা দিয়েছি। সেশনজটের ব্যাপারে তিনি বলেন, আগের প্রশাসকদের অদক্ষতায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। শিক্ষার্থীদের সেশনজট করানো উচিত হয়নি। যথাসময়ে পরীক্ষা নেয়া ও রেজাল্ট দেয়ার জন্য আমরা পরিকল্পনা সাজাচ্ছি। আমাদের কিছু কর্মকর্তার ঘাটতি ছিল। ইতোমধ্যে অনেকাংশে সেটা পূরণও হয়েছে। এ বছরের নভেম্বর-ডিসেম্বরের মধ্যে আরেকটি পরীক্ষা ও আগামী বছরের মে-জুনের মধ্যে পরীক্ষা নিয়ে এ ঘাটতি দূর করা হবে।