ক্ষুধা সূচকে শ্রীলঙ্কার পেছনে বাংলাদেশ

আব্দুল কাইয়ুম প্রকাশিত: অক্টোবর ১৪, ২০২৩, ১২:২৫ এএম
  • ১২৫ দেশের মধ্যে বাংলাদেশ ৮১তম
  • ক্ষুধা সূচকে শ্রীলঙ্কার অবস্থান ৬০তম
  • বিশ্বের ৯ দেশে ক্ষুধার মাত্রা উদ্বেগজনক

সোয়া পাঁচ কোটির বেশি তীব্র থেকে মাঝারি ও এক কোটি ৮৭ লাখ মানুষ তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীন
—দ্য স্টেট অব ফুড সিকিউরিটি অ্যান্ড নিউট্রিশন ইন দ্য ওয়ার্ল্ড

নিত্যপণ্যের দাম প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। সে সঙ্গে বাড়ছে দেশজুড়ে খাদ্য ঘাটতি। তাই ২০২৩ সালের বিশ্ব ক্ষুধা সূচকে বাংলাদেশ শ্রীলঙ্কার চেয়ে পেছনে অবস্থান করছে। বিশ্ব ক্ষুধা সূচকের (জিএইচআই) তথ্যমতে, বাংলাদেশে সোয়া পাঁচ কোটির বেশি মানুষ তীব্র থেকে মাঝারি ধরনের খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় আছে। সম্প্রতি প্রকাশিত এ তথ্যে ১২৫ দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ৮১তম দেখানো হয়েছে, যা ২০২২ সালে বিশ্ব ক্ষুধা সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান  
ছিল ৮৪তম। তাছাড়া ২০২১ সালে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ৭৬তম। এবারের ক্ষুধা সূচকে মোট ১০০ স্কোরের মধ্যে বাংলাদেশ পেয়েছে ১৯, যা আগের বছর ছিল ১৯ দশমিক ছয়।অর্থাৎ বাংলাদেশ মাঝারি মাত্রার ক্ষুধায় আক্রান্ত রয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার বিশ্ব ক্ষুধা সূচকের (জিএইচআই) ওয়েবসাইটে ২০২৩ সালের বিশ্ব ক্ষুধা সূচক প্রকাশ করা হয়। প্রতিবছর কনসার্ন ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ও ওয়েল্ট হাঙ্গার হিলফে যৌথভাবে এ সূচক তৈরি করে। সূচক অনুযায়ী  পাকিস্তান ১০২তম ও ভারত ১১১তম অবস্থানে রয়েছে। প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে আছে নেপাল ও শ্রীলঙ্কা। দেশ দুটি যথাক্রমে ৬৯ এবং ৬০তম অবস্থানে রয়েছে।

জিএইচআইর সূচকে স্কোর যদি কোনো দেশ শূন্য থাকে, তার মানে সেখানে ক্ষুধা নেই। তাছাড়া স্কোর যদি ১০০ হয়, তাহলে ক্ষুধার মাত্রা সর্বোচ্চ। এ হিসাবে বাংলাদেশের ক্ষুধার মাত্রা মাঝারি পর্যায়ে আছে। ২০২২ সালে ক্ষুধার সূচকও মাঝারি ছিল। তবে ২০১২ সালে ২৮ দশমিক ছয় স্কোরসহ ক্ষুধার মাত্রা গুরুতর পর্যায়ে ছিল।  সূচকে বলা হয়, একটি দেশে অপুষ্টির মাত্রা, পাঁচ বছরের কম বয়সি শিশুদের উচ্চতা অনুযায়ী কম ওজন, পাঁচ বছরের কম বয়সি শিশুদের বয়স অনুযায়ী কম উচ্চতা এবং শিশুমৃত্যুর হার হিসাব করে ক্ষুধার মাত্রা নির্ধারণ করা হয়। বৈশ্বিক, আঞ্চলিক বা জাতীয়— যে কোনো পর্যায়ে ক্ষুধার মাত্রা নির্ণয় করতে এই সূচকগুলো ব্যবহার করা হয়।

এবারের বিশ্ব ক্ষুধা সূচক অনুযায়ী বিশ্বের অতিক্ষুধামাত্রায় আছে— এমন দেশের সংখ্যাও কম নয়। এমন দেশের সংখ্যায় অন্তত ৯টি দেশে ক্ষুধার মাত্রা ‘উদ্বেগজনক’ পর্যায়ে পৌঁছেছে। যার স্কোর ৩৫.১ থেকে ৪৯.৯। এসব দেশ হচ্ছে  সোমালিয়া, বুরুন্ডি, দক্ষিণ সুদান, মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্র, ইয়েমেন, মাদাগাস্কার, গণপ্রজাতন্ত্রী কঙ্গো, লেসেথো ও নাইজার। 

সূচকে দেখা যায়, বিশ্বের সবচেয়ে কম ক্ষুধার দেশগুলোর অধিকাংশই হলো অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ দেশ। আর কম ক্ষুধার দেশগুলো হলো  বেলারুশ, বসনিয়া অ্যান্ড হার্জেগোভিনা, চিলি, চীন, ক্রোয়েশিয়া, এস্তোনিয়া, জর্জিয়া, হাঙ্গেরি, কুয়েত, লাটভিয়া, লিথুয়ানিয়া, মলদোভা, মন্টিনিগ্রো, নর্থ মেসিডোনিয়া, রোমানিয়া, সার্বিয়া, স্লোভাকিয়া, তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও উরুগুয়ে।

গত ১২ জুলাই প্রকাশিত জাতিসংঘের পাঁচ সংস্থার (খাদ্য ও কৃষি সংস্থা, কৃষি উন্নয়ন তহবিল, জাতিসংঘ শিশু তহবিল, বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা) ‘দ্য স্টেট অব ফুড সিকিউরিটি অ্যান্ড নিউট্রিশন ইন দ্য ওয়ার্ল্ড’ শীর্ষক এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, বাংলাদেশে সোয়া পাঁচ কোটির বেশি মানুষ তীব্র থেকে মাঝারি ধরনের খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় আছে। এর মধ্যে এক কোটি ৮৭ লাখ মানুষ তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় আছে। এসব মানুষ দৈনন্দিন খাদ্য চাহিদা পূরণ করতে পারে না।