মাদক বন্ধ করার জন্য সবসময়ই পুলিশ কাজ করছে, এখানে ছাড় দেয়ার কোনো সুযোগ নেই। আমরা আইনের আওতায় নিয়ে আসব, তাদের বিরুদ্ধে মামলা হবে, গ্রেপ্তার হবে
—ফারুক হোসেন, উপপুলিশ কমিশনার, ডিএমপি
রাজধানীতে মাদকসেবীদের অভয়াশ্রম হয়ে উঠেছে বিহারি ক্যাম্পগুলো। বারবার অভিযান চালিয়েও থামানো যাচ্ছে না প্রকাশ্যে মাদক ব্যবসা। গত জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অভিযানে মোহাম্মদপুরের জেনেভা ক্যাম্পে গ্রেপ্তার হয়েছে ১৬৫ জন মাদকব্যবসায়ী। যদিও জেনেভা ক্যাম্পের একদম কাছেই রয়েছে পুলিশের তেজগাঁও বিভাগীয় উপ-কমিশনারের কার্যালয়। বিভিন্ন সময়ে মাদককারবারিদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনী গ্রেপ্তার করলেও তারা জামিনে বেরিয়ে ফের মাদক কারবারে জড়াচ্ছে। এভাবে বছরের পর বছর ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে মাদক মাফিয়ারা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনীর চোখ এড়াতে তারা মাদক বহনে ব্যবহার করছে শিশু-কিশোরদের। গ্রেপ্তার এড়াতে শিশুদের স্কুলের পোশাক পরিয়ে সাপ্লাই করে মাদক। অনলাইনে অর্ডার হলে এ ধরনের অভিনব পদ্ধতিতে নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছে দেয়া হয় মরণঘাতী ইয়াবাসহ নানা ধরনের মাদক। অভিযোগ রয়েছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কতিপয় অসাধু সদস্যের যোগসাজশে চলছে এ ধরনের কর্মকাণ্ড। যার নেতৃত্বে রয়েছেন থানা ও ডিসি অফিসের দুই কর্মকর্তা। গত এক সপ্তাহে আমার সংবাদের টানা অনুসন্ধানে উঠে আসে চাঞ্চল্যকর এসব তথ্য।
তথ্যমতে জানা যায়, রাজধানীর মোহাম্মদপুরে মাদকের ডেরা জেনেভা ক্যাম্পে প্রকাশ্যেই চলছে মাদক বেচাকেনা। ক্যাম্পের ঘিঞ্জি নোংরা পরিবেশে বিশাল মাদকের সাম্রাজ্য। এখানে পাওয়া যায় ভয়ঙ্কর সব ধরনের মাদক। এটা বিহারিদের সবচেয়ে বড় ক্যাম্প। এখানকার দূষিত ঘিঞ্জি পরিবেশে প্রায় ৫০ হাজার বিহারির বাস। সেক্টর রয়েছে ৯টি, প্রতি সেক্টরে ভিন্ন ভিন্ন মাদকের সিন্ডিকেট। ঢাকার বাইরে থেকে আসা মাদকের বড় মজুতখানাও এ ক্যাম্পে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এটিকে পুরো রাজধানীর মাদকের ডেরা বললেও ভুল হবে না। মাদককে কেন্দ্র করে ক্যাম্পে খুনোখুনির ঘটনাও ঘটছে।
জানতে চাইলে মোহাম্মদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহফুজুল হক ভুঞা বলেন, ‘মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের জিরো টলারেন্স। মাদকের সঙ্গে কোনো আপস নেই। ক্যাম্পে প্রায় প্রতিদিনিই অভিযান চালানো হচ্ছে। যাদেরই সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যাচ্ছে তাদের বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে’। অনুসন্ধানে জানা যায়, জেনেভা ক্যাম্প থেকে মাদকের হোম ডেলিভারি দেয়া হয়। গ্রাহকের সুবিধামতো জায়গায় পৌঁছে দেয়া হয় বিভিন্ন মাদক। আর এসব কাজে ব্যবহার করা হয় শিশুদের। স্কুল ব্যাগ ও ড্রেস পরে এসব মাদক নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছে দেয় ক্যাম্পের কিশোররা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনীর চোখ এড়াতেই তারা অভিনব এ পদ্ধতি ব্যবহার করে বলে জানা গেছে।
জানতে চাইলে জেনেভা ক্যাম্পের বিট অফিসার এবং মোহাম্মদপুর থানার এসআই শফিউল আলম বলেন, ‘ক্যাম্পে অভিযান তো প্রায় প্রতিদিনই চলে। আমি ব্যক্তিগতভাবে গত তিন দিনে ২৫ জন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করছি। প্রতিদিন মামলাও হচ্ছে। এরা অপরাধ করে, আমরা জেলে পাঠাই। আবার জামিন নিয়ে এসে একই কাজ করে।’ মোবাইল ফোনে অর্ডারের বিষয়ে তিনি বলেন, এ ধরনের তথ্য আমাদের কাছে এলে আমরা তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেই। মেক্সিমাম তো এখন এরকমই হয়। ফোনে কল দিয়ে বলে অমুক স্থানে দিয়ে যান। এমন তথ্য পেলে সিভিলে পুলিশ রেখে আমরা ব্যবস্থা নেই। তথ্য মতে, এসব ডেলিভারি দেয় শিশু-কিশোর, মহিলা যে কেউ হতে পারে। উঠতি বয়সিরাও ইয়াবাসহ মাদক সেবনের সঙ্গে জড়িত। সরেজমিন ঘুরে গত চার দিন জেনেভা ক্যাম্পে বিভিন্ন স্পটে মাদক বিকিকিনির চিত্র চোখে পড়ে। ক্যাম্পের বিষাক্ত স্যাঁতসেঁতে পানি-কাদার যুক্ত পরিবেশে কিশোর ও তরুণদের মাদক বিক্রি করতে দেখা গেছে। এ সময় মধ্যবয়সি কয়েক নারীকেও ইয়াবা ও গাঁজা বিক্রি করতে দেখা যায়। এখান থেকে মাদক সংগ্রহ করে বিভিন্ন এলাকার মাদককারবারিরা। তা ছড়িয়ে পড়ে পুরো রাজধানীতে। অপরিচিতদের দেখামাত্র তারা পর্যবেক্ষণ করে। স্কুল-কলেজপড়ুয়া কাউকে দেখলে তারা জিজ্ঞাসা করে, কিছু লাগবে কিনা। এ প্রতিবেদককে ক্যাম্পে ঘুরতে দেখে একাধিক কিশোর ও তরুণ ক্যাম্পে প্রবেশের কারণ জানতে চায়। বিরিয়ানি খেতে ঢুকেছি জানালে তারা বিরিয়ানির দোকান দেখিয়ে সেদিকে যেতে বলে। জানতে চাইলে ক্যাম্পের এক চায়ের দোকানদার বলেন, কারা মাদক ব্যবসা করে তা প্রশাসনের লোকজন জানে। বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধি এখান থেকে নিয়মিত মাসোয়ারা নেয়। ক্যাম্পের অনেক নেতা মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। মাসোয়ারা দিয়ে তারা নির্বিঘ্নে মাদক ব্যবসা চালাচ্ছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, পুরো জেনেভা ক্যাম্পটি ৯টি সেক্টরে বিভক্ত। এই ৯টি সেক্টরে এলাকাভেদে হেরোইন, ইয়াবা এবং গাঁজার আলাদা আলাদা গডফাদার রয়েছে। জেনেভা ক্যাম্পে এখন হেরোইনের ব্যবসা সবচেয়ে রমরমা। পুরো ক্যাম্প এলাকা হেরোইনের ব্যবসা করে বাবু ওরফে কালু বাবু ও বুম আলতাফ। যাদের হেরোইন ক্যাম্পের ১ থেকে ৯ নম্বর সেক্টর পর্যন্ত কয়েকজন পাইকারি বিক্রেতা পৌঁছে দেয় খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছে। হেরোইনের পাশাপাশি ইয়াবা বিক্রিতে মাদক সাম্রাজ্ঞী খ্যাত নার্গিস গত জুন মাসে ফের ক্যাম্পে ফিরে এসেছে। এসেই ক্যাম্পের ইয়াবা ব্যবসা তার অধীনে নিয়ে নিয়েছে। পিচ্চি রাজা, পিস্তল নাইম, সোহেল ওরফে এলএস বুনিয়া সোহেল, কোক মনু ওরফে গালকাটা মনু, ইমতিয়াজ, মাসুদের ছোট ছেলে লালান, টুনটুন, পাকিস্তানি রাজু ও তার মা রেহানা, ভাই আতিক, কাসিম ও রাসিদ ইয়াবার ডিলারশিপ নিয়েছে। তাদের মাদক পুরো ক্যাম্পে সেক্টরভেদে ব্যবসায়ীদের কাছে পৌঁছে দেয়া হয়।
ক্যাম্পের বাসিন্দারা বলেন, স্থানীয় প্রশাসন ও রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় এখানে মাদকের শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। মাদকবিরোধী অভিযানে দু-একজন খুচরা বিক্রেতা গ্রেপ্তার হয়। তবে গডফাদাররা থাকে ধরাছোঁয়ার বাইরে। ক্যাম্পে বর্তমানে দুটি গ্রুপ সক্রিয় রয়েছে। একটি গ্রুপের নেতৃত্বে রয়েছে মাদক সম্রাজ্ঞীখ্যাত নার্গিস এবং অন্য গ্রুপটির নেতৃত্বে রয়েছে বাবু। ডিএমপির মোহাম্মদপুর থানার তথ্য বলছে, জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত গত তিন মাসে জেনেভা ক্যাম্পের মাদক সংশ্লিষ্টতায় ৮৪টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এসব মামলায় ১৬৫ জনকে গ্রেপ্তার করে কোর্টে চালান করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। একই সময়ে র?্যাব, পুলিশ ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অভিযানে তিন হাজার ৮৭৮ ইয়াবা, ৪৬.২৫ কেজি গাঁজা ও ৩৬৬.৬ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার করা হয়েছে। মহাজির রিহ্যাবিলিটেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট মুভমেন্ট (এমআরডিএম) নামের একটি সংগঠন ক্যাম্পে মাদক নিয়ন্ত্রণসহ সামাজিক কার্যক্রম পরিচালনা করে। তবে অভিযোগ রয়েছে এ সংগঠনের সভাপতি বশির মোল্লা নিজেই মাদককারবারিদের পুলিশ ধরলে অনৈতিক সুবিধার বিনিময়ে তাদের ছাড়াতে কাজ করে। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, এই ধরনের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। এসব কাজ করে এসকে জিলানী, এসকে রব্বানি, মামুন, মাহবুব এদের ফুল পরিবার, মোল্লা জাহিত ওরফে জাহিত কাদেরি এবং টিপু তাহেরি। ওদের কোনো কাজ কাম নেই ওরা সারা দিন থানায় বসে থাকে। টাকা পয়সার বিনিময়ে মাদককারবারিতে ছাড়াতে কাজ করে। এসব করে ওরা কোটি কোটি টাকার মালিক হয়ে গেছে।
কোন সেক্টরের নেতৃত্বে কে : অনুসন্ধানে জানা যায়, ১ নম্বর সেক্টর এলাকায় আকবরের ছেলে সাদ্দাম, আব্দুল হামিদের ছেলে ভাতিজা রুবেল, কিসমতের ছেলে মোজাইরা ও রাজা, সাব্বিবের ছেলে জনি, বাবা সোহেল, বিল্লু ওরফে এলএস বিল্লাল, তিল্লি শাহিদ, মোল্লা জাহিদ, গোলাম কসাই হেরোইন ব্যবসা করে। এ এলাকায় গড়ে ওঠা শ্রমিকলীগের অফিসের আশপাশে প্রকাশ্যে হেরোইন ব্যবসা চলে। আবার কাউকে পুলিশ আটক করলে তিল্লি শাহিদ, মোল্লা জাহিদ, গোলাম কসাই মাদককারবারিদের ছাড়াতে প্রশাসনের কাছে তদবির বাণিজ্য করে। এই সেক্টরেই শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী ইশতিয়াকের বোন জামাই পিস্তল নাঈম ইয়াবার ডিলারশিপ নিয়েছে। তার ইয়াবার টাকা খুচরা ব্যবসায়ীদের থেকে উত্তোলন করতে নাজ ও বিপ্লব নামে দুজন ম্যানেজার নিয়োগ রয়েছে। পিস্তল নাঈমের ইয়াবা ডাবওয়ালা মাহতাব, জনি, সনু, কালী ফারজানা ও তার দুই ছেলে রনি, জনি বিক্রি করে। পাশেই ২ নম্বর সেক্টরে আরেক মাদক সম্রাট ইশতিয়াকের বড় ভাই মাহবুব ও তার স্ত্রী রুমা, ইশতিয়াকের ছোট ভাই জনি ও তার স্ত্রী আবদা হেরোইন ব্যবসায়ী। এই সেক্টরেই ইয়াবা ব্যবসার সঙ্গে পুরো পরিবার জড়িয়ে ইয়াবার ডিলারশিপ বাগিয়ে নিয়েছেন রাজু ওরফে পাকিস্তানি রাজু।
পাকিস্তানি রাজুর পরিবারে রাজুর মা রেহানা, ভাই আতিক, কাসিম ও রাসিদসহ পুরো পরিবারটি এখন ইয়াবার ডিলার। একই সেক্টরে পিচ্চি রাজা নামে আরেক মাদক ব্যবসায়ী ইয়াবার ডিলারশিপ নিয়েছেন। খুচরা ব্যবসায়ী থেকে তার ইয়াবা ব্যবসার টাকা উত্তোলন করতে সুমন, সুজন, আদিল ও ফায়জান নামে চারজন ম্যানেজার নিয়োগ দিয়েছেন। এই দুই সেক্টরের পর ৩ ও ৪ নম্বর সেক্টরের হেরোইন ব্যবসাকে ৫ নম্বর সেক্টরে বদলি করে নাদিম, সাজু ও তালিবের কাছে ডিলারশিপ হস্তান্তর করা হয়েছে। তারা এই সেক্টরে খুচরা বিক্রেতাদের কাছে হেরোইন পৌঁছে দেন। তবে ৩ নম্বর সেক্টরে গাঁজা বিক্রি সবচেয়ে জমজমাট হয়। এই সেক্টরটিতে চুয়া সেলিম হেরোইন, ইয়াবা ও গাঁজার ডিলারশিপ নিয়ে পুরো সেক্টরের মাদক নিয়ন্ত্রণ করেন। চুয়া সেলিমের মাদক রসুল, ওয়েস, ছোট মাসুদ ও তার বোন নাহিদ, নাজায়েজ জয়নুল, মনসুরের স্ত্রী জয়া ও গালি জাহিদ বিক্রি করেন। পাশাপাশি ৪ নম্বর সেক্টরের ইয়াবা ও হেরোইনের ডিলারশিপ নিয়েছেন জেনেভা ক্যাম্প পুলিশের বিট অফিসের ইনচার্জের সোর্স পিচ্চি রিয়াজ বলে জানা গেছে। তার অন্যতম সহযোগী হিসেবে বিজয় কাজ করে। বিজয়ের পাশাপাশি ইসমাইল ফকিরার ছেলে আরমান, সাব্বির ও বিত্তান কাজ করে। তাদের সঙ্গে ইমু, হাসান ও মানিক অন্যতম সহযোগী হিসেবে পরিচিত। ৫ নম্বর সেক্টরে হেরোইন ও ইয়াবা ব্যবসার ডিলারশিপ নিয়েছেন নাদিম, সাজু ও তালিব। হেরোইনের পাশাপাশি ইয়াবার ডিলারশিপ নিয়ে জহুরী নামে এক মহিলা মাদক ব্যবসায়ী। তিনি তার ছেলে মুনির, হাসিব, ঢাকনা সুমন, হিরা ও মিঠু এবং তার নাতনি তানিয়া ও তার স্বামী হূদয়কে দিয়ে মাদকের স্পট পরিচালনা করেন। হেরোইন, ইয়াবার পর গাঁজা ডিলারশিপ নিয়েছেন চোরা হিরা ও মনা।
৬ নম্বর সেক্টরে মাহবুব কাটিং ও তার বোন জাহিদের স্ত্রী রানী, লাট্টি পাট্টি পারভেজ এবং তার ফর্মা মনু ডিলার হিসেবে নিয়োজিত। তাদের পাশাপাশি ভাণ্ডারি শাকিল ও তার ছেলে সুমন, শালা মাসুম এবং মাসুমের স্ত্রী সাল্লু গাঁজার ডিলারশিপ নিয়ে গাঁজা ব্যবসা করে আসছেন। ৭ নম্বর সেক্টরে হেরোইন, ইয়াবা এবং গাঁজা ব্যবসায়ীরা মিলেমিশে ব্যবসা করে। এই সেক্টরটিতে মূল ডিলার হিসেবে সোহেল ওরফে এলএস বুনিয়া সোহেল ও তার ভাই রানা এবং রানার স্ত্রী শান্তা ডিলারদের মধ্যে অন্যতম। তাদের পাশাপাশি টেক্কা ও এসকে নাসিম এবং এসকে রাব্বানী ডিলার হিসেবে নিয়োজিত বলে জানা গেছে। এছাড়াও আহমেদ আলী, বেজি নাদিম, সেলটাস নাসিম ও তার ভাই নাদিম, সীমা এবং তার ছেলে ফরিদ এই তিন মাদকের ডিলারশিপ নিয়ে হেরোইন বিক্রি করছেন। একই সেক্টরে ডিলারদের ইয়াবা, হেরোইন ও গাঁজা রাস্তায় দাঁড়িয়ে বিক্রি করেন রাজ, অনিল, ডরেমন মিঠুন, ইলিয়াস মিঠুন, বাবলা মিলন, গল্লি, কারো বুড্ডা, জেকি, মুটকা রুবেল, কালো রহমান, আশ্রাফ আলী, একগাল রাজ ও বিচ্ছা। তবে ৮ নম্বর সেক্টরটি একটু বড় হওয়ায় দুটি গ্রুপে মাদকের ডিলার নিয়োজিত রয়েছে। এ সেক্টরে প্রথম গ্রুপের ডিলারশিপ নিয়েছেন কোক মনু ওরফে গালকাটা মনু, ইমতিয়াজ ও মাসুদের ছোট ছেলে লালন। তাদের মধ্যে খুচরা বিক্রেতা হিসেবে কালা ফয়সাল, চওড়া সেলিম, কালা আরজু ও তার ভাই সাজু, পিচ্চি আমির, পিচ্চি নাদির এবং ভাও বাপ্পু। এই সেক্টরের সেকেন্ড গ্রুপে ডিলারশিপ নিয়েছেন টুনটুন।
টুনটুনের মাদক বিক্রির দায়িত্ব পালন করেন দুলারা, আকতার, হোসাইন, নাটু মামা, কালো সামী, গোড়া সানী, জুয়েল, হূদয়, আজাদ ফেকু ও কালা মাসুম। এছাড়াও ৯ নম্বর সেক্টরে মাসুদ রানার ছোট বোন রানী ডিলারশিপ নিয়েছেন। মুরাদ, সানী ও সাগর তার তিন ছেলে মিলেমিশে ইয়াবা ও গাঁজা বিক্রি করেন। তাদের সঙ্গে গোরকা জুয়েলকে খুচরা বিক্রেতা হিসেবে নিয়োজিত রেখেছেন। ক্যাম্পের মাদককারকারিদের বেশিরভাগ এখন ক্যাম্পের বাইরে রয়েছে বলে জানিয়েছেন জেনেভা ক্যাম্পের চেয়ারম্যান এসকে গোলাম জিলানী। তিনি বলেন, ক্যাম্পের মাদককারবারিরা এখন বেশিরভাগ ক্যাম্পের বাইরে থাকে। গত কিছুদিন আগে মাদক নিয়ে দুই গ্রুপের মধ্যে মারামারি হয়। এরপর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান চালিয়ে একাধিক মাদককারবারিকে আটক করে। এখন ক্যাম্পের মাদক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ক্যাম্পে এখনও মাদক আছে তবে গোপনে বিক্রি হয়।’
জানতে চাইলে ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার এইচ এম আজিমুল হক সাংবাদিক পরিচয় পাওয়ার পর বলেন, ‘আমি এখন মিটিং-এ আছি পরে কথা বলব’।
এরপর তাকে ফোন দিয়ে আর পাওয়া যায়নি। জানতে চাইলে ডিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) ফারুক হোসেন আমার সংবাদকে বলেন, যারাই মাদক ব্যবসা করুক না কেন আমরা এ নিয়ে কাজ করছি, আমাদের থানা পুলিশ আছে, ডিবি আছে, তারাও কাজ করছে। ওইখানে স্কুলছাত্র বা মাদ্রাসার ছাত্র যেই হোক আমাদের কাছে তথ্য এলে অবশ্যই আমরা আইনের আওতায় নিয়ে আসব। তাদের বিরুদ্ধে মামলা হবে, গ্রেপ্তার হবে এবং মাদক বন্ধ করার জন্য সবসময়ই পুলিশ কাজ করছে, এখানে ছাড় দেয়ার কোনো সুযোগ নেই।