সমন্বিত ১০ ব্যাংকে চাকরির পরীক্ষা

কেন্দ্রে পৌঁছানোর দুশ্চিন্তায় পরীক্ষার্থীরা

মো. নাঈমুল হক প্রকাশিত: নভেম্বর ৮, ২০২৩, ১২:১৮ এএম
  • অবরোধ শেষ হওয়ার চার ঘণ্টার মধ্যে পরীক্ষা
  • ৫৭ কেন্দ্রে প্রায় পৌনে দুই লাখ চাকরিপ্রত্যাশী  
  • পরীক্ষা পেছানোর দাবি পরীক্ষার্থীদের

শুক্রবারই পরীক্ষা হবে
—মো. সাঈদুর রহমান খান
পরিচালক, ব্যাংকার্স সিলেকশন কমিটি

কর্তৃপক্ষের উচিত পরীক্ষা পিছিয়ে দেয়া 
—ড. মোসলেহ উদ্দিন
অধ্যাপক, ঢাবি

মো. হারুনুর রশিদ। ২০২১ সালের ব্যাংকার্স সিলেকশন কমিটির সদস্যভুক্ত ১০ ব্যাংকের প্রিলিমিনারির পরীক্ষার্থী তিনি। আগামী শুক্রবার ঢাকার দুই সিটির কোনো এক কেন্দ্রে তিনি পরীক্ষা দেবেন। তার বাড়ি ঢাকা থেকে আড়াইশ কিলোমিটার দূরে চট্টগ্রামে। বাসে বা ট্রেনে আসতে সর্বনিম্ন ছয় ঘণ্টা সময় লাগে। অথচ অবরোধ শেষ হওয়ার চার ঘণ্টার মধ্যে পরীক্ষা শুরু হবে তার। পরীক্ষার প্রস্তুতির পরিবর্তে তিনি ভাবছেন কীভাবে পরীক্ষায় অংশ নেবেন। তাই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে নিজের আতঙ্ক ও সীমাবদ্ধতার কথা শেয়ার করেন। তার ওই পোস্টে শতাধিকের বেশি মন্তব্য আসে। অধিকাংশের অনুভূতি একই রকম। শিক্ষার্থীরা জানান, অবরোধে এমনিতেই দূরপাল্লার বাস বন্ধ থাকে। রাতের ট্রেনে একটা আতঙ্ক থাকেই। এমন পরিস্থিতিতে ঝুঁকি নিয়ে আমরা কীভাবে পরীক্ষা দিব? কর্তৃপক্ষের কাছে পরীক্ষা পেছানোর দাবি জানান তারা। কিন্তু পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ তাদের আগের সিদ্ধান্তে অনড় অবস্থানে রয়েছে। 

জানা যায়, ২০২১ সালের ব্যাংকার্স সিলেকশন কমিটির সদস্যভুক্ত ১০টি ব্যাংকে সিনিয়র অফিসারের ৯২২টি শূন্য পদের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা। বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়োগ-সংক্রান্ত ওয়েবসাইটে এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সিনিয়র অফিসার পদে আবেদনকারী প্রার্থীদের মধ্য থেকে যোগ্য বিবেচিত প্রার্থীদের এক ঘণ্টাব্যাপী ১০০ নম্বরের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা ১০ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে। ওই দিন সকাল ১০টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনের এলাকাভুক্ত ৫৭টি কেন্দ্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। সিনিয়র অফিসার পদে মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা এক লাখ ৬৯ হাজার ৮৭৯। এরই মাঝে দেশজুড়ে চলছে বিএনপি-জামায়াতের অবরোধ কর্মসূচি। বুধবার ভোর ৬টা থেকে শুরু হয়ে শুক্রবার সকাল ৬টা পর্যন্ত চলবে এ অবরোধ। অর্থাৎ অবরোধ শেষ হওয়ার চার ঘণ্টার মধ্যে তাদের পরীক্ষার হলে বসতে হবে। এ নিয়ে ঢাকার বাইরের শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। অনুপম রায় নামের ময়মনসিংহের একজন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী আমার সংবাদকে বলেন, অবরোধে দূরপাল্লার সব বাস বন্ধ থাকে। রাতের ট্রেনের যাতায়াতও নিরাপদ না। ট্রেনের স্লিপার খুলে এর আগেও অবরোধ আমরা দেখেছি। এমন একটা পরিস্থিতিতে কর্তৃপক্ষ কীভাবে পরীক্ষার তারিখ দিলেন? 

এনায়েত সৈকত থাকেন রাজশাহীতে। তিনি আমার সংবাদকে বলেন, জীবন একটাই, আর একজনের জীবনের ওপর একটা পরিবার নির্ভর করে। দেশের এমন পরিস্থিতিতে পরীক্ষা স্থগিত করা প্রয়োজন। করোনার সময় পরীক্ষা স্থগিত করতে তো সমস্যা হয়নি। লালমনির হাটের নোমান বিল্লাহ বলেন, যারা কক্সবাজার, সাতক্ষীরা, রাজশাহী, পঞ্চগড় থেকে আসবে, সিলেকশন কমিটি তাদের কথা চিন্তা করছে না। তারা শুধু ঢাকার আশপাশের পরীক্ষার্থীদের কথা ভাবছেন। ট্রেনের সিডিউলের কথা কর্তৃপক্ষ জানে? এমন ভয়াবহ বিপদের দিকে ওনারা আমাদের কেন ঢেলে দিচ্ছেন? 

পরীক্ষা বন্ধ রাখার কথা জানিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ড. মোসলেহ উদ্দিন আমার সংবাদকে বলেন, সমন্বিত ১০ ব্যাংকের পরীক্ষা তো সেমিস্টার পরীক্ষার মতো না। এটা না হলে তো পরীক্ষার্থীদের সেশনজটে পড়ার মতো কোনো বিষয় নেই। এরপরও কর্তৃপক্ষ এরকম খারাপ সময়ে কেন পরীক্ষা নিচ্ছে? এতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শিক্ষার্থীদের ঢাকায় এসে পরীক্ষা দিতে হবে। সব শিক্ষার্থী তো পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে না। কর্তৃপক্ষের উচিত পরীক্ষা পিছিয়ে দেয়া। শিক্ষার্থীদের সুবিধাজনক সময়ে পরীক্ষা দেয়া প্রয়োজন। 

এ বিষয়ে ব্যাংকার্স সিলেকশন কমিটি সচিবালয়ের (বিএসসিএস) পরিচালক মো. সাঈদুর রহমান খান গতকাল সন্ধ্যায় মুঠোফোনে আমার সংবাদের এই প্রতিবেদককে জানান, শুক্রবারই পরীক্ষা হবে। এছাড়া তিনি আর কোনো কথা বলতে রাজি হননি।