তেজগাঁওয়ে বহুতল ট্রাক টার্মিনাল

আব্দুল কাইয়ুম প্রকাশিত: নভেম্বর ১৫, ২০২৩, ১২:৩২ এএম

রাজধানী তেজগাঁও এলাকায় বহুতলবিশিষ্ট ট্রাক টার্মিনাল নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন-ডিএনসিসি। সাতরাস্তা থেকে কারওয়ানবাজার ও ফার্মগেটের মধ্যে সংযোগকারী সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে ট্রাকস্ট্যান্ডের দখলে রয়েছে। ডিএনসিসি কর্তৃপক্ষ সড়কের পরিবর্তে একটি বহুতল ভবনে ট্রাক টার্মিনাল নির্মাণের পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেছে। তাই ট্রাক টার্মিনাল স্থাপনের জন্য দুই মন্ত্রণালয় থেকে ইতোমধ্যে ৫.১১ একর জায়গা বরাদ্দ পেয়েছে ডিএনসিসি। এর মধ্যে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ ৩.৫ একর এবং গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মালিকানাধীন ১.৬১ একর জায়গা ডিএনসিসিকে বরাদ্দ দিয়েছে। ভূমি মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পেলেই কার্যক্রম শুরু হবে।

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন সূত্র বলেন, দুটি মন্ত্রণালয় থেকে সাড়ে ৫.১১ একর জায়গা পাওয়া গেছে। এখন বহুতল টার্মিনাল নির্মাণে একটি প্রকল্প নেয়া হবে। সেখানে প্রকল্পের কাঠামো, ব্যয়, অর্থায়নের উৎস ও বাস্তবায়নকাল নির্ধারণ করা হবে। এই বহুতল ট্রাক টার্মিনালের নকশা স্থাপত্য অধিদপ্তর প্রণয়ন করবে। গণপূর্ত অধিদপ্তর নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন করবে। মানুষের প্রয়োজনেই ঢাকার ভেতরে একটি ট্রাকস্ট্যান্ড থাকা দরকার। এখন তো এলোমেলোভাবে পুরো এলাকায় থাকে। বহুতল টার্মিনাল হলে তখন প্রয়োজনে রাখবে আবার বের হয়ে যাবে। তখন আর যত্রতত্র রাখতে পারবে না। তবে কত তলাবিশিষ্ট টার্মিনাল হবে সেটি জায়গাটা বুঝে নেয়ার পর নকশা প্রণয়ন ও টেন্ডার প্রক্রিয়া শুরু হবে। এটি একটু সময় লাগবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ডিএনসিসির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় গত ১৭ অক্টোবর তাদের সিদ্ধান্ত জানিয়েছে। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে, তেজগাঁও শিল্প এলাকার ১ ও ২ নম্বর শিল্প প্লটটি শর্তসাপেক্ষে ব্যবহারের অনুমতি দেয়া হয়েছে। সিটি জরিপে ৮১০৩ দাগের ১ দশমিক ৬১১২ একর ভূমিতে হবে এই টার্মিনাল। গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে প্রস্তাবিত বহুতল টার্মিনালের নকশা স্থাপত্য অধিদপ্তর প্রণয়ন করবে এবং গণপূর্ত অধিদপ্তর নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন করবে। যে উদ্দেশ্যে ব্যবহারের অনুমতি দেয়া হয়েছে, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের পূর্বানুমতি ছাড়া সেই উদ্দেশ্য ব্যতীত অন্য কোনো উদ্দেশ্যে ভূমি ব্যবহার করা যাবে না। কোনো শর্ত ভঙ্গ হলে মন্ত্রণালয় অনুমতি বাতিল করতে পারবে। তেজগাঁও বহুতল ট্রাক টার্মিনালে দুই হাজার গাড়ি পার্ক করার ব্যবস্থা রাখার পরিকল্পনা রাখা হয়েছে। আসা যাওয়ার মধ্য দিয়ে প্রতিদিন প্রায় পাঁচ হাজার গাড়ি পার্ক করা যাবে। টার্মিনালটিতে ভূগর্ভস্থ ও ভূ-উপরিস্থ দুটো অংশই থাকবে। তবে মাটির উপরের অংশই হবে বেশি। তবে এখনো পর্যন্ত টার্মিনাল নির্মাণের সিদ্ধান্ত ছাড়া কোনো কিছুই চূড়ান্ত নয়। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরে টার্মিনাল বিষয়ে কার্যক্রম নেয়া হবে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডিএনসিসির স্থানীয় ২৪ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. সফিউল্লা আমার সংবাদকে বলেন, ট্রাক টার্মিনাল নির্মাণের অর্ডার হয়ে গেছে। টিঅ্যান্ডটি ও গৃহায়ণ মন্ত্রণালয়ের জায়গায় ট্রাক টার্মিনাল হবে। এই টার্মিনাল হয়ে গেলে আর কেউ রাস্তায় ট্রাক রাখতে পারবে না। এটি এলাকার জন্যও ভালো হবে। তবে সব কাজ শুরু হবে জাগা হস্তান্তর করার পর।
 

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা মকবুল হোসাইন আমার সংবাদকে বলেন, এখনো প্রকল্প হাতে নেয়া হয়নি। যদিও ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ এবং গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় ৫.১১ একর জমি ডিএনসিসিকে বরাদ্দ দিয়েছে তবে এখনো ভূমি মন্ত্রণালয় থেকে অনুমোদন আসেনি। ভূমি মন্ত্রণালয়ের কাগজ হাতে পেলেই নকশা, বাজেট ও সব কাজ শুরু হবে। তা ছাড়া এই পার্কিংয়ে অত্যাধুনিক সব সুবিধা থাকবে। গাড়ি রাখার পাশাপাশি চালক ও হেলপারদের জন্য থাকবে বিশেষ সুবিধা। জায়গা বুঝে পাওয়ার পর প্রকল্প হাতে নেয়া হবে। 

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের (বিআইপি) নির্বাহী পরিচালক নগর-পরিকল্পনাবিদ অধ্যাপক ড. আদিল মুহাম্মদ খান আমার সংবাদকে বলেন, ঢাকার মধ্যে ট্রাক রাখার মতো তেমন কোনো জায়গা নেই। তাই আমাদের ট্রাক পার্কিংয়ের জায়গা থাকা জরুরি। যদিও ট্রাক টার্মিনালগুলো শহরের বাইরে থাকে তবুও সার্বিক বিষয়ের চিন্তা করে ঢাকার ভেতরে থাকাটাও মন্দের কিছু না। ঢাকা শহরের মূল নকশায় তেজগাঁও ট্রাক টার্মিনাল ছিল না। পরে এটি করা হয়েছে। যে কারণে সড়টিতে বিক্ষিপ্তভাবে ট্রাক রাখা হয়। মানুষের বাসাবাড়ি পরিবর্তন ও বিভিন্ন কাজেই ট্রাকের প্রয়োজন হয়। পাশেই কাওরানবাজার। সেখানে মালামাল আনা-নেয়াতে ট্রাকের প্রয়োজন হয়। তবে টার্মিনাল করলেও সেটার ব্যবস্থাপনা আগে ঠিক করতে হবে। টার্মিনালের ভেতরেই যেন ট্রাক থাকে, সেটি নিশ্চিত করতে হবে সিটি কর্পোরেশনকে। তবে এটি অস্থায়ী সমাধান। এটি ছাড়াও ঢাকার মধ্যে একাধিক ট্রাক টার্মিনাল করা দরকার। একটা ট্রাকস্ট্যান্ড দিয়ে কখনো সমাধান হওয়া সম্ভব না। কোন ট্রাকগুলো শহরে থাকবে আর কোনগুলো বাইরে থাকবে তা নিশ্চিত করতে হবে। তবে সঠিক তদারকি না থাকলে ট্রাক টার্মিনালটি তেমন কোনো কাজে আসবে না।