সিট প্ল্যান হয়ে গেছে পেছানোর সুযোগ নেই
—আনন্দ কুমার বিশ্বাস, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক, পিএসসি
এরকম সময়ে পরীক্ষা নেয়া ঠিক হবে না
—ড. মোসলেহ উদ্দিন, অধ্যাপক লোকপ্রশাসন বিভাগ, ঢাবি
সারা দেশে চলছে বিএনপি-জামায়াতের হরতাল-অবরোধ। এ নিয়ে জনমনে বিরাজ করছে চাপা আতঙ্ক। বাস, ট্রেনে আগুন দেয়াসহ বিভিন্ন স্থানে ঘটছে নানা অপ্রত্যাশিত ঘটনা। ফলে বন্ধ রয়েছে দূরপাল্লার বাস ও আন্তঃজেলা বাসসেবা। সিটি কর্পোরেশন ও পৌর শহরে স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে কম চলছে গণপরিবহন। এরই মধ্যে ২৭ নভেম্বর ৪৫তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষা নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকারি কর্মকমিশন-পিএসসি। এ সিদ্ধান্তে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন শিক্ষার্থীরা। যদিও পরীক্ষার পেছানোর দাবিতে পিএসসি ও সিইসির কাছে পরীক্ষার্থীদের স্বাক্ষরসহ লিখিত আবেদন জানিয়েছেন তারা। কিন্তু পিএসসি তার সিদ্ধান্তে অনড়। তবে শিক্ষাবিদরা এমন খারাপ সময়ে পরীক্ষা না নেয়ার কথা জানিয়েছেন।
জানা যায়, গত ৬ জুন ৪৫তম বিসিএস পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এতে মোট ১২ হাজার ৭৮৯ জন প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন। ৪৫তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষা চলবে আগামী ১১ ডিসেম্বর পর্যন্ত। ৪৫তম বিসিএসের মাধ্যমে মোট দুই হাজার ৩০৯ জন ক্যাডার নেয়া হবে। নন-ক্যাডারে নেয়া হবে এক হাজার ২২ জন। সম্প্রতি রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে লিখিত পরীক্ষা স্থগিতের আবেদনপত্র জমা দেন পরীক্ষার্থীরা। আবেদনপত্রে ৪৫তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষার্থীদের স্বাক্ষরও রয়েছে।
পিএসসির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আবশ্যিক বিষয়ে লিখিত পরীক্ষা ২৭ নভেম্বর থেকে ৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে। ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম, খুলনা, বরিশাল, সিলেট, রংপুর ও ময়মনসিংহ কেন্দ্রে একযোগে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। কারিগরি বা পেশাগত ক্যাডারের পদসংশ্লিষ্ট বিষয়ের লিখিত পরীক্ষা ৬ ডিসেম্বর শুরু হয়ে চলবে ১১ ডিসেম্বর পর্যন্ত। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন শিক্ষার্থী বলেন, এ পরিস্থিতিতে যাদের সিট দূরে পড়বে, তারা কীভাবে যাবে? আমার বাসা পুরান ঢাকা সিট প্ল্যানে দেখলাম, সিট পড়েছে রূপনগর। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আসা-যাওয়া করতে হবে। আর ভোরে রওনা দিলে পরীক্ষা শেষ করে বাসায় ফিরতে সন্ধ্যা-রাত হবে।
সাইদুর রহমান নিজের দুশ্চিন্তার কথা জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বলেন, বিরোধীদের এই সহিংসতাকে ভয় পাই। একটি বিসিএস দীর্ঘায়িত হোক এটি আমরা কেউই চাই না। কিন্তু বিএনপির সহিংসতার মধ্যে জীবন বাজি রেখে পরীক্ষা দিতে চাই না। আমরা বিএনপির জ্বালাও-পোড়াও কর্মকাণ্ডের শিকার যেন না হই সে জন্য পরীক্ষা পেছাতে চাই। আমার সূর্যসেন হলের বন্ধু মইনুল সেদিন ভিসি চত্বরে হাঁটতে গিয়ে ককটেলের শিকার। এখনো খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে হাঁটে। গায়ে জ্বর। গতকাল গ্রামের বাড়ি চলে গেছে।
পরীক্ষা পেছানোর কথা জানিয়ে সানজিদা আক্তার নামে একজন চাকরিপ্রার্থী বলেন, নির্বাচন উপলক্ষে এই যে একটি ডামাডোল, ঢাকায় বাসায়ই টেকা যাচ্ছে না। মাইকিং, মিছিল এসব হচ্ছে। আর স্পেসিফিক কিছু জায়গায় রাস্তা ব্লক, এসব ঝামেলা। এক-দু’ঘণ্টার পরীক্ষা হলে দেয়া যায়। এসবের মধ্যে চার ঘণ্টার এতগুলা পরীক্ষা কিভাবে দেবো? এক-দুদিনের মধ্যে তো সারা দেশে এই ডামাডোল সৃষ্টি হবে। তিন রাত ঘুমাতে পারি না এসব শব্দে। আর পরীক্ষা চলাকালীন এসব মাইকিং বন্ধ রাখার ক্ষমতা কি আপনাদের আছে? আমার তো মনে হয় না। আপনাদের যা পাওয়ার শুধু পরীক্ষার্থীদের সাথেই।
পিএসসির পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক আনন্দ কুমার বিশ্বাস আমার সংবাদকে বলেন, আমাদের দায়িত্ব পরীক্ষা নেয়া। আমরা চাইলেই পরীক্ষা পেছাতে পারি না। এটি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দায়িত্ব। এখনো পরীক্ষা পেছানোর কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। ইতোমধ্যে সিট প্ল্যান দেয়া হয়েছে। পরীক্ষা পেছানোর সম্ভাবনা নেই। পরীক্ষা বন্ধ রাখার কথা জানিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ড. মোসলেহ উদ্দিন আমার সংবাদকে বলেন, লাগাতার বিসিএস পরীক্ষা দিতে হবে শিক্ষার্থীদের। এটি না হলে তো পরীক্ষার্থীদের সেশনজটের পড়ার মতো কোনো বিষয় নেই। এরপরও কর্তৃপক্ষ এরকম খারাপ সময়ে কেন পরীক্ষা নিচ্ছে? এতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শিক্ষার্থীদের ঢাকায় এসে পরীক্ষা দিতে হবে। সব শিক্ষার্থী তো পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে না। কর্তৃপক্ষের উচিত পরীক্ষা পিছিয়ে দেয়া। সব শিক্ষার্থীর সুবিধাজনক সময়ে পরীক্ষা দেয়া প্রয়োজন।