আমানত ফেরত দিচ্ছে না ফারইস্ট

মো. ইমরান খান প্রকাশিত: মার্চ ১০, ২০২৪, ০৭:২২ পিএম
  • গত ডিসেম্বরে গ্রাহকদের পাওনা পরিশোধের নির্দেশ দেয় আইডিআরএ, কিন্তু সেই নির্দেশনাও মানা হয়নি

আমাদের কিছুটা ক্যাশ সংকট রয়েছে। যার ফলে এসব অভিযোগ আসছে 

—আব্দুর রহিম ভূইয়া, এএমডি, ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি

ফারইস্টের গ্রাহকরা আমানতের টাকা ফেরতের জন্য দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। সংশ্লিষ্ট শাখায় বারবার যোগাযোগ করেও সাড়া মিলছে না কর্তৃপক্ষের। স্থানীয় অফিসের গ্রাহকরা পাত্তা না পেয়ে ‘ইন্স্যুরেন্স ডেভেলপমেন্ট রেগুলেটরি অথরিটি’-আইডিআরএ এসে অভিযোগ করছেন।  

পলিসির মেয়াদপূর্তি হওয়ার পরও আবেদন করে আমানত তুলতে ব্যর্থ হচ্ছেন ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের কিছু গ্রাহক। নির্ধারিত সময়ে আমানত না পেয়ে হতাশ এসব ভুক্তভোগী গ্রাহক। টাকা ফেরত দেয়ার কথা বলে বারবার তারিখ পেছানো হচ্ছে। প্রদত্ত তারিখে গিয়েও মিলছে না সাড়া— এমন অভিযোগ ভুক্তভোগী গ্রাহকদের। গ্রাহকদের শেষ আশ্রয় এখন আইডিআরের (ইন্স্যুরেন্স ডেভেলপমেন্ট রেগুলেটরি অথরিটি) কাছে। 

কুমিল্লা থেকে জামাল হোসেন জানান, ছয় বছর আগে পাঁচ বছর মেয়াদি বিমা করেন তিনি। এরপর প্রায় দেড় বছর আগে তার পলিসি পরিপক্ক হয়। এখন আমানতের তিন লাখ ২০ হাজার টাকা ফেরত পেতে নিয়মিত কোম্পানির স্থানীয় অফিসে যান। কিন্তু কর্তৃপক্ষ টাকা ফেরত দিচ্ছে না। টাকা দেয়ার কথা বলে বারবার তারিখ দেয়া হয় জামাল হোসেনকে। নির্ধারিত তারিখে গিয়ে পান না টাকা। আবার দেয়া হয় নতুন তারিখ। চতুর্থবারেও টাকা না পেয়ে তিনি অভিযোগ জানাতে সরাসরি চলে যান আইডিআরে।

আজাদ নামের একজন বিমা দাবিদার জানান, প্রায় ১৫ বছর আগে ১০ বছর মেয়াদি বিমা করেন তিনি। প্রায় চার বছর আগে তার পলিসির মেয়াদ পূর্ণ হলেও বারবার সংশ্লিষ্ট শাখায় যোগাযোগ করেও মিলছে না কোনো সুরাহা। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ফারইস্টের এক কর্মকর্তা জানান, বিমার মেয়াদ পূর্ণ হয়েছে এমন অনেক গ্রাহক তাদের আমানত ফিরে পেতে প্রতিদিন কোম্পানির স্থানীয় অফিসে ভিড় জমাচ্ছেন। এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির কুমিল্লা শাখার কর্মকর্তা আব্দুল মুবিন জানান, আমরা ক্যাশ সংকটের কারণে গ্রাহকদের পাওনা পরিশোধ করতে পারতেছি না। বছরের পর বছর অপেক্ষার পরও নানাভাবে বিমা কর্মকর্তাদের কাছ থেকে হয়রানির শিকার হচ্ছেন সাধারণ গ্রাহকরা। তবে এমন পরিস্থিতির জন্য ঢাকার প্রধান কার্যালয়ের সিদ্ধান্তকে দুষছে স্থানীয় বিমা অফিসগুলো।

নাম গোপন রাখার শর্তে একাধিক গ্রাহক আমার সংবাদকে জানান, তারা কেউ মাটিকাটার কাজ করে, কেউ-বা রিকশা চালিয়ে তিলে তিলে টাকা সঞ্চয় করে এখানে জমা রেখেছেন। বিমার মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার পরও টাকা ফেরত পাচ্ছেন না তারা। 

এ বিষয়ে জানার জন্য ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির অ্যাসিসট্যান্ট ম্যানেজিং ডিরেক্টর আব্দুর রহিম ভূইয়ার সাথে মুঠোফোনে যোগযোগ করা হলে তিনি আমার সংবাদকে জানান, এ বিষয়ে আমি কিছু বলতে পারব না, তবে এটুকু বলতে পারি আমাদের কিছুটা ক্যাশ সংকট রয়েছে। কতজন গ্রাহকের পলিসি আটকে আছে, কি কারণে আটকে আছে এসব বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তথ্য দিতে অপরাগতা জানান এই কর্মকর্তা। 

আইডিআরএ’র মুখপাত্র জাহাঙ্গীর আলম আমার সংবাদকে বলেন, আইডিআরএ’র মূল কাজই হচ্ছে কোম্পানিগুলোর উন্নয়নে কাজ করা। আইডিআরএ কোম্পানিগুলোকে মানুষের বিমা দাবি পরিশোধের জন্য বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগ করছে, জরিমানা করতেছে।

তিনি আরও বলেন, শুধু ফারইস্ট না আরও অনেক কোম্পানি আছে যার মধ্যে ৫/৭টা লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি রয়েছে অতিমাত্রায়। আইডিআরএ’র জন্য অব্যাহতভাবে চাপ প্রয়োগ করে যাচ্ছে, একেবারে রাতারাতি এটা ঠিক করা সম্ভব না এর জন্য কিছুটা সময় লাগবে। বর্তমান আইডিআরএ প্রশাসন বিমা দাবি পরিশোধে অতিমাত্রায় তৎপর, বিমা দাবি পরিশোধের পরিমাণ আগে থেকে কিছুটা বাড়ছে।

এর আগে গত ডিসেম্বরের মধ্যে বিমা গ্রহীতাদের পাওনা টাকা ফেরত দিতে নির্দেশ দিয়েছিল আইডিআরএ। ডিসেম্বরের মধ্যে গ্রাহকের টাকা ফেরত দিতে ব্যর্থ হলে ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের প্রিমিয়াম আয়, বিনিয়োগ হতে আয় ও লাইফ ফান্ড থেকে আয় অন্য কোনো খাতে খরচ না করার নির্দেশ দিয়েছিল বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)।

বিমাদাবি পরিশোধের জন্য বারবার নির্দেশ দেয়া সত্ত্বেও তা নিষ্পত্তিতে ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের তেমন কোনো উদ্যোগ দেখছেন না গ্রাহকরা।