বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতের ইতিহাসে একটি উজ্জ্বল নক্ষত্রের নাম আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক পিএলসি (এআইবিএল)। ১৯৯৫ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে দীর্ঘ তিন দশকের পথচলায় ব্যাংকটি কেবল একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে নয়, বরং আধুনিক ইসলামী ব্যাংকিংয়ের অন্যতম পথিকৃৎ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে। সম্পূর্ণ শরীয়াহভিত্তিক নীতিমালার ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত এই ব্যাংকটি দেশের সাধারণ ও কর্পোরেট গ্রাহকদের মাঝে সুদমুক্ত ব্যাংকিংয়ের যে আস্থা তৈরি করেছে, তা আজ ব্যাংক সেবার অনন্য উদাহরণ।
১. শরীয়াহভিত্তিক ব্যাংকিংয়ের মূল দর্শন: আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংকের সকল কার্যক্রমের মূলে রয়েছে পবিত্র কোরআন ও সুন্নাহর আলোকে প্রণীত ইসলামী শরীয়াহ। মুদারাবা (লাভ-লোকসান অংশীদারিত্ব), মুশারাকা (যৌথ মূলধনী বিনিয়োগ), মুরাবাহা (পণ্য ক্রয়-বিক্রয়) এবং ইজারা (ইজারা বা লিজ) এই চারটি মূল স্তম্ভের ওপর ভিত্তি করে ব্যাংকটি তাদের আমানত সংগ্রহ ও বিনিয়োগ পরিচালনা করে। ব্যাংকের প্রতিটি পণ্য ও সেবা একটি শক্তিশালী ‘শরীয়াহ বোর্ড’ দ্বারা নিয়মিত নিরীক্ষণ করা হয়, যা গ্রাহকদের সুদমুক্ত ও হালাল আয়ের নিশ্চয়তা দেয়।
২. নতুন নেতৃত্বে আগামীর লক্ষ্য: মো. রাফাত উল্লা খান: ব্যাংকিং খাতে গতিশীলতা ও আধুনিকায়ন নিশ্চিত করতে আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক পিএলসি-র ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও সিইও হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন অভিজ্ঞ ব্যাংকার মো. রাফাত উল্লা খান। ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে আগামী তিন বছরের জন্য তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।
এর আগে তিনি ব্যাংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এএমডি) এবং চিফ রিস্ক অফিসার হিসেবে অত্যন্ত সফলতার সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন। তার সাহসিকতা, দূরদর্শিতা এবং গভীর ব্যাংকিং জ্ঞান ব্যাংকটিকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাচ্ছে। জনাব রাফাত উল্লা খানের সরাসরি দিকনির্দেশনায় ব্যাংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক এবং শাখা ব্যবস্থাপকগণ একযোগে কাজ করে যাচ্ছেন। তার মূল লক্ষ্য হলো আলোচনা ও সমালোচনার ঊর্ধ্বে থেকে ব্যাংকিং সেবার মানকে দেশের শীর্ষ পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া এবং গ্রাহক সন্তুষ্টিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়া।
৩. আমানত ও বিনিয়োগের বহুমুখিতা: গ্রাহকদের সঞ্চয়ের নিরাপত্তা ও লভ্যাংশ নিশ্চিত করতে এআইবিএল বিভিন্ন মেয়াদি আমানত সেবা প্রদান করে। ‘আল ওয়াদিয়া’ চলতি আমানত এবং ‘মুদারাবা’ সঞ্চয়ী আমানতের মাধ্যমে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে বড় শিল্পপতি সবাই ব্যাংকিং সেবার আওতায় এসেছেন।
বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ব্যাংকটি দেশের কৃষি, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) এবং বৃহৎ কর্পোরেট খাতে অর্থায়ন করে জাতীয় অর্থনীতিতে অবদান রাখছে। বাই-মুআজ্জাল ও ইজারা পদ্ধতির বিনিয়োগগুলো ব্যবসায়ীদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।
৪. বৈদেশিক বাণিজ্য ও রেমিটেন্স সেবা: দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করতে এবং প্রবাসীদের কষ্টার্জিত অর্থ নিরাপদে দেশে পৌঁছাতে আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্স দ্রুততম সময়ে স্বজনদের হাতে পৌঁছে দেয়ার জন্য ব্যাংকটি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সাথে নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে। এছাড়াও আমদানি-রপ্তানি অর্থায়ন বা ট্রেড ফাইন্যান্সিংয়ের মাধ্যমে দেশের বৈদেশিক বাণিজ্যের চাকা সচল রাখতে ব্যাংকটি নিরলস কাজ করছে।
৫. ডিজিটাল ব্যাংকিং ও ক্যাশলেস বাংলাদেশ: বর্তমান সময়ের ডিজিটাল চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক তথ্যপ্রযুক্তিতে ব্যাপক বিনিয়োগ করেছে। ব্যাংকের অনলাইন ব্যাংকিং, আধুনিক এটিএম বুথ এবং মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাপের মাধ্যমে গ্রাহকরা এখন ঘরে বসেই সব ধরনের লেনদেন করতে পারছেন।
বর্তমানে ব্যাংকটির ২২৬টি শাখা এবং ৭৪৭টি এজেন্ট আউটলেট রয়েছে। বিশেষ করে প্রান্তিক পর্যায়ে ব্যাংকিং সুবিধা পৌঁছে দিতে তাদের ‘এজেন্ট ব্যাংকিং’ সেবা ক্যাশলেস বাংলাদেশ বিনির্মাণে এক বৈপ্লবিক ভূমিকা রাখছে। গ্রামের সাধারণ মানুষ আজ নিজ বাড়ির পাশে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে সঞ্চয় ও লেনদেনের সুবিধা পাচ্ছেন।
৬. সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) ও যাকাত তহবিল: আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক কেবল মুনাফা অর্জন নয়, বরং মানবতার কল্যাণেও নিবেদিত। ব্যাংকের যাকাত তহবিল ও সিএসআর (কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপন্সিবিলিটি) কার্যক্রমের মাধ্যমে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও আর্তমানবতার সেবায় বিপুল অর্থ ব্যয় করা হয়। দরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থীদের শিক্ষাবৃত্তি প্রদান এবং দুর্যোগকালীন সময়ে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো ব্যাংকটির নিয়মিত ঐতিহ্যের অংশ।
৭. অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতায় অনন্য ভূমিকা: নতুন এমডি মো. রাফাত উল্লা খানের সুযোগ্য নেতৃত্বে ব্যাংকটি বর্তমান অর্থনীতির অস্থিরতার মধ্যেও স্থিতিশীলতা বজায় রেখেছে। আমানত, রেমিটেন্স, লভ্যাংশ এবং ফিক্সড ডিপোজিট (এফডিআর) সহ প্রতিটি ক্ষেত্রে গ্রাহকদের স্বার্থ রক্ষায় ব্যাংকটি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। জনাব রাফাত উল্লা খান কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন যেন গ্রাহক সেবায় কোনো শৈথিল্য না থাকে এবং স্বচ্ছতার সাথে প্রতিটি কাজ সম্পন্ন হয়।
আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক পিএলসি আজ কেবল একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান নয়, এটি লাখ লাখ গ্রাহকের আস্থার প্রতীক। ইসলামী শরীয়াহর কঠোর অনুসরণ, আধুনিক প্রযুক্তি এবং মো. রাফাত উল্লা খানের মতো অভিজ্ঞ নেতৃত্বের সমন্বয়ে ব্যাংকটি ২০২৬ সালে এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে এটাই প্রত্যাশা। দেশের অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করতে এবং সুদমুক্ত আধুনিক ব্যাংকিং সেবাকে প্রতিটি ঘরে পৌঁছে দিতে আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক চিরকাল আস্থার সাথে কাজ করে যাবে।
জেএইচআর