সন্তানের বিয়ে নিয়ে দুশ্চিন্তা? সোনালী ব্যাংকের ‘বিবাহ সঞ্চয় স্কিমে’ মিলবে স্বস্তি

তানজিদ সরওয়ার প্রকাশিত: জানুয়ারি ৬, ২০২৬, ০৪:২১ পিএম

বাঙালি সংস্কৃতিতে বিয়ে মানেই এক বিশাল উৎসব, আর উৎসবের পিঠোপিঠি আসে খরচের বড় একটি অংক। একটি মধ্যবিত্ত বা নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারে সন্তানের বিয়ের খরচ সামলানো অনেক সময় পাহাড়সম চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়।

বিশেষ করে আমাদের দেশের সামাজিক প্রেক্ষাপটে কন্যাপক্ষ বা বরপক্ষ, উভয়কেই বিশাল বাজেটের পরিকল্পনা করতে হয়। জীবনের এই গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়টি যেন কোনো আর্থিক সংকটে থমকে না যায়, সেজন্য রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংক নিয়ে এসেছে বিশেষ ‘বিবাহ সঞ্চয় স্কিম’।

দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার মাধ্যমে অল্প অল্প সঞ্চয় করে কীভাবে সন্তানের বা নিজের বিয়ের সুন্দর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা যায়, তার একটি পূর্ণাঙ্গ চিত্র তুলে ধরা হলো এই প্রতিবেদনে।

কেন করবেন বিবাহ সঞ্চয় স্কিম? সাধারণত আমরা ভবিষ্যতের জন্য ডিপিএস বা সাধারণ সঞ্চয় করি। কিন্তু বিবাহ সঞ্চয় স্কিম বিশেষভাবে ডিজাইন করা হয়েছে যেন একটি নির্দিষ্ট সময় পর বিয়ের কেনাকাটা, অনুষ্ঠান বা আনুষঙ্গিক খরচের জন্য মোটা অংকের তহবিল হাতে থাকে। বর্তমানের ঊর্ধ্বমূল্যের বাজারে হঠাৎ করে কয়েক লাখ টাকা জোগাড় করা কঠিন, কিন্তু ১০ বছরের একটি পরিকল্পনা থাকলে তা অত্যন্ত সহজ হয়ে যায়।

সোনালী ব্যাংকের এই স্কিমটি মূলত ১০ বছর মেয়াদী। দীর্ঘ সময়ের এই সঞ্চয় পরিকল্পনা সাধারণ মানুষের সামর্থ্যের কথা মাথায় রেখে সাজানো হয়েছে।

সর্বনিম্ন ১০০ টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ১০,০০০ টাকা পর্যন্ত প্রতি মাসে জমা দেওয়া যাবে। গ্রাহক চাইলে ১০০, ২০০, ৫০০ থেকে শুরু করে ১,০০০, ৫,০০০ বা ১০,০০০ টাকার যেকোনো একটি স্ল্যাব বেছে নিতে পারেন।

এই স্কিমে ৬.৫০ শতাংশ চক্রবৃদ্ধি হারে সুদ বা মুনাফা প্রদান করা হয়। অর্থাৎ আপনার জমানো টাকার ওপর যে সুদ আসবে, তার ওপরও সুদ যোগ হবে, যা মেয়াদের শেষে বড় একটি অংক নিশ্চিত করে।

মাসের যেকোনো দিন কিস্তি জমা দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। নির্দিষ্ট তারিখে টাকা জমা দিতে না পারলে সাধারণত অন্যান্য ব্যাংকে যে কড়া জরিমানার নিয়ম থাকে, এখানে তা নেই।

কারা খুলতে পারবেন এই হিসাব? এই স্কিমটি অত্যন্ত অন্তর্ভুক্তিমূলক। প্রথমত, অভিভাবকগণ তাদের নাবালক বা প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানের নামে এই হিসাব খুলতে পারবেন। দ্বিতীয়ত, কোনো প্রাপ্তবয়স্ক তরুণ বা তরুণী নিজের ভবিষ্যতের বিয়ের খরচ নিজেই জোগাড় করতে চাইলে ব্যক্তিগতভাবে এই হিসাব খুলতে পারবেন। তবে এক্ষেত্রে নমিনি থাকা বাধ্যতামূলক।

হিসাব খোলার প্রক্রিয়া ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র সোনালী ব্যাংকের যেকোনো শাখায় গিয়ে সাধারণ সঞ্চয়ী হিসাব খোলার ফরম পূরণ করেই এই বিবাহ স্কিম চালু করা সম্ভব। তবে ফরমের ওপরে ডান দিকে ‘বিবাহ সঞ্চয় স্কিম’ এবং মাসিক কিস্তির পরিমাণ স্পষ্টভাবে লিখে দিতে হয়।

আবেদনের জন্য যা যা লাগবে, আমানতকারীর দুই কপি সত্যায়িত পাসপোর্ট সাইজ ছবি, জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্ম নিবন্ধনের ফটোকপি, নমিনির এক কপি ছবি যা আমানতকারী সত্যায়িত করবেন এবং বিশেষ ক্ষেত্রে কর শনাক্তকরণ নম্বর বা টিআইএন সার্টিফিকেটের প্রয়োজন হতে পারে।

মেয়াদের আগে টাকা উত্তোলন করলে কী সুবিধা? অনেকের মনে প্রশ্ন থাকে, যদি ১০ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই টাকার প্রয়োজন হয় বা স্কিমটি বন্ধ করতে হয়, তবে কী হবে? সোনালী ব্যাংক গ্রাহকদের মেয়াদের ওপর ভিত্তি করে নির্দিষ্ট হারে মুনাফা দেয়।

১ বছরের কম সময়ে বন্ধ করলে কোনো মুনাফা পাওয়া যাবে না, শুধু জমা দেওয়া মূল টাকা ফেরত পাবেন। ১ থেকে ৩ বছরের মধ্যে ৪ শতাংশ হারে সরল সুদসহ টাকা ফেরত পাওয়া যাবে। ৩ থেকে ৫ বছরের মধ্যে ৫ শতাংশ হারে সরল সুদ মিলবে। ৫ থেকে ১০ বছরের নিচে ৬.৫০ শতাংশ সরল সুদ পাওয়া যাবে এবং ১০ বছর পূর্ণ হলে পূর্ণ মেয়াদে ৬.৫০ শতাংশ চক্রবৃদ্ধি হারে আকর্ষণীয় মুনাফা পাওয়া যাবে।

আধুনিক ব্যাংকিং সুবিধা সোনালী ব্যাংকের এই স্কিমটি শুধু টাকা জমানোর মাধ্যম নয়, এটি গ্রাহকবান্ধব ডিজিটাল সুবিধার সাথেও যুক্ত। আপনার যদি সোনালী ব্যাংকে আগে থেকেই কোনো সঞ্চয়ী হিসাব থাকে, তবে আপনি স্থায়ী নির্দেশ বা স্ট্যান্ডিং ইনস্ট্রাকশন দিয়ে রাখতে পারেন। এতে প্রতি মাসে স্বয়ংক্রিয়ভাবে আপনার মূল অ্যাকাউন্ট থেকে কিস্তির টাকা কেটে নেওয়া হবে।

ব্যাংকে যাওয়ার ঝামেলা ছাড়াই আপনার সঞ্চয় হতে থাকবে। এছাড়া কিস্তির টাকা অগ্রিম জমা দেওয়ার সুবিধাও রয়েছে।

বিয়ে মানেই আনন্দ, আর সেই আনন্দকে দুশ্চিন্তামুক্ত করতে আগাম প্রস্তুতির বিকল্প নেই। আপনার সন্তান আজ ছোট হতে পারে, কিন্তু সময় দ্রুত বয়ে যায়। আজকের সামান্য ১০০ টাকা বা ১০০০ টাকার সঞ্চয় ১০ বছর পর আপনার সন্তানের বিয়ের আসরে বড় একটি শক্তির জোগান দেবে। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের নিরাপত্তা আর আকর্ষণীয় মুনাফার এই সমন্বয় আপনার সুন্দর আগামীর নিশ্চয়তা হতে পারে।

জেএইচআর/ইএইচ