বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বাপেক্স বর্তমানে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ২০২৬ সালের হালনাগাদ তথ্যানুযায়ী, নতুন খনি অনুসন্ধান এবং পুরানো কূপ সংস্কারের মাধ্যমে দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন বৃদ্ধিতে সংস্থাটি অভাবনীয় সাফল্য প্রদর্শন করছে।
বর্তমান সরকারের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু এবং প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের দিকনির্দেশনায় বাপেক্স এখন অনেক বেশি গতিশীল। বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা মেটাতে এবং আমদানিকৃত এলএনজির ওপর নির্ভরতা কমাতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন এন্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেড (বাপেক্স)। বর্তমান মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু এবং প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের সুযোগ্য নেতৃত্বে এবং বাপেক্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মো. ফজলুল হকের কারিগরি দক্ষতায় সংস্থাটি এখন দেশের জ্বালানি খাতের মেরুদণ্ড হিসেবে কাজ করছে।
নতুন মন্ত্রিত্ব ও রাজনৈতিক অঙ্গীকার
২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে শপথ গ্রহণের পর মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বাপেক্স কর্মকর্তাদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, দেশের প্রতিটি ইঞ্চি মাটিতে খনিজ সম্পদের অনুসন্ধান চালানো হবে। তিনি বাপেক্সের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে নতুন রিগ ক্রয় এবং প্রযুক্তিগত আধুনিকায়নে বড় ধরনের বাজেট বরাদ্দের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতও মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের মনোবল বৃদ্ধিতে নিয়মিত ড্রিলিং সাইটগুলো পরিদর্শন করছেন।
২০২৬ সালের কাজের প্রধান ক্ষেত্রসমূহ ও অগ্রগতি
বাপেক্স বর্তমানে চারটি প্রধান স্তরে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে— নতুন খনি অনুসন্ধান: ২০২৫ সালের মাঝামাঝি জুন মাসের শুরুতে বাপেক্স জামালপুর-১ কূপে বাণিজ্যিক গ্যাসের সন্ধান পেয়েছে, যা দেশের ৩০তম গ্যাসক্ষেত্র হিসেবে স্বীকৃত হতে যাচ্ছে। এছাড়াও ভোলা, শ্রীকাইল এবং সিলেটের জকিগঞ্জে নতুন ড্রিলিং কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
গভীর কূপ খনন: তিতাস, বাখরাবাদ এবং মোবারকপুর কাঠামোতে ৬,০০০ মিটার পর্যন্ত গভীর কূপ খনন করে নতুন স্তরের গ্যাস প্রাপ্তির চেষ্টা চলছে।
সংস্কার কাজ: বন্ধ হয়ে যাওয়া বা উৎপাদন কমে যাওয়া কূপগুলো পুনরায় সচল করতে বড় ধরনের ‘ওয়ার্কওভার’ কর্মসূচি হাতে নেয়া হয়েছে। ২০২৬-২৮ মেয়াদে ১০০টি কূপ সংস্কারের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
ডিজিটাল ও প্রশাসনিক আধুনিকায়ন: কাওরান বাজারের প্রধান কার্যালয় থেকে এখন রিয়েল-টাইম ডাটা মনিটরিংয়ের মাধ্যমে ড্রিলিং সাইটগুলো নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে।
ভোলা ও জামালপুর : আগামীর জ্বালানি হাব
বাপেক্সের বর্তমান সাফল্যের বড় একটি অংশজুড়ে রয়েছে ভোলা দ্বীপ। ভোলার শাহবাজপুর ও ভোলা উত্তর গ্যাসক্ষেত্র থেকে দৈনিক ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উৎপাদনের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হচ্ছে। এখান থেকে উৎপাদিত গ্যাস পাইপলাইনের মাধ্যমে বরিশাল ও খুলনার শিল্পাঞ্চলে সরবরাহের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। অন্যদিকে, জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলায় নতুন গ্যাস প্রাপ্তি উত্তরাঞ্চলের জ্বালানি সংকট নিরসনে নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে।
আধুনিক রিগ ও কারিগরি সক্ষমতা
প্রকৌশলী মো. ফজলুল হকের নেতৃত্বে বাপেক্স নিজস্ব পাঁচটি রিগ (বিজয়-১০, বিজয়-১১ ইত্যাদি) ব্যবহার করে ড্রিলিং চালাচ্ছে। পাশাপাশি কাজের গতি বাড়াতে তৃতীয় পক্ষের সাথে অংশীদারিত্বের মাধ্যমে আরও ছয়টি রিগ ভাড়া করে মোট ১১টি রিগ দিয়ে একযোগে সারা দেশে অপারেশন চালানো হচ্ছে, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম।
মজুত ও উৎপাদনের বর্তমান পরিসংখ্যান (২০২৬)
দৈনিক দেশীয় উৎপাদন: বাপেক্স এবং অন্যান্য দেশীয় কোম্পানিগুলো বর্তমানে দৈনিক প্রায় ১,২০০ এমএমসিএফ গ্যাস সরবরাহ করছে।
ভবিষ্যৎ লক্ষ্যমাত্রা: ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ জাতীয় গ্রিডে আরও ১৪৩ এমএমসিএফডি গ্যাস যুক্ত করার পরিকল্পনা সফলভাবে এগিয়ে যাচ্ছে।
চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
বাপেক্সের সামনে প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো পুরানো খনিগুলোর দ্রুত মজুত ফুরিয়ে যাওয়া। এই সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ থেকে ২০২৮ সালের মধ্যে মোট ১০০টি নতুন ও সংস্কার কূপ খননের মহাপরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, ‘আমাদের দেশীয় প্রকৌশলীরা এখন বিশ্বমানের। আমরা চাই বাপেক্স কেবল দেশেই নয়, বরং আন্তর্জাতিকভাবেও তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের কাজ করুক।’
বাপেক্স কেবল একটি কোম্পানি নয়, এটি বাংলাদেশের জ্বালানি স্বাধীনতার প্রতীক। মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু এবং প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের সময়োচিত সিদ্ধান্ত এবং প্রকৌশলী মো. ফজলুল হকের দূরদর্শী নেতৃত্বে বাপেক্স যেভাবে নতুন নতুন খনি আবিষ্কার করছে, তাতে ২০২৬ সাল হতে পারে বাংলাদেশের জ্বালানি খাতের টার্নিং পয়েন্ট। কর্মচারীদের অক্লান্ত পরিশ্রম আর কর্মকর্তাদের কারিগরি মেধার সমন্বয়ে দেশ এখন স্বনির্ভর জ্বালানির পথে দ্রুত ধাবমান।