কমলাপুরে ঘরমুখো মানুষের চাপ

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: মার্চ ১৭, ২০২৬, ১২:১৯ এএম

পবিত্র ঈদুল ফিতরের ছুটির সময়ে দেশের রাজধানী ঢাকা থেকে গ্রামীণ অঞ্চলে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা শুরু হয়েছে। দরজায় কড়া নাড়ছে ঈদ। ধর্মীয় উৎসব ও পরিবারের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করার আকাঙ্ক্ষায় রাজধানীর মানুষই এখন গ্রামে ফিরতে মরিয়া। এই চাপের প্রভাব সবচেয়ে স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে রাজধানীর প্রধান রেলস্টেশন কমলাপুরে। ঈদকে কেন্দ্র করে প্ল্যাটফর্মে যাত্রীদের উপস্থিতি ক্রমবর্ধমান, যা প্রতিদিন সকালে আরও চোখে পড়ছে।

তবে, রেলওয়ের দুই স্তরের টিকিট যাচাই ব্যবস্থা কার্যকর থাকায় প্ল্যাটফর্মে আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে জটলা এবং বিশৃঙ্খলা কমেছে। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানাচ্ছে, এই ব্যবস্থা চালু করার ফলে যাত্রীরা নির্ধারিত ট্রেনে সুশৃঙ্খলভাবে উঠতে পারছেন এবং অনাকাঙ্ক্ষিত হুড়োহুড়ি এড়ানো যাচ্ছে। গতকাল সোমবার সকালে কমলাপুর রেলস্টেশনে সরেজমিন দেখা গেছে, যাত্রীরা ব্যাগপত্র এবং ঈদের আনন্দ নিয়ে স্টেশনে আসছেন। অনেকেই নির্ধারিত সময়ের আগেই পৌঁছান যাতে শেষ মুহূর্তের চাপ এড়ানো যায়। স্টেশনের মূল গেটে একবার এবং প্ল্যাটফর্মে ওঠার আগে দ্বিতীয়বার- এই দুই ধাপে টিকিট যাচাই হচ্ছে। এতে ট্রেনে ওঠার প্রক্রিয়া দ্রুত ও নিরাপদ হচ্ছে।

স্টেশনের গেটে টিকিট চেকিংয়ের দায়িত্বে থাকা আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘গতকালের তুলনায় আজ যাত্রীর চাপ একটু বেশি। আমরা দুই স্তরে টিকিট চেক করছি। টিকিট নিশ্চিত হওয়ার পরই যাত্রীরা ভেতরে ঢুকতে পারছেন। এতে প্ল্যাটফর্মে বিশৃঙ্খলা কমে গেছে। আমাদের লক্ষ্য, যাত্রীদের নিরাপদ এবং স্বস্তিদায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করা।’

রেলওয়ের তথ্য অনুযায়ী, সকাল থেকে অধিকাংশ ট্রেন নির্ধারিত সময়েই ছেড়েছে। যদিও দু-একটি ট্রেন সামান্য বিলম্বিত হয়েছে, তবে বড় ধরনের শিডিউল বিপর্যয় হয়নি। চাঁপাইনবাবগঞ্জগামী রাজশাহী কমিউটার ট্রেনের যাত্রী হাসান শিকদার বলেন, ‘এবার যাত্রার পরিবেশ ভালো মনে হচ্ছে। টিকিট ছাড়া মানুষ স্টেশনে ঢুকতে পারছে না, তাই ভিড় বা হুড়োহুড়ি নেই। ট্রেনের ভেতরও পরিবেশ শান্ত। আশা করছি নিরাপদে গ্রামে পৌঁছাতে পারব।’

সিলেটগামী জয়ন্তিকা এক্সপ্রেসের যাত্রী মুহাম্মদ জিকু বলেন, ‘অনলাইনে টিকিট পাওয়া এবার সহজ হয়েছে। আগে স্টেশনে গিয়ে টিকিট কাটতে অনেক ঝামেলা হতো। এবার সঠিক সময়ে চেষ্টা করায় সহজেই টিকিট পেয়েছি। এর ফলে যাত্রা অনেকস্বস্তিদায়ক হয়ে গেছে।’

তারাকান্দিগামী অগ্নিবীণা এক্সপ্রেসের যাত্রী নুসরাত জাহান নিপুও স্টেশনের ব্যবস্থাপনায় সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘স্টেশনে এসে কোনো বাড়তি ভোগান্তি পোহাতে হয়নি। চেকিং ব্যবস্থা থাকায় প্ল্যাটফর্মে হকার বা অপ্রাসঙ্গিক মানুষের ভিড় নেই। নারীদের জন্য পরিবেশটা বেশ নিরাপদ মনে হচ্ছে।’

কমলাপুর স্টেশন ম্যানেজার জানান, শেষ মুহূর্তের যাত্রীচাপ সামাল দিতে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তৎপর। স্টেশনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রেলওয়ের নিজস্ব নিরাপত্তাকর্মীরাও নিরলসভাবে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়াও রেলওয়ে কর্মকর্তারা জানান, ঈদযাত্রা সাধারণত বছরের সবচেয়ে ব্যস্ত সময়। তাই প্রতিটি স্টেশনে ভিড় নিয়ন্ত্রণ, ট্রেন শিডিউল মেনে চলা এবং যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য বিশেষ প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। বিশেষভাবে নারীদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা হয়েছে। স্টেশনের নিরাপত্তা চক্র বাড়ানো হয়েছে এবং প্ল্যাটফর্মে হকার, অপ্রাসঙ্গিক লোক এবং ভিড় নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়েছে।

রেলওয়ের কর্মকর্তারা বলেন, প্ল্যাটফর্মে অযাচিত ভিড় কমাতে যাত্রীদের জন্য জানানো হয়েছে নির্দিষ্ট সময়ে উপস্থিত হওয়ার পরামর্শ। এছাড়া, যাত্রীরা যাতে সুষ্ঠুভাবে নির্ধারিত ট্রেনে উঠতে পারেন, তার জন্য ডিজিটাল টিকিটিং সিস্টেম ব্যবহার করা হচ্ছে। অনলাইনে টিকিট ব্যবস্থার উন্নতির কারণে স্টেশনে দীর্ঘ লাইন কমেছে এবং যাত্রীরা সহজে ট্রেনে উঠতে পারছেন।

এ বছর ঈদ যাত্রা আরও স্বস্তিদায়ক হয়েছে অনলাইন টিকিটিং, দুই স্তরের টিকিট যাচাই এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণে। প্রতিদিন সকাল থেকে স্টেশনে পৌঁছানো যাত্রীদের চাপ ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পাচ্ছে, কিন্তু স্থিতিশীলভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। রেলওয়ে কর্মকর্তারা আরও বলেন, কমলাপুর স্টেশনে যাত্রীর চাহিদা ও নিরাপত্তা উভয়ই প্রথমে বিবেচনা করা হচ্ছে। ট্রেনের শিডিউল বজায় রাখার পাশাপাশি যাত্রীদের সুরক্ষা ও স্বস্তি নিশ্চিত করা হচ্ছে। স্টেশনের নিরাপত্তা ও টিকিট চেকিং ব্যবস্থার কারণে প্ল্যাটফর্মে তীব্র ভিড়, হুড়োহুড়ি বা বিশৃঙ্খলা দেখা যাচ্ছে না।

স্থানীয় যাত্রীরা জানান, ভিড় নিয়ন্ত্রণের কারণে এবারের ঈদযাত্রা তুলনামূলকভাবে শান্তিপূর্ণ এবং নিরাপদ মনে হচ্ছে। পূর্বের অভিজ্ঞতার সঙ্গে তুলনা করলে এবার কম ঝামেলা হচ্ছে। প্রতিটি ট্রেনে যাত্রীর সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে এবং প্ল্যাটফর্মে নিরাপত্তার জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং রেলওয়ের কর্মীরা নিয়মিত দায়িত্ব পালন করছেন।

কমলাপুর স্টেশন ম্যানেজার বলেন, ‘আমরা চাই, প্রতিটি যাত্রী স্বস্তি এবং নিরাপত্তার সঙ্গে তার গন্তব্যে পৌঁছাক। স্টেশনের নিরাপত্তা এবং টিকিট যাচাই ব্যবস্থা এটিকে সম্ভব করেছে। এছাড়াও, নারীদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা হয়েছে, যা যাত্রাকে আরও স্বস্তিদায়ক করছে।’

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঈদ যাত্রার সময় এই ধরনের টিকিট যাচাই এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা যাত্রীদের ভোগান্তি কমিয়ে দেয়, প্ল্যাটফর্মে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করে এবং ট্রেন পরিচালনাকে সহজ করে তোলে। অনলাইনে টিকিটিংয়ের উন্নত ব্যবস্থার কারণে যাত্রীদের দীর্ঘ সময় ধরে স্টেশনে অপেক্ষা করার ঝামেলা কমেছে। কমলাপুরে এ বছর ঈদ যাত্রার পরিস্থিতি প্রমাণ করছে, পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তা কর্মী নিয়োগ এবং আধুনিক টিকিটিং সিস্টেম কার্যকরভাবে কাজ করলে যাত্রীরা স্বস্তি ও নিরাপত্তার সঙ্গে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারে।