দেশে জ্বালানি তেলের মজুত পর্যাপ্ত

টিএম হুদা প্রকাশিত: এপ্রিল ৩, ২০২৬, ১২:০৫ এএম

দেশে জ্বালানি তেলের কোনো ধরনের ঘাটতি বা সংকট নেই। পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেলের বর্তমান মজুত সন্তোষজনক এবং সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রয়েছে। একটি অসাধু চক্রের অবৈধ মজুত করার প্রবণতা এবং সাধারণ মানুষের মাঝে ছড়িয়ে পড়া ভিত্তিহীন আতঙ্কের কারণে বাজারে কিছুটা অস্থিরতা দেখা দিলেও সরকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। গত এক মাসে দেশজুড়ে বিশেষ অভিযানে বিপুল পরিমাণ অবৈধ জ্বালানি উদ্ধার করা হয়েছে এবং আমদানির নতুন চালান দেশে পৌঁছানোর প্রক্রিয়ায় রয়েছে।

গতকাল সচিবালয়ে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের পক্ষ থেকে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান বিভাগের যুগ্মসচিব ও মুখপাত্র মুনির হোসেন চৌধুরী।

মজুত পরিস্থিতি, দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই : জ্বালানি বিভাগের তথ্যমতে, দেশের বাজারে এই মুহূর্তে ডিজেল, পেট্রোল ও অকটেনের যে পরিমাণ মজুত রয়েছে, তা দিয়ে আগামী বেশ কিছুদিন স্বাভাবিক সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব। মুখপাত্র স্পষ্ট করেছেন যে, বর্তমানে দেশে দৈনিক ১,২০০ মেট্রিক টন পেট্রোল এবং ১,৪০০ মেট্রিক টন ডিজেলের চাহিদা রয়েছে। রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলো এই চাহিদা অনুযায়ী নিরবচ্ছিন্নভাবে তেল সরবরাহ করে যাচ্ছে।

মুনির হোসেন চৌধুরী জানান, দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারির জন্য অপরিশোধিত তেল নিয়ে নতুন জাহাজ বঙ্গোপসাগরে ভিড়ছে। এই নতুন চালান খালাস শুরু হলে জ্বালানি মজুত ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হবে। ফলে আসন্ন দিনগুলোতে সরবরাহে ঘাটতি হওয়ার কোনো বৈজ্ঞানিক বা যৌক্তিক কারণ নেই।

সংকটের নেপথ্যে ‘প্যানিক বায়িং’ ও ‘অবৈধ মজুত’ : বাজারে তেলের পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকা সত্ত্বেও কেন অস্থিরতা তৈরি হচ্ছে- এমন প্রশ্নের জবাবে জ্বালানি বিভাগ দুটি প্রধান কারণ চিহ্নিত করেছে।

১. প্যানিক বায়িং বা আতঙ্কিত ক্রয় : সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা গুজবের ভিত্তিতে সাধারণ মানুষ মনে করছে যে সামনে তেলের দাম বাড়তে পারে বা সংকট দেখা দিতে পারে। এই অমূলক ভয় থেকে প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল সংগ্রহ করে ঘরে রাখার চেষ্টা করছেন অনেকে। একে ‘প্যানিক বায়িং’ বলা হয়, যা বাজারে কৃত্রিম চাপ সৃষ্টি করছে।

২. অবৈধ মজুত প্রবণতা : কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ও সিন্ডিকেট বেশি লাভের আশায় বাজার থেকে তেল সরিয়ে ফেলছে। তারা জ্বালানি তেল মজুত করে কৃত্রিম সংকট তৈরির মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।

দেশজুড়ে কঠোর অভিযান, ৩ লাখ ৭২ হাজার লিটার তেল উদ্ধার : অবৈধ মজুতদারদের বিরুদ্ধে সরকারের শূন্য নীতির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে মুখপাত্র জানান, গত ৩ মার্চ থেকে ১ এপ্রিল পর্যন্ত দেশব্যাপী ব্যাপক অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এই এক মাসের অভিযানে প্রায় ৩ লাখ ৭২ হাজার ৩৮৮ লিটার অবৈধভাবে মজুত করা জ্বালানি তেল উদ্ধার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও ভ্রাম্যমাণ আদালত। বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ে এই তদারকি আরও জোরদার করার ঘোষণা দেয়া হয়েছে। জ্বালানি বিভাগ হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, লাইসেন্স ছাড়া বা নির্ধারিত সীমার বাইরে কেউ তেল মজুত করলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

কৃষি খাতে ডিজেল সরবরাহ নিশ্চিত করার বিশেষ নির্দেশ : বর্তমানে দেশে সেচ মৌসুম চলছে। বোরো চাষসহ অন্যান্য কৃষিকাজের জন্য ডিজেল অপরিহার্য। এই অতিগুরুত্বপূর্ণ সময়ে কৃষকরা যেন কোনোভাবেই হয়রানির শিকার না হন, সেজন্য সরকার বিশেষ সর্তকতা অবলম্বন করছে।

সারা দেশের জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দেয়া হয়েছে যাতে তারা নিজ নিজ জেলায় কৃষকদের ডিজেল প্রাপ্তি নিশ্চিত করেন। সেচ পাম্পগুলোর জন্য অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তেল সরবরাহের ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে। কৃষি উৎপাদন যেন জ্বালানি সংকটের কারণে ব্যাহত না হয়, সে বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনকে তদারকি বাড়াতে বলা হয়েছে।

ইস্টার্ন রিফাইনারির সক্ষমতা ও আগামীর পরিকল্পনা : জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড (ইআরএল) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। নতুন জাহাজ আসার ফলে শোধনাগারের কার্যক্রম পূর্ণ গতিতে চলবে। সরকার কেবল বর্তমান চাহিদা মেটানো নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য মজুত সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর জোর দিচ্ছে। আমদানিকৃত তেলের মান নিয়ন্ত্রণ এবং পাইপলাইনের মাধ্যমে দ্রুত সরবরাহ নিশ্চিত করতে প্রকল্পগুলোর কাজও দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে।

বিশেষজ্ঞ ও সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান : বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জ্বালানি তেলের মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে গুজব ছড়ানো রাষ্ট্রবিরোধী অপরাধের শামিল। সাধারণ মানুষকে সচেতন হতে হবে এবং গুজবে কান দিয়ে অতিরিক্ত তেল কেনা থেকে বিরত থাকতে হবে। অন্যদিকে, খুচরা বিক্রেতা ও ডিলারদের স্বচ্ছতা বজায় রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।

সরকার আশ্বস্ত করেছে যে, বিশ্ববাজারের অস্থিরতা সত্ত্বেও দেশের অভ্যন্তরে জ্বালানি তেলের বাজার স্থিতিশীল রাখতে তারা বদ্ধপরিকর। পর্যাপ্ত বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভের মাধ্যমে নিয়মিত জ্বালানি আমদানির এলসি খোলা হচ্ছে এবং সরবরাহের চেইন সচল রাখা হচ্ছে। জ্বালানি বিভাগের এই ব্রিফিংয়ের পর এটা পরিষ্কার যে, দেশে জ্বালানির কোনো প্রকৃত সংকট নেই। যা আছে তা হলো অব্যবস্থাপনা এবং মানুষের ভয়। সরকারের কঠোর নজরদারি এবং নতুন তেলের জাহাজ আগমনের খবরে খুব দ্রুতই বাজারের এই অস্থিরতা কেটে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। অবৈধ মজুতদারদের বিরুদ্ধে চলমান অভিযান অব্যাহত থাকলে এবং কৃষকদের জ্বালানি নিশ্চিত করা গেলে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

এক নজরে মূল তথ্যসমূহ- পেট্রোল চাহিদা দৈনিক ১,২০০ মেট্রিক টন। ডিজেল চাহিদা দৈনিক ১,৪০০ মেট্রিক টন। উদ্ধারকৃত তেল ৩,৭২,৩৮৮ লিটার (গত ১ মাসে)। মূল বার্তা- মজুত পর্যাপ্ত, নতুন জাহাজ আসছে, আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই।

আদানি গ্রুপের সঙ্গে করা বিদ্যুৎ চুক্তি এখন গলার কাঁটা : বিদ্যুৎমন্ত্রী

ভারতের আদানি পাওয়ারের সঙ্গে করা বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি নিয়ে কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে সরকার। অস্বাভাবিক উচ্চমূল্যে চুক্তি সই হওয়ার তথ্য সামনে আসায় এখন আন্তর্জাতিক সালিশি আদালত বা দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে চুক্তিটি পুনর্বিবেচনার চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে। অস্বাভাবিক শর্ত ও উচ্চমূল্যের কারণে এ চুক্তিটি এখন গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সংসদ সদস্যের প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ।

মন্ত্রী বলেন, ২০১৭ সালে ভারতের আদানি পাওয়ার (ঝাড়খণ্ড) লিমিটেডের সঙ্গে করা চুক্তিটি পর্যালোচনার জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সুপ্রিম কোর্টের একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বে একটি জাতীয় কমিটি গঠন করা হয়েছিল। কমিটিতে জ্বালানি বিশেষজ্ঞ, আইনজ্ঞ, অর্থনীতিবিদ ও চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টরা ছিলেন। তারা চুক্তিটির প্রতিটি দিক পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ করেছেন।

কমিটির পর্যালোচনায় উঠে এসেছে যে, বিগত আ.লীগ সরকারের আমলে সম্পাদিত এ চুক্তিতে বিদ্যুতের দাম তৎকালীন দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারদরের তুলনায় অনেক বেশি ধরা হয়েছে। পর্যালোচনার প্রয়োজনে আন্তঃদেশীয় চুক্তি বিষয়ে আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞদের মতামতও নিয়েছে কমিটি। ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, অস্বাভাবিক শর্ত ও উচ্চমূল্যের কারণে এ চুক্তিটি এখন গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমান সরকার এখন দুটি পথ বিবেচনা করছে- ১. আন্তর্জাতিক সালিশি আদালতে চুক্তির বিতর্কিত বিষয়গুলো নিয়ে আন্তর্জাতিক আদালতের দ্বারস্ত হওয়া। ২. দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে আদানি পাওয়ারের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার মাধ্যমে চুক্তির শর্তগুলো সংশোধন ও বিদ্যুতের দাম কমানোর উদ্যোগ নেয়া।

তিনি আরও বলেন, জাতীয় কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে দেশের স্বার্থরক্ষায় যা যা প্রয়োজন, সরকার সেই পদক্ষেপই নেবে। উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে করা ২৫ বছর মেয়াদি এ চুক্তির আওতায় ভারতের ঝাড়খণ্ডে অবস্থিত আদানির কেন্দ্র থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। তবে শুরু থেকেই এই চুক্তির স্বচ্ছতা ও উচ্চমূল্য নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন ছিল।

রাশিয়া থেকে জ্বালানি কিনতে অনুমতি চেয়ে চিঠির জবাব দেয়নি যুক্তরাষ্ট্র

রাশিয়া থেকে জ্বালানি তেল আমদানিতে অনুমতি চেয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে বাংলাদেশের দেয়া চিঠির এখনো জবাব দেয়নি ওয়াশিংটন। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের মুখপাত্র ও যুগ্ম সচিব (অপারেশন অনুবিভাগ) মনির হোসেন চৌধুরী এমনটিই জানিয়েছেন।

রাশিয়া থেকে জ্বালানি তেল আমদানির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অনুমতি চেয়ে চিঠির অগ্রগতি বিষয় জানতে চাইলে মনির হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘এখন পর্যন্ত আমরা জবাব পাইনি।’ গতকাল বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে সার্বিক জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান। এদিকে, রাশিয়া থেকে পরিশোধিত ডিজেলসহ অন্যান্য পেট্রোলিয়াম পণ্য কিনতে বাংলাদেশের বিশেষ ছাড়ের অনুরোধ ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করবে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটনে এক বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানকে এমন আশ্বাস দিয়েছেন মার্কিন জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট। গত বুধবার এক বিবৃতিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইরান যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা বিঘ্নিত হওয়ায় বাংলাদেশের সংকট নিয়ে আলোচনা করেন। গতকাল জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে জ্বালানি মুখপাত্র বলেন, জ্বালানি সংকট না থাকলেও এই মুহূর্তে সবার জায়গা থেকে জ্বালানি ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়া উচিত।

জ্বালানি তেলের মজুত পর্যাপ্ত, এপ্রিল মাস পুরোপুরি নিরাপদ জ্বালানি বিভাগের মুখপাত্র

জ্বালানি তেলের মজুত পর্যাপ্ত রয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, তেলবাহী জাহাজগুলো আসছে। তাই এপ্রিল মাস পুরোপুরি নিরাপদ। গতকাল বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে সার্বিক জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের মুখপাত্র ও যুগ্ম সচিব (অপারেশন অনুবিভাগ) মনির হোসেন চৌধুরী এ তথ্য জানান।

জ্বালানি তেলের চাহিদা ও আমদানির বিষয়ে তিনি বলেন, ডিজেলের চাহিদা গড়ে বছরে প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার টন। আর অকটেন ও পেট্রোল- এ দুটো আমাদের মাসে দরকার হয় প্রায় ৭০ হাজার টন। দৈনিক হিসাবে পেট্রোল-অকটেন প্রায় এক হাজার ২০০ টন এবং ডিজেল প্রায় এক হাজার ৪০০ টন লাগে।

যুগ্ম সচিব বলেন, ‘আমি হিসাব করে দেখেছি, আমাদের পর্যাপ্ত মজুত আছে। কোনো সংকট নেই। ডিজেলের ক্ষেত্রেও কোনো সমস্যা নেই। আমরা মাসভিত্তিক পরিকল্পনা অনুযায়ী আমদানি করছি। এপ্রিল মাস পুরোপুরি নিরাপদ। আজ সকালেও মিটিং করেছি। বর্তমান মজুত এবং ইনকামিং শিপ- সব অন টাইম আছে। ফলে কোনো অসুবিধা হবে না, ইনশাআল্লাহ।’

সংকট না থাকলেও পাম্পে তেল পাওয়া যাচ্ছে না কেন- প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা প্রতিদিন একই উত্তর দিচ্ছি। গত বছর যা সরবরাহ করেছি, এ বছরও তাই করছি। পাম্প মাঝে মাঝে বন্ধ থাকছে, এটাও আমরা দেখছি। কিন্তু মানুষের মধ্যে এখনো প্যানিক বায়িং (আতঙ্কিত হয়ে কেনা) বন্ধ হয়নি। এর ফলে সরবরাহ চেইনে মাঝে মাঝে বিঘ্ন ঘটছে। মজুত প্রবণতাও রয়েছে। তবে স্বাভাবিক সরবরাহে কোনো সংকট নেই।’

মনির হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘পাম্পে তেল না পাওয়ার বিষয়ে পাম্প কর্তৃপক্ষই ভালো বলতে পারবে। আমরা আমাদের পক্ষ থেকে নিয়মিত সরবরাহ করছি।’ এত অবৈধ মজুত তেল উদ্ধার করা হলেও কোনো ডিলারদের লাইসেন্স বাতিল করা হয়নি- এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘চার ধরনের ডিলারশিপ আছে। কোথা থেকে মজুত হচ্ছে, সেটা নির্দিষ্টভাবে বলা কঠিন।’