রামিসা হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদের ঢেউ বইছে। ফাঁসির দাবিতে রাজধানীসহ বিভিন্ন শহরে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সাধারণ মানুষ রাজপথে নেমে আসেন। বিক্ষোভকারীরা দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে দ্রুততম সময়ে দোষীর সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান। মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশে অংশগ্রহণকারীরা বলেন, এ ধরনের নৃশংস ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কঠোর আইন প্রয়োগ জরুরি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ঘটনার বিচার দাবিতে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।
এক সপ্তাহের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদনের নির্দেশ আইনমন্ত্রীর: রাজধানীর মিরপুর সংলগ্ন পল্লবী এলাকায় মাত্র সাত বছর বয়সি এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের পর শরীর খণ্ড-বিখণ্ড করে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। এই পৈশাচিক হত্যাকাণ্ডের মামলার তদন্ত কার্যক্রমে সর্বোচ্চ গতি আনার জন্য তিনি ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনারকে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন (চার্জশিট) জমা দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে এই চাঞ্চল্যকর মামলার বিচারপ্রক্রিয়া দ্রুততম সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করে অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তিনি।
আইন মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ড. মো. রেজাউল করিম গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করে জানান, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান ঘটনাটি জানার পর থেকেই এর আইনি প্রক্রিয়া নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। তিনি বলেন, আইনমন্ত্রী মহোদয় ডিএমপি কমিশনারের সঙ্গে কথা বলেন এবং আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে বলেছেন। দেশের প্রচলিত আইনের সর্বোচ্চ সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে এই জঘন্য অপরাধের বিচার যেন কোনোভাবেই দীর্ঘায়িত না হয়, তা নিশ্চিত করতে মন্ত্রণালয় সব প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
মামলার অগ্রগতি ও আসামিদের বর্তমান আইনি অবস্থা: এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের পরদিনই অর্থাৎ ২০ মে, নিহত শিশুটির শোকাচ্ছন্ন বাবা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় প্রধান আসামি করা হয় সোহেল রানাকে এবং এই নৃশংস কাজে সহযোগিতা ও আলামত গোপনের চেষ্টার অভিযোগে তার স্ত্রী স্বপ্নাআক্তারকেও আসামি করা হয়। মামলা দায়েরের পর পুলিশি তৎপরতা আরও জোরদার করা হয়।
ইতোমধ্যেই মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হলে সে নিজের দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিতে রাজি হয়। ফৌজদারি কার্যবিধির (ঈৎচঈ) ১৬৪ ধারা মোতাবেক ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোহেল রানা নিজের অপরাধের পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণ দিয়ে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছে। জবানবন্দিতে সে স্বীকার করেছে কীভাবে সে শিশুটিকে প্রলোভন দেখিয়ে ঘরে এনেছিল, কীভাবে ধর্ষণ করেছে এবং পরবর্তী সময়ে প্রমাণ লোপাটের জন্য লাশ খণ্ড-বিখণ্ড করে বাথরুমে ও খাটের নিচে লুকিয়ে রেখেছিল।
অন্যদিকে, এই মামলার দ্বিতীয় আসামি এবং সোহেল রানার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে পুলিশ আগেই গ্রেপ্তার করে আদালতে হাজির করেছিল। আদালত শুনানি শেষে তাকে জামিন না দিয়ে সরাসরি কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। বর্তমানে স্বপ্না আক্তার জেলহাজতে রয়েছেন এবং এই হত্যাকাণ্ডে তার প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভূমিকার বিষয়টিও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
দ্রুত বিচার নিশ্চিতে আইনমন্ত্রীর কঠোর অবস্থান: বাংলাদেশে নারী ও শিশু নির্যাতনের মতো সংবেদনশীল অপরাধগুলোর বিচার দীর্ঘসূত্রতার কারণে প্রায়শই ব্যাহত হয় এমন একটি জনআকাঙ্ক্ষার পরিপ্রেক্ষিতে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানের এই তাৎক্ষণিক ও কঠোর নির্দেশনা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন আইন বিশেষজ্ঞরা।
আইন মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই ধরনের জঘন্য ও পাশবিক অপরাধের ক্ষেত্রে সমাজের অপরাধীদের কাছে একটি কঠোর বার্তা যাওয়া প্রয়োজন। যদি দ্রুততম সময়ে তদন্ত শেষ করে ট্রাইব্যুনালে বিচারকাজ শুরু করা যায়, তবে তা সমাজে অপরাধ প্রবণতা কমাতে ডিটারেন্ট বা প্রতিবন্ধক হিসেবে কাজ করবে। আইনমন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছেন যে, তদন্ত প্রতিবেদন জমা হওয়ার পর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল বা সংশ্লিষ্ট আদালতে ডে-টু-ডে (প্রতিদিনের শুনানির ভিত্তিতে) ট্রায়াল পরিচালনার জন্য রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীদের (পিপি) বিশেষ নির্দেশনা দেয়া হবে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর প্রতিক্রিয়া: এদিকে পল্লবীর এই পৈশাচিক হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই রাজধানীসহ দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, সাত বছরের একটি নিষ্পাপ শিশুকে যেভাবে প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণ ও পরে কসাইয়ের মতো কেটে টুকরো টুকরো করা হয়েছে, তা কোনো সুস্থ মানুষের পক্ষে কল্পনা করাও অসম্ভব। তারা এই খুনি দম্পতির, বিশেষ করে মূল হোতা সোহেল রানার দ্রুততম সময়ে ফাঁসির দাবি জানিয়েছেন। বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনও এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।
মানবাধিকার কর্মীদের মতে, আইনমন্ত্রীর পক্ষ থেকে ডিএমপি কমিশনারকে এক সপ্তাহের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেয়ার নির্দেশ অত্যন্ত ইতিবাচক একটি পদক্ষেপ। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যেন কোনো ফাঁকফোকর ছাড়াই একটি নিশ্ছিদ্র ও তথ্যপ্রমাণ-নির্ভর তদন্ত প্রতিবেদন তৈরি করা হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। কারণ দুর্বল চার্জশিটের কারণে অনেক সময় পার পেয়ে যায় মূল অপরাধীরা। যেহেতু প্রধান আসামি ইতিমধ্যেই ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে, তাই এই মামলার ফরেনসিক ও মেডিকেল রিপোর্ট দ্রুত সম্পন্ন করে নির্ধারিত সাত দিনের মধ্যেই আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করা পুলিশের জন্য একটি বড় পরীক্ষা।
আইনি প্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপ: পুলিশের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আইনমন্ত্রীর নির্দেশনার পর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা (আইও) এবং ডিবির বিশেষজ্ঞ দল অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে কাজ করছেন। ঘটনাস্থল থেকে সংগৃহীত আলামত, রক্তমাখা কাপড় ও অস্ত্রের ডিএনএ প্রোফাইলিং এবং ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রস্তুত করার জন্য সিআইডি ফরেনসিক ল্যাব ও সংশ্লিষ্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। সাধারণত ফৌজদারি মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়ার জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা থাকলেও চাঞ্চল্যকর ও জঘন্য অপরাধের ক্ষেত্রে বিশেষ বিবেচনায় দ্রুততম সময়ে চার্জশিট দেয়ার নজির রয়েছে।
পল্লবীর এই ঘটনাটি যেহেতু সমাজকে নাড়া দিয়েছে এবং স্বয়ং আইনমন্ত্রী এর তদারকি করছেন, তাই পুলিশ প্রশাসন আগামী এক সপ্তাহের মধ্যেই আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে পারবে বলে আশা প্রকাশ করছে। নৃশংসভাবে নিহত হওয়া ওই দ্বিতীয় শ্রেণির শিশুটির পরিবার এখন শুধু একটিই প্রার্থনা করছে তাদের নিষ্পাপ সন্তানের হত্যাকারীর যেন এমন শাস্তি হয়, যা দেখে আর কোনো অপরাধী কোনো শিশুর দিকে হাত বাড়ানোর সাহস না পায়। আইনমন্ত্রীর এই তড়িৎ হস্তক্ষেপ ভুক্তভোগী পরিবারটির মনে দ্রুত ন্যায়বিচার পাওয়ার আশা জাগিয়েছে।
সহপাঠীদের জড়িয়ে শ্রেণিকক্ষে অঝোরে কাঁদলেন রামিসার বাবা : রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে মাত্র সাত বছরের নিষ্পাপ শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে কেটে খণ্ড-বিখণ্ড করে হত্যার ঘটনায় স্তব্ধ ও শোকাচ্ছন্ন পুরো বাংলাদেশ। একদিকে দেশজুড়ে খুনিদের ফাঁসির দাবিতে রাজপথে উত্তাল বিক্ষোভ, অন্যদিকে ভুক্তভোগী পরিবারটির ঘরে চলছে চিরতরে সন্তান হারানোর মাতম। এই হূদয়বিদারক পরিস্থিতির মধ্যেই গতকাল বৃহস্পতিবার রামিসার বিদ্যাপীঠে তৈরি হলো এক অবর্ণনীয় ও করুণ দৃশ্য, যা উপস্থিত শিক্ষক, শিক্ষার্থীসহ পুরো দেশের মানুষকে কাঁদিয়েছে।
নিহত রামিসা রাজধানীর মিরপুরের ‘পপুলার মডেল স্কুল’-এর দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। গতকাল সকালে রামিসার শোকার্ত বাবা আবদুল হান্নান মোল্লা মেয়ের স্মৃতিবিজড়িত সেই চেনা শ্রেণিকক্ষে পা রাখেন। যেখানে প্রতিদিন তার ফুটফুটে মেয়েটি ব্যাগ কাঁধে নিয়ে ক্লাস করতে আসত, বন্ধুদের সাথে হাসিমুখে বেঞ্চে বসত, সেখানে আজ শুধুই শূন্যতা। শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করতেই রামিসার সহপাঠীদের দেখে নিজের আবেগ আর ধরে রাখতে পারেননি হতভাগ্য এই পিতা। তিনি রামিসার বন্ধুদের জড়িয়ে ধরে অঝোরে কান্নায় ভেঙে পড়েন।
বাবার এই বুকফাটা আর্তনাদ স্পর্শ করে দ্বিতীয় শ্রেণির ছোট ছোট কোমলমতি শিশুদেরও। প্রিয় বান্ধবীকে হারানোর বেদনায় রামিসার সহপাঠীরাও ক্লাসের ভেতরেই অঝোরে কাঁদতে শুরু করে। শ্রেণিকক্ষের ভেতরে এক আবেগঘন ও থমথমে পরিবেশের সৃষ্টি হয়। খুদে শিক্ষার্থীরা একে অপরকে জড়িয়ে ধরে সান্ত্বনা দেয়ার চেষ্টা করলেও কারো চোখের পানি থামানো যাচ্ছিল না। কান্নাজড়িত কণ্ঠে রামিসার সহপাঠীরা বলে, রামিসাকে আমরা কখনোই ভুলতে পারব না। ও আমাদের অনেক ভালো বন্ধু ছিল। আমরা আমাদের বান্ধবীকে হত্যার দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই। খুনি সোহেল রানার যেন ফাঁসি হয়, সে যেন কোনোভাবেই পার না পায়।
এদিকে, পল্লবীর এই পৈশাচিক ও জঘন্যতম হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে ক্ষোভে ফুঁসছে রাজধানীসহ সারা দেশের মানুষ। দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক এবং দ্রুততম সময়ে শাস্তির দাবিতে রাজপথে নেমে এসেছেন বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক সংগঠনসহ সাধারণ পেশাজীবী মানুষ।
গতকাল সকালে পল্লবী এলাকায় রামিসার বাসার সামনে জড়ো হন শত শত এলাকাবাসী এবং তার স্কুলের সহপাঠী ও শিক্ষকরা। তারা সেখানে দীর্ঘ সময় ধরে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন এবং ঘটনার দ্রুত বিচার নিশ্চিতের জোর দাবি জানান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিও ও লাইভে দেখা যায়, রামিসা হত্যার বিচার চেয়ে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ও সহপাঠীরা একপর্যায়ে পল্লবী থানার সামনে গিয়ে অবস্থান নেন এবং সেখানে তীব্র স্লোগান দিতে থাকেন।
বিক্ষোভের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে, একপর্যায়ে উত্তেজিত জনতা ও সহপাঠীরা পল্লবী থানার সীমানা পেরিয়ে ভেতরে ঢুকে পড়েন। তারা সেখানে দায়িত্বরত পুলিশ কর্মকর্তাদের কাছে দাবি জানান, এই পাশবিক হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি সোহেল রানাকে কেবল কারাগারে আটকে রাখলে চলবে না, বরং দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে সংক্ষিপ্ত সময়ে তার ফাঁসির রায় কার্যকর করতে হবে।
পল্লবী থানায় ঢুকে এলাকাবাসীর বিক্ষোভ : রাজধানীর পল্লবীতে চাঞ্চল্যকর রামিসা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ক্ষোভে ফুঁসছে সারা দেশ। এমন জঘন্যতম নৃশংসতার দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবিতে রাজপথে নেমেছেন নানা শ্রেণিপেশার মানুষ। এরই ধারাবাহিকতায় পল্লবী থানার ভেতরে ঢুকে বিক্ষোভ করে অপরাধীর দ্রুত বিচার নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছে এলাকাবাসী।
গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে পল্লবীতে রামিসার বাসার সামনে বিক্ষোভ করে সহপাঠী এবং এলাকাবাসী। এ সময় দ্রুত বিচার নিশ্চিতের আহ্বান জানান তারা। এলাকাবাসী হত্যার দ্রুত বিচারের বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড নিয়ে থানায় যান। এ সময় থানা পুলিশ এলাকাবাসীকে শান্ত থাকার কথা বলেন। রামিসার বাসায় সরেজমিন দেখা যায়, এলাকাবাসী নিজেদের সন্তানদের নিয়ে নিরাপত্তায় উদ্বিগ্ন। তারা বলেন, ঘরে-বাইরে কোনো নিরাপত্তা নেই। শিশুদের সঙ্গে নির্মমতার কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।
এর আগে, গত মঙ্গলবার সকালে মিরপুর-১১ এলাকার বি ব্লকের একটি বহুতল ভবনের তৃতীয় তলার ফ্ল্যাট থেকে শিশু রামিসা আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, শিশুটি হত্যার পর মরদেহ গোপন করার চেষ্টা করা হয়েছিল। যদিও ফ্ল্যাটের ভেতর থেকেই দেহের অংশ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করে সিআইডিতে ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। হত্যার ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তারা হলেন পাশের ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া সোহেল রানা (৩০) ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার (২৬)।
মিরপুরে সড়ক অবরোধ করে স্থানীয়দের বিক্ষোভ : সাত বছর বয়সী শিশু রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আসামির ফাঁসির দাবিতে রাজধানীর মিরপুরে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন স্থানীয়রা। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর মিরপুর ১০ থেকে ১২ নম্বর সড়ক অবরোধ করে বিক্ষুব্ধরা। এতে ওই সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয় যায়। এ সময় বিক্ষুব্ধদের ‘জাস্টিস জাস্টিস, উই ওয়ান্ট জাস্টিস’, ‘বিচার চাই, বিচার চাই’, ‘আমার বোন খুন হলো কেন’, ‘অপরাধীর আস্তানা, ভেঙে দাও গুড়িয়ে দাও’, ‘ফাঁসি ফাঁসি ফাঁসি চাই, আসামির ফাঁসি চাই’ ইত্যাদি স্লোগান দিতে দেখা যায়।
বিক্ষোভে অংশ নেয়া সামিউল হক নামের একজন বলেন, ৭ দিন নয়, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ফাঁসি দিতে হবে, এটাই আমাদের দাবি। বাংলাদেশে অনেক বিচার হয় না। এ জন্য আমরা দিনের পর দিন, মাসের পর মাস অপেক্ষা করতে চাই না।
নাজমুল হক নামের একজন বলেন, শিশুদের কোনো নিরাপত্তা নেই। অপরাধীরা পার পের যায় বলেই এ ধরনের ঘটনা ঘটতেই থাকে। দ্রুত বিচার হতে হবে।
রাবিতে ছাত্রীসংস্থার মানববন্ধন : শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড, দেশব্যাপী নারী ও শিশু নির্যাতন এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে ইসলামী ছাত্রীসংস্থার রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) শাখা। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যারিস রোডে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ডের নিন্দা ও সরকারের কাছে দ্রুত বিচারের দাবি জানান। একই সঙ্গে দেশব্যাপী নারী ও শিশু নির্যাতন-ধর্ষণ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির নিন্দা ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। মানববন্ধনে সমাজকর্ম বিভাগের প্রভাষক রুমানা আক্তার বলেন, ?‘এভাবে যদি চলতে থাকে তাহলে এদেশে কীভাবে আমরা আমাদের সন্তানদের মানুষ করব? যেখানে আমার শিশু নিরাপদ না, আমি নিরাপদ না; সেখানে কীভাবে দেশের কল্যাণে কাজ করব?’
মন্নুজান হলের ভিপি সুমাইয়া জাহান বলেন, ‘সাত বছরের শিশু রামিসাকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। এসব ঘটনা শুধু আজকের নয়, এর আগেও আছিয়াসহ অনেক শিশুকে হত্যা করা হয়েছে। আমরা সরকারের কাছে নিরাপত্তা চেয়েও বারবার ব্যর্থ হচ্ছি। এগুলো দ্রুত বন্ধ করতে হবে। অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।’
এ সময় শাখা ছাত্রীসংস্থার সভানেত্রী ও রাকসুর মহিলা বিষয়ক সম্পাদক সাইয়িদা হাফসা বলেন, ‘বিচারহীনতা মূলত ধর্ষণের পেছনে মূল কারণ। নৈতিকতা বিবর্জিত শিক্ষাব্যবস্থা, দেশে আইনের শাসন না থাকাও অন্যতম কারণ। সরকারের দাবি, দোষীদের চিহ্নিত করে দৃশ্যমান শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।’