জোরজবরদস্তি করে জনগণের গণতান্ত্রিক আকাংক্ষা দমিয়ে রাখা যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন ৯০ এর ডাকসু ও সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্যের নেতারা। তারা মনে করেন সৈরাচার এরশাদের মতো বর্তমানেও নিজেদের মিত্রদের নিয়ে নির্বাচন আয়োজন করেছে আওয়ামী লীগ।
বুধবার (৬ ডিসেম্বর) স্বৈরাচার পতন দিবসে গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতি এসব মন্তব্য করেন সাবেক ছাত্র নেতারা।
বিবৃতিতে বলা হয়, ১৯৯০ এর ৪ ডিসেম্বর ছাত্র জনতা অভূতপূর্ব গনঅভ্যস্থানের পটভূমিতে স্বৈরশাসক এরশাদের পতন হয়েছিলো। আর ৬ ডিসেম্বর বিচারপতি শাহাবুদ্দিন আহমেদের কাছে আনুষ্ঠানিক ক্ষমতা হস্তান্তরের মধ্য দিয়ে এরশাদের ৯ বছরের স্বৈরশাসনের অবশান ঘটেছিল।`
১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ তৎকালীন সেনাপ্রধান এরশাদ নির্বাচিত বিএনপি সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে রাষ্ট্র ক্ষমতা দখল করে। সংবিধান স্থগিত করে সামরিক শাসন বলে টানা ৯ বছর এরশাদ সরকার পরিচালনা করেন। অন্যদিকে, এই পুরো সময় জুড়ে সামরিক শাসক এরশাদকে রাজনৈতিক শক্তির তুমুল বিরোধিতা মোকাবেলা করতে হয়েছে। কখনো রাজপথে রক্ত ঝড়িয়ে রাজনৈতিক নেতাদেরকে জেলে পুরে, দমনপীড়ন চালিয়ে এরশাদ সরকার টিকে থাকার চেষ্টা করেছে।
দেশের ছাত্রসমাজ ও জনগন ঐতিহ্যগত ভাবেই সামরিক-স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে। ছাত্রসমাজ অতীতে শামরীক শাসন ও স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে বারবার প্রতিবাদমুখর হয়েছে। গনতন্ত্রের সংগ্রামের ছাত্রসমাজই ইতিহাসে বীরত্বপূর্ণ অগ্রনী ভূমিকা পালন করেছে। নানা চড়াই উতরাই পেরিয়ে রক্তাক্ত পিচ্ছিল পথ মাড়িয়ে ছাএ আন্দোলন এগোতে থাকে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে, ১৯৮৬ সালে আন্দোলনে বিভক্তি
নেমে আসে। এরশাদের পাতানো নির্বাচনী ফাঁদে পা দেয় আওয়ামী লীগ। আগের দিন চট্টগ্রামের লালদিঘি
মাঠে এরশাদের অধীনে যারা নির্বাচনে অংশ নেবে তারা জাতীয় বেঈমান হিসেবে চিহ্নিত হবে। এই ঘোষণা
দিয়েও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা জাতীয় সমঝোতা ও নিজেদের ১৫ দলীয় জোট ভেঙ্গে নির্বাচনে অংশ নেয়; ফলে ছাত্র আন্দোলন ভাঙ্গনের মুখে পড়ে।অপরদিকে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ৭ দলীয় জোট নির্বাচন বর্জন করে আন্দোলন অব্যাহত রাখে।
নেতারা বলেন, এই মূহুর্তে দেশে দ্বাদশ নির্বাচনের প্রক্রিয়া চলছে আওয়ামী লীগ এবং তার জোট সঙ্গীরা ছাড়া কেউই এতে অংশ নিচ্ছেন না। নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে অবাধ ও সুস্থ নির্বাচনের দাবি আদায়ের লক্ষ্যে বিএনপি সহ বিরোধী রাজনৈতিক দল লাগাতার কর্মসূচি পালন করছে। বাংলাদেশের মানুষ অবাধ সুষ্ঠ ও গ্রহণযোগ্য অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের পক্ষে। কিন্তু ক্ষমতাশীনরা যেকোনো মূল্যে ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য বল প্রয়োগের মাধ্যমে একতরফা নির্বাচনী প্রক্রিয়া অব্যাহত রেখেছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ৯০ এ অসংখ্য মানুষের আত্মদানের মধ্য দিয়ে দেশের ছাত্রসমাজ জনগণ-গণতন্ত্র ফিরিয়ে এনেছিল। ৩৩ বছর পেরিয়ে গেল; এখনো দেশের মানুষকে তার ভোটের জন্য, গণতন্ত্রের জন্য, গণতান্ত্রিক শাসনের জন্য রক্ত দিতে হচ্ছে। নিষ্ঠুর নির্যাতন নিপীড়ন কারাবাসের মুখোমুখি হতে হচ্ছে । জোরজবরদস্তি করে জনগণের গণতান্ত্রিক আকাংক্ষা শেষ পর্যন্ত দমিয়ে রাখা যাবে না। বাংলাদেশ পরাজয় মানবে না।
বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন, ৯০’এর স্বৈরাচার বিরোধী ছাত্র ঐক্যের নেতা মুস্তাফিজুর রহমান বাবুল , ফজলুল হক মিলন, নাজিম উদ্দিন আলম, খন্দকার লুতফর রহমান ও আসাদুর রহমান খান আসাদ।
আরএস