অনলাইনে বিবাহ নিবন্ধন করবে ডিএসসিসি

নিজস্ব প্রতিবেদক: প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ৬, ২০২৪, ০৫:২৪ পিএম

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) আওতাধীন এলাকার বিবাহ নিবন্ধন কার্যক্রম শৃঙ্খলায় আনার উদ্যোগ নিয়েছে ডিএসসিসি কর্তৃপক্ষ। এ কার্যক্রম বর্তমানে  সশরীরে পরিচালনা করা হলেও শীঘ্রই তা অনলাইন ভিত্তিক করতে ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছে ডিএসসিসি সূত্র।

এ কাজ বাস্তবায়ন হলে মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস ও অনলাইন ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমেও বিবাহ নিবন্ধন কর পরিশোধ করা যাবে। বিয়ের নিবন্ধন সংক্রান্ত সকল বিষয়াবলি শৃঙ্খলিত ও তথ্য সমৃদ্ধ করতে এবং ভবিষ্যতে ভিত্তি হিসেবে বিবাহ বিচ্ছেদের ব্যবহারের ক্ষেত্রে অন্যান্য সংস্থাকে সংশ্লিষ্ট তথ্যাদি সরবরাহ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণেও সহায়ক করার জন্য এই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। একই সাথে বাড়বে সংস্থার রাজস্ব আদায়।

এই কার্যক্রমকে বাস্তবায়ন করতে সিটি কর্পোরেশনের সংশ্লিষ্ট সকলকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ডিএসসিসির ৪৫ নম্বর ওয়ার্ড গত জানুয়ারি মাসে ২৮টি বিবাহ নিবন্ধন কার্যক্রমের জন্য ২ হাজার ৮ শত টাকা রাজস্ব আদায় করেছে।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এ লক্ষ্যে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মতামত চাইলে মন্ত্রণালয় গত বছরের ১৩ মার্চ তারিখে আদর্শ কর তফসিল, ২০১৬ এর ১০(৪) এর ১৫২ নম্বর ক্রমিকে বর্ণিত কর আদায়ে একটি পত্র প্রেরণ করে। স্থানীয় সরকার (সিটি কর্পোরেশন) আইন, ২০০৯ এর ৮২ নম্বর ধারার ৪র্থ তফসিলের ৮ নম্বর ক্রমিকে অর্পিত ক্ষমতাবলে এবং আদর্শ কর তফসিল ২০১৬ এর ১০(৪) এর ১৫২ নম্বর ক্রমিকে উল্লিখিত হারে এই কর আদায় করা হবে।

এ প্রসঙ্গে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান বলেন, ‘বিবাহ বিচ্ছেদ সকলের কাছে অপ্রত্যাশিত একটি বিষয়। কিন্তু তারপরও বাস্তবতার নিরিখে বিবাহ বিচ্ছেদ হয়ে থাকে। বিবাহ বিচ্ছেদ সংক্রান্ত তথ্যাদি কর্পোরেশনে আসলেও বিবাহ নিবন্ধন সংক্রান্ত কোনো তথ্য আমাদের কাছে থাকে না। কিন্তু স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান হিসেবে সিটি কর্পোরেশন আইন অনুযায়ী এটা বাধ্যতামূলক। এছাড়াও বিবাহ সংক্রান্ত তথ্য থাকলে বিবাহ বিচ্ছেদের ক্ষেত্রে অনেক সময় তা সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়ক ভূমিকা পালন করে থাকে। পাশাপাশি অনেক সময় বিজ্ঞ আদালত ও বিভিন্ন সংস্থা হতে এ সংক্রান্ত তথ্য চাওয়া হয়। ফলে, আমাদের এই কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সামষ্টিকভাবে বিবাহ নিবন্ধন কার্যক্রম একটি সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার আওতায় আসবে।’

শৃঙ্খলা আনয়নে এই কার্যক্রমের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘অনেক সময় কোনো ব্যক্তির মৃত্যুর পর তার ওয়ারিশান নির্ধারণে জটিলতা দেখা দেয়। তাছাড়া বিদেশগামী যাত্রীদের ও বিদেশে বসবাসকারী বাংলাদেশীদের ক্ষেত্রে অনেক সময় বিবাহ নিবন্ধন সংক্রান্ত তথ্যের সঠিকতা যাচাইয়ের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। এ রকম বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে বিবাহ নিবন্ধন সংক্রান্ত তথ্যাদির গুরুত্ব অপরিসীম। এছাড়াও অনেক সময় বিদেশী দূতাবাসসমূহের বিবাহ সংক্রান্ত তথ্যাদির প্রয়োজন হয়। তাই, বিবাহ নিবন্ধন কার্যক্রম লিপিবদ্ধ থাকলে তারাও সিটি কর্পোরেশনের নিকট হতে এ তথ্য পেতে পারে। সুতরাং, শৃঙ্খলা আনয়নে এ ধরনের কর্মকাণ্ড অনেক ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।’

উল্লেখ্য, আদর্শ কর তফসিল, ২০১৬ এর ১০(৪) এর ১৫২ নম্বর ক্রমিক অনুযায়ী-
(ক) প্রথম বিবাহ বা স্ত্রীর মৃত্যুর পর প্রথম বিবাহের ক্ষেত্রে ১০০ টাকা 
(খ) প্রথম স্ত্রীর জীবদ্দশায় যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতিক্রমে ২য় বিবাহের ক্ষেত্রে ৫ হাজার টাকা
(গ) প্রথম দুই স্ত্রীর জীবদ্দশায় যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতিক্রমে ৩য় বিবাহের ক্ষেত্রে ২০ হাজার টাকা
(ঘ) প্রথম তিন স্ত্রীর জীবদ্দশায় যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতিক্রমে ৪র্থ বিবাহের ক্ষেত্রে ৫০ হাজার টাকা
(ঙ) প্রথম স্ত্রী যদি মানসিক ভারসাম্যহীন অথবা বন্ধ্যা হয় (সেক্ষেত্রে ক, খ, গ ও ঘ এ বর্ণিত কর প্রযোজ্য হবে না)  তাহলে পরবর্তী বিয়ের ক্ষেত্রে ২০০ টাকা বিবাহ কর কর্পোরেশনের রাজস্বে জমা দিতে হবে।

/বিআরইউ