বংশালের আবাসিক হোটেল থেকে শামিম হাসনাতের মরদেহ উদ্ধার

আমার সংবাদ ডেস্ক প্রকাশিত: জুন ২৫, ২০২৬, ০৪:১৩ পিএম

রাজধানীর বংশাল এলাকার সিদ্দিক বাজারে অবস্থিত একটি আবাসিক হোটেলের কক্ষ থেকে মো. শামিম হাসনাত (৪৬) নামে এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন বংশাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম মাহফুজুল হক।

নিহত শামিম হাসনাত কিশোরগঞ্জ জেলার বাজিতপুর উপজেলার শশেয়দিঘী গ্রামের বাসিন্দা। তার পিতার নাম মৃত আবুল কাশেম।

পুলিশ জানায়, সকালে খবর পেয়ে সিদ্দিক বাজার এলাকার ‘ঢাকা প্যালেস’ নামের একটি আবাসিক হোটেলের চতুর্থ তলার ১২১ নম্বর কক্ষ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

ওসি এ কে এম মাহফুজুল হক বলেন, প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে মৃত ব্যক্তির শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

তিনি আরও জানান, হোটেল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে জানা গেছে, ঈদের পর থেকেই শামিম হাসনাত ওই হোটেলে ভাড়া থাকতেন। তার কোনো নির্দিষ্ট পেশা ছিল না বলে জানা গেছে। তবে ভাইয়ের জুতার দোকান থেকে অর্থ নিয়ে চলাফেরা করতেন বলে তথ্য পাওয়া গেছে। তার কর্মসংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য এখনও জানা যায়নি।

আবাসিক হোটেলের মালিক মো. আবদুল কাদির জানান, বুধবার রাত থেকেই শামিমের কক্ষটি বন্ধ ছিল। বৃহস্পতিবার সকালে হোটেলের পরিচ্ছন্নতাকর্মী সাহিদা বেগম কক্ষের দরজায় ধাক্কা দিলে কোনো সাড়া না পেয়ে বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হয়। পরে দরজা খুলে ভেতরে তাকে বিবস্ত্র অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। এরপর পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।

নিহতের বড় ভাই মোশারফ হোসেন জানান, শামিম কোনো পেশার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না এবং পরিবারের কাছ থেকে হাতখরচ নিয়ে চলতেন। প্রায় এক দশক আগে তিনি বিয়ে করলেও দুই মাসের মাথায় সেই সংসার ভেঙে যায়।

তিনি আরও বলেন, শামিম দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবা সেবনে আসক্ত ছিলেন। এ কারণে ২০১৮ সালে তাদের বাবা তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেন। বৃহস্পতিবার কর্মস্থলে থাকা অবস্থায় তিনি ফোনে ভাইয়ের মৃত্যুর খবর পান।

পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, অতিরিক্ত মাদক সেবনের কারণে তার মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হতে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

এএন