ঢাকাকে আরও বাসযোগ্য, পরিবেশবান্ধব ও জলবায়ু সহনশীল নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে ব্যাপক বৃক্ষরোপণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন ঢাকার জেলা প্রশাসক (ডিসি) মিজ ফরিদা খানম। তিনি বলেন, ঢাকাকে বাঁচাতে এখনই বৃক্ষরোপণের বিকল্প নেই। শুধু আনুষ্ঠানিকভাবে গাছ লাগালেই দায়িত্ব শেষ হয় না; রোপণ করা প্রতিটি গাছের পরিচর্যা নিশ্চিত করতে হবে।
মঙ্গলবার রাজধানীর একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত একটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এবারের আয়োজনের প্রতিপাদ্য ছিল- সবুজ ঢাকার অঙ্গীকার; আজকের বৃক্ষ আগামীর নিঃশ্বাস।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে তাপমাত্রা বৃদ্ধি, বায়ুদূষণ ও পরিবেশগত ঝুঁকি দিন দিন বাড়ছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি প্রতিটি নাগরিককে বৃক্ষরোপণকে সামাজিক দায়িত্ব হিসেবে গ্রহণ করতে হবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সরকারি-বেসরকারি অফিস, শিল্পপ্রতিষ্ঠান, আবাসিক এলাকা এবং খালি জায়গাগুলোতে পরিকল্পিতভাবে বৃক্ষরোপণ করতে হবে। একটি গাছ বাঁচানো মানে একটি জীবন, একটি পরিবার এবং একটি সুস্থ পরিবেশকে বাঁচিয়ে রাখা।
গাছ ও মানুষের জীবনের মেলবন্ধন তুলে ধরে তিনি একটি গবেষণার তথ্য উল্লেখ করে বলেন, একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৫৫০ লিটার অক্সিজেন গ্রহণ করেন। গড় আয়ু ৭০ বছর ধরা হলে, একজন মানুষের সারা জীবনে প্রয়োজন হয় প্রায় ১৪ লাখ লিটার অক্সিজেন।
অন্যদিকে, একটি পূর্ণবয়স্ক গাছ বছরে গড়ে ৮২ হাজার৬০০ লিটার অক্সিজেন উৎপাদন করে। সেই হিসেবে একজন মানুষের জীবনভর অক্সিজেনের চাহিদা পূরণে প্রয়োজন হয় প্রায় ১৭টি পূর্ণবয়স্ক গাছ। তবে বাস্তবতা হলো, রোপণ করা সব গাছ পরিণত বয়সে পৌঁছায় না। তাই আমাদের প্রত্যেকের উচিত জীবনে অন্তত ১০০টি গাছ রোপণ করা, যাতে অন্তত ১৭টি গাছ পূর্ণবয়স্ক হয়ে মানুষ ও পরিবেশের কল্যাণে অবদান রাখতে পারে।
ফরিদা খানম আরও বলেন, বাংলাদেশে একটি আইসিইউ বেডে অক্সিজেন ও অন্যান্য চিকিৎসাসহ প্রতিদিনের ব্যয় প্রায় ১০ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা, কখনো কখনো এরও বেশি। অথচ আমরা সুস্থ অবস্থায় প্রতিদিন যে বিপুল পরিমাণ অক্সিজেন গ্রহণ করি, তার বিশাল অংশের জোগান প্রকৃতি এবং আমাদের চারপাশের গাছপালা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে দিয়ে থাকে।
অর্থ দিয়ে আইসিইউর অক্সিজেন কেনা সম্ভব, কিন্তু একটি পরিণত গাছ যে অক্সিজেন, ছায়া, শীতলতা, জীববৈচিত্র্যের আশ্রয় এবং পরিবেশগত সুরক্ষা প্রদান করে, তার প্রকৃত মূল্য কোনো অর্থেই নির্ধারণ করা যায় না। পরিবেশ সংরক্ষণে তাই সবাইকে সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
জেএইচআর