একজন সংসদ সদস্যের সাথে তাঁর নির্বাচনী এলাকার (আসন) সরকারী কর্মচারীদের সম্পর্ক কেমন হওয়া উচিত, সারাদেশের জন্য এর একটা উত্তম উদাহরণ তৈরি করেছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পীকার এ্যাডভোকেট ফজলে রাব্বি মিয়া এমপি। শুধু তাই নয়, এলাকায় নির্বাচিত হওয়া আর রাজনীতিবিদ হওয়ার মধ্যে যে পার্থক্য আছে তারও উদাহরণ এ্যাডভোকেট ফজলে রাব্বী।
এছাড়া রাজনৈতিক পরিচয়ের বাইরে তিনি একজন সজ্জন, বাগ্মী, পরোপকারী, জ্ঞানী এবং অসাম্প্রদায়িক মানুষ ছিলেন উল্লেখ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে (ফেসবুক) স্ট্যাটাস দিয়েছেন আবু রায়হান দোলন নামের চট্টগ্রামের একজন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক।
সোমবার (১লা আগস্ট) দুপুরে স্ট্যাটাসটি গাইবান্ধার এই প্রতিবেদকের নজরে আসে। সদ্য প্রয়াত জাতীয় সংসদ ডেপুটি স্পীকার ও গাইবান্ধা-৫ (সাঘাটা-ফুলছড়ি) আসনের সাংসদ বীর মুক্তিযোদ্ধা এ্যাডভোকেট মো. ফজলে রাব্বী মিয়ার (২২ জুলাই) মৃত্যুর পর ২৩ জুলাই এই স্ট্যাটাস দেন তিনি।
তার ওই পোস্টে তিনি আরো উল্লেখ করেন, জাতীয় সংসদের একজন ডেপুটি স্পীকার, ৭ বারের নির্বাচিত সাংসদ। গ্রামে এলে থাকতেন টিনশেডের একটি আধাপাকা ঘরে। (সাঘাটা-ফুলছড়ির) হাজারো মানুষের নাম মুখস্ত ছিলো তাঁর। বাসায় কেউ ঢুকলে আর তাঁর চোখে পড়লে না খেয়ে যাওয়ার কোন উপায় ছিলো না।
আবু রায়হান দোলন ফুলছড়ি উপজেলায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) হিসেবে দুই বছর দায়িত্ব পালন করে সম্প্রতি পদন্নোতি পেয়ে চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
ফুলছড়ি উপজেলায় দুই বছরের বেশী সময় ইউএনও হিসেবে কাজ করার নানা স্মৃতির কথা তুলে ধরার চেষ্টা করেন তিনি। তার কর্মকালীন সময়ের সরকারী বিভিন্ন বিষয়ের বাইরেও স্যার (ফজলে রাব্বি) ব্যক্তিগত অনেক বিষয় শেয়ার করতেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
এছাড়া স্যারের সাথে দুই উপজেলায় কত জায়গায় কত প্রোগ্রামে গিয়েছি! সহযাত্রী হয়ে চরে রাত যাপন করেছি। শত স্মৃতি স্যারের সাথে, শত স্মৃতি। পরিশেষে তাকে বিদায় জানিয়ে তিনি উল্লেখ করেন-পিতৃতুল্য এ মানুষটি এখন শুধুই স্মৃতি!
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার ২২ জুলাই বাংলাদেশ সময় দিবাগত রাত ২ টার দিকে (যুক্তরাষ্ট্রের সময় বিকেল ৪টায়) আমেরিকার মাউন্ট সিনাই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পীকার এ্যাড.ফজলে রাব্বি মিয়া এমপি। সেখানে দীর্ঘ ৯ মাস ধরে দুরারোগ্য কান্সারে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন তিনি।