ব্রিজ নির্মাণের নামে সড়ক কেটে ফেলায় ভোগান্তি চরমে

খোকসা (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি  প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২২, ০৫:১৯ পিএম

কুষ্টিয়ার খোকসায় নতুন করে সেতু নির্মাণের জন্য পুরাতন সেতু ভেঙে দু’পাশের সড়ক কেঁটে ফেলায় জনভোগান্তি চরমে। চলাচলের জন্য খালের ভেতর দিয়ে বিকল্প জরাজীর্ণ বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করা হয়েছে। তবে সেখানে নেই কোনো দুর্ঘটনা প্রতিরোধক ব্যবস্থা। সতর্কীকরণ সাইনবোর্ডও নেই। এভাবে প্রায় ১ বছর অতিবাহিত হলেও দেখা মেলেনি সেতুর নির্মাণ কাজ করা ঠিকাদার ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের। চলাচলের রাস্তা কেটে ফেলাই হাজারো মানুষের বুক ফাঁটা আর্তনাদ যেন থামছে না। জরাজীর্ণ বিকল্প সড়ক দিয়ে চলতে গিয়ে প্রতিনিয়ত যানবাহন উল্টে দুর্ঘটনা ঘটছে। আহত হচ্ছেন পথচারীরা। নষ্ট হচ্ছে যানববাহন ও পরিবহনের মালামাল। সবমিলিয়ে জনদুর্ভোগ চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। আহত মানুষ গুলোর কান্নায় আকাশ বাতাস ভারী হয়ে উঠছে।

উপজেলার রতনপুর গ্রামের সড়কের খোকসা ইউনিয়নের পূর্বপাড়া এলাকা দুর্ভোগের এ চিত্র দেখা গেছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও পথচারীদের অভিযোগ, প্রায় এক বছর আগে পুরাতন সেতু ভেঙেঁ নতুন সেতু নির্মাণের আশ্বাস দিয়ে সেতুটি ভেঙে ফেলায় এখন মরণফাঁদ গর্তে পরিণত হয়েছে।

শুক্রবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টার দিকে সরেজমিন রতনপুর সেতু এলাকায় দেখা যায়, পুরাতন সেতুটি ভেঙে ফেলায় বিশাল গর্তে পরিণত হয়েছে। সেখানে কোনো দুর্ঘটনা প্রতিরোধক ব্যবস্থা নেই। সতর্কীকরণ সাইনবোর্ডও নেই। ভাঙা সেতুর ডান পাশে খালের ভেতর সড়ক থেকে অনেক নিচু ও জরাজীর্ণ বিকল্প বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করা হয়েছে। যানববাহন থেকে যাত্রীরা নেমে হেঁটে পার হচ্ছেন। স্থানীয় ও যাত্রীরা ঠেলা দিয়ে যানবাহনগুলো মূল সড়কে তুলে দিচ্ছেন।

এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা সাইফুর রহমান (জিকু) বলেন, পুরাতন সেতু ভেঙে ঠিকাদার চলে গেছে। জনগণের কষ্টের শেষ নেই। হয় নতুন সেতু বানাক না হয় আমাদের রাস্তা ভালো করে দিক। এ বিষয়ে জানতে ঠিকাদার মাসুদ পারভেজ বলেন আমি দীর্ঘদিন অসুস্থ ছিলাম খালের পানি শুকায়ে গেলেই আমরা অতি দ্রুত কাজ শুরু করব।

খোকসা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মালেক বলেন, সেতুর নামে খোঁজ নেই। অথচ রাস্তা কেটে উধাও ঠিকাদার। জনগণের কষ্টের কোনো শেষ নেই। দ্রুত এ সমস্যা সমাধানে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

এ বিষয়ে উপজেলা পি আই ও অফিসে গেলে কর্মকর্তাকে অফিসে পাওয়া যায়নি তবে অফিস সহকারীরা জানিয়েছেন অর্থবছর ২০২১-২২ সেতুটির বরাদ্দ ৮১ লক্ষ ৬৫ হাজার টাকা।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) রিপন বিশ্বাস বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ঠিকাদার অসুস্থতার কারণে কাজটি থেমে গিয়েছে। আমি সরজমিনে কয়েকবার গিয়েছি, সামনে শুকনা মৌসুমে আমরা ব্রিজটি নির্মাণ করে দিব। আর জনগণের চলাচলের স্বার্থে আমরা একটি বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করে দিয়েছি।

কেএস