অভিযান-১০ লঞ্চ: অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের পরিবার পেল ২১ লাখ টাকা

বরগুনা প্রতিনিধি প্রকাশিত: ডিসেম্বর ২৭, ২০২২, ০৬:৪৮ পিএম

অভিযান-১০ লঞ্চ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিহত ১৪ জনের ৯ পরিবারকে ২১ লাখ টাকার চেক বিতরণ করা হয়। এতে নিহতদের পরিবারের স্বজনরা জন প্রতি দেড় লাখ টাকা করে মোট ২১ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ হিসেবে পান।

মঙ্গলবার (২৭ ডিসেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সুবর্ণ জয়ন্তী সম্মেলন কক্ষে নৌ-দুর্যোগ তহবিল ট্রাস্টি বোর্ডের সহযোগিতায় ও জেলা প্রশাসনের আয়োজনে এ চেক বিতরণ করা হয়।

ডিএনএ টেস্টে শনাক্ত হওয়া নিহত ৯ পরিবারের প্রত্যেককে দেড় লাখ টাকার চেক হাতে তুলে দেন জেলা প্রশাসক হাবিবুর রহমান।

এসময় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এডিএম) শুভ্রা দাস সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিআইডব্লিউটিএ এর বরগুনার সহকারী বন্দর কর্মকর্তা নিয়াজ মোহাম্মদ খান, ঢাকা থেকে হিসাব কর্মকর্তা আসাদুল হক ও হিসাব সহকারী আমিনুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

জেলা প্রশাসক হাবিবুর রহমান বলেন, চাকরি জীবনে এমন মর্মান্তিক দৃশ্য আমি দেখিনি। এমন মর্মান্তিক ঘটনায় সংশ্লিষ্টরা ছাড়া এর কেউ অনুভব করতে পারবে না। এরই অংশ হিসেবে এই পরিবারগুলোকে ক্ষতিপূরণ দিয়ে তাদের পাশে থাকার ক্ষুদ্র প্রয়াস মাত্র। লঞ্চ দুর্ঘটনা থেকে এড়াতে ত্রুটিপূর্ণ যান চলাচল নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন সব ধরনের ব্যবস্থা নিবে। প্রয়োজনের মোবাইল কোর্ট অব্যাহত থাকবে।

উল্লেখ্য, ঢাকা সদরঘাট থেকে ছয় শতাধিক যাত্রী নিয়ে বরগুনার উদ্দেশে ছেড়ে যায় অভিযান-১০ লঞ্চ। ২০২১ সালের ২৩ নভেম্বর দিবাগত রাত ৩ টার দিকে লঞ্চটি ঝালকাঠির সুগন্ধা ও বিষখালী নদীর মোহনায় এলে ইঞ্জিন বিস্ফোরিত হয়ে পুরো লঞ্চে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। দুই ঘণ্টার বেশি সময় ধরে নদীতে লঞ্চটি জ্বলছিল। পরে সেটি ভাসতে ভাসতে দিয়াকুলের চরে এসে আটকা পড়ে। জীবন বাঁচাতে অনেকে নদীতে ঝাঁপিয়ে পড়ে। এই অগ্নিকাণ্ডের দুর্ঘটনায় ৪৭ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে পরিচয় সনাক্ত না হওয়ায় ২৩ জনের মরদেহ বরগুনার পোটকাখালি গণকবরে দাফন করা হয়। পরবর্তীতে পরিচয় সনাক্ত হওয়ায় ৮ জনের মরদেহ তাদের পরিবার নিয়ে যায়। বাকি মৃত ১৬ জনের পরিচয় শনাক্তের জন্য ৫১ জন স্বজন ডিএনএ নমুনা দিয়েছেন। এছাড়াও জেলা প্রশাসনের তালিকা অনুযায়ী ৩০ জন নিখোঁজ রয়েছেন।

এসএম