৮ একর জমি নিয়ে আইনে জটিলতা

কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ভবন জুনে হস্তান্তর

নজরুল ইসলাম মুকুল, কুষ্টিয়া প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২৩, ০৪:১৩ পিএম

নানা প্রতিকুলতার মধ্যেও ৫’শ শষ্যা বিশিষ্ঠ কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কাজ দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। সব ঠিকঠাক থাকলে আগামী জুন মাসেই স্বাস্থ্য বিভাগের নিকট মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল হস্তান্তর করা হবে বলে জানিয়েছে গণপূর্ত বিভাগ কুষ্টিয়া।

তবে ৮ একর জমি আইনে জটিলতা থাকায় ইন্টার্ণি চিকিৎসকদের (নারী-পুরুষ), ডরমিটারি, মাল্টিপারপাস ভবন, আনছার ও ড্রাইভারদের ব্যারাক, গ্যারেজ, বিদ্যুৎ সাব- ষ্টেশন, পুকুর, সীমানা প্রাচীর, রাস্তা কেন্দ্রীয় মসজিদের কাজ ইত্যাদি  বন্ধ রয়েছে। ইতিমধ্যে ৫০০ শষ্যা বিশিষ্ঠ মেডিকেল কলেজের কাজ ৮০ ভাগ সম্পন্ন হয়েছে। বাকি কাজ জুনের আগেই শেষ হবে।

গণপূর্ত বিভাগ জানায়, ২০১২ সালে কুষ্টিয়া-রাজবাড়ী সড়কের হাউজিং এলাকায় শুরু হয় কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল স্থাপন প্রকল্পের কাজ। ২০১৬ সালে উক্ত প্রকল্পের কাজ শেষ হবার কথা খাকলেও মেয়াদ তিন দফায় বাড়ানো হয়। ২০২২ সালের মার্চে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজের একাডেমিক ভবন চালুর পর সেখানে ক্লাস ও প্রশাসনিক কার্যক্রম চলছে। তবে এখনো শেষ হয়নি হাসপাতাল ভবনের কাজ। এই প্রকল্প নির্মাণ কাজের ব্যায় ধরা হয়েছে ৬৮২ লাখ ৮৮ লক্ষ টাকা। এর মধ্যে স্থাপনা নির্মান ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৮৫ কোটি ৮৮ লক্ষ টাকা। বাকি ১৯৭ কোটি টাকা পিডি প্রকল্পে আসবাবপত্রসহ বিভিন্ন যন্ত্রপাতি।

৮ একর জমির জন্য মন্ত্রণালয়ে জানানোর পরেও তা আটকে আছে আইনের জটিলতায়। গণপূর্তের এই জমি আগেই প্লট হিসেবে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। উক্ত ৮ একর জমি অধিগ্রহন বন্ধ করতে বরাদ্দ প্রাপ্ত জমির মালিকরা  হাই কোর্টে মামলা করেছেন। যা এখনো চলমান। যে কারণেই গণপূর্ত বিভাগ আপাতত ওই জমি অধিগ্রহণ করতে পারছে না।

গণপূর্ত বিভাগ কুষ্টিয়ার নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ জাহিদুল ইসলাম জানান, নতুন করে ৮ একর জমি বরাদ্দ না পাওয়ায়  অনেক ভবনের কাজ আটকে গেছে। এর মধ্যে রয়েছে ইন্টার্ণি চিকিৎসকদের (নারী-পুরুষ), ডরমিটারি, মাল্টিপারপাস ভবন, আনছার ও ড্রাইভারদের ব্যারাক, গ্যারেজ, বিদ্যুৎ সাব- ষ্টেশন, পুকুর, সীমানা প্রাচীর, রাস্তা ইত্যাদি। হাসপাতাল ভবন চালু না হওয়ায় শিক্ষার্থীদের ৬ কিঃমিঃ দুরে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ইন্টার্নি  করতে হচ্ছে। এতে করে ভুগান্তিতে পড়েছে শিক্ষার্থীরা।

কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ দেলদার হোসেন বলেন, হাসপাতালের কাজ দ্রুত শেষ  হলে শিক্ষার্থীদের কষ্ট কমে আসবে। সেই সাথে সাধারণ মানুষও উন্নত সেবা পাবে। তবে মেডিকেল কলেজে এখনো প্রভাষক, সহকারী অধ্যাপক পদে শিক্ষক নিয়োগ করা হয়নি। এইসব জটিলতা দ্রুতই কাটিয়ে  উঠার চেষ্টা করছি।

কেএস