কয়েক সপ্তাহ ধরে চলমান তাপপ্রবাহে জনজীবন ক্রমেই দুর্বিষহ হয়ে উঠছে। ঠিক তেমনই বরিশাল শহরসহ গোটা বিভাগের ৬ জেলা অর্থাৎ দক্ষিণাঞ্চলজুড়ে দিন-রাতে সমান তালে তীব্র গরম বিরাজ করছে। এবার তা মৃদু তাপপ্রবাহে রূপ নিয়েছে, যা অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।
মৃদু তাপপ্রবাহে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ এখন গরমের চরম ভোগান্তি সহ্য করছেন। তবে আবহাওয়াবিদরা এই অঞ্চলের জন্য কোনো সুখবর জানাতে পারেননি। বরং মৃদু তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকার দুঃসংবাদই দিয়েছেন।
বরিশালে গত এপ্রিল, মে ও চলমান জুন মাসের মধ্যে বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে ৩৭ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এই তাপমাত্রায় গোটা বিভাগজুড়ে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।
এই দুর্যোগে সবচেয়ে বেশি কষ্টে রয়েছেন খেটে খাওয়া দিনমজুর শ্রেণির মানুষ। মৃদু তাপপ্রবাহের সঙ্গে দগ্ধ করা গরম বাতাস উপেক্ষা করে প্রতিদিন জীবিকার তাগিদে কাজ করতে গিয়ে তারা পড়ছেন চরম স্বাস্থ্যঝুঁকিতে।
সকাল থেকেই সূর্যের তাপমাত্রা দ্রুত বাড়তে থাকে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তা অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছে মৃদু তাপপ্রবাহে রূপ নিয়েছে। এতে সাধারণ মানুষ ঘরের ভেতর অবস্থান করলেও দিনমজুরদের থেমে থাকার সুযোগ নেই।
শহরের বিভিন্ন সড়ক, নির্মাণস্থল, বাজার ও গ্রামীণ কৃষিক্ষেত্রে দেখা যায় শ্রমিকরা মাথায় গামছা বেঁধে, কেউবা ছাতা ব্যবহার করে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। দিনমজুর ও রিকশাচালকরা বলছেন, বাইরে আগুনে পোড়া গরমে জীবন দুর্বিষহ হয়ে পড়েছে। অল্পতেই হাঁপিয়ে উঠতে হচ্ছে। যে কোনো সময় অসুস্থ হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
অন্যদিকে যেখানে সেখানে ছায়া পেলেই মানুষ বিশ্রাম নিচ্ছে, স্বস্তি পেতে ঠান্ডা শরবত বা ডাব খাচ্ছে। সব মিলিয়ে গরম জীবনযাত্রায় ব্যাপক প্রভাব ফেলছে। শিশু ও বৃদ্ধদের কাছে গরম এখন অসহনীয় অবস্থায়। ঘরের ভেতরেও গরমের কারণে সবাই ঘামছে, পানিশূন্যতা দেখা দিয়ে অনেকেই অসুস্থ বোধ করছেন।
এদিকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গরমের কারণে গত কয়েকদিনে মেডিসিন ও সিসিইউতে রোগী ভর্তি বৃদ্ধি পেয়েছে। যাদের মধ্যে শ্বাসকষ্ট, বুকে ব্যথা, খিঁচুনি-সহ নানা রোগের প্রবণতা বেশি লক্ষ্য করা গেছে।
বৃহস্পতিবার দুপুর ৩টা পর্যন্ত বরিশাল আবহাওয়া অফিসের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৭ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগের দিন বুধবার সর্বোচ্চ ৩৬ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন বরিশাল আবহাওয়া অফিসের সিনিয়র পর্যবেক্ষক মাসুদ রানা রুবেল।
এএন